মির্জাপুরে আইন লঙ্ঘনকারীদের আতঙ্ক এসিল্যান্ড মাঈনুল

জাহাঙ্গীর হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
| আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১৪:৪৮ | প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৯, ১৪:৩৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাঈনুল হক। যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি মির্জাপুরের আইন লঙ্ঘনকারীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। নিজ অফিসে আগতদের সেবাপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশ বিনষ্টকারী, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী, ভেজাল খাদ্য বিক্রেতা, জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি আতঙ্ক।

তবে স্থানীয় সুশীল সমাজের মানুষের কাছে এরই মধ্যে তিনি হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়। তার সব আইনি পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছে।

মাঈনুল হক গত ২৪ এপ্রিল মির্জাপুরের এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। এসিল্যান্ড হিসেবে প্রথম পদায়নের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের কিছুটা সময় অন্যত্র প্রশিক্ষণে ছিলেন। গত ২০ মে তিনি মির্জাপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মকাল শুরু করেন।

তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার নবীনগর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক। বিসিএস ৩৪তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাঈনুল হক মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে গত এক মাসে ৪৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। এসময় আইন লঙ্ঘনের  অপরাধে ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। এছাড়া নানা অপরাধে জড়িত থাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নয় লাখ ৩৩ হাজার ১১ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। মির্জাপুরের পাহাড়ী অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা প্রায় ৫৭টি অবৈধ কয়লার কারখানা ধ্বংস করে জব্দ করেছেন প্রায় ৫০০ বস্তা কয়লা। যার বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

ভূমি অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, মাঈনুল হক যোগদানের পর থেকে দিন-রাত, কাঠফাঁটা রোদে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে বা সরকারি বন্ধে যেখানেই আইন লঙ্ঘনের ঘটনার খবর পেয়েছেন- সেখানেই ছুটে গিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আইন লঙ্ঘনকারীদের দিচ্ছেন সাজা। আদায় করছেন জরিমানা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাটি ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যবসা করব কি! এসিল্যান্ড মাঈনুল হকের নাম শুনলেই গায়ে জ্বর উঠে যায়। ধরলেই জেল জরিমানা।’

তবে তার সব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন মির্জাপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিয়াজ উদ্দিন ও মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী। তারা বলেন, ‘এসিল্যান্ড মাঈনুল হকের মতো প্রত্যেক কর্মকর্তা যদি সরকারি স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হন, তবে কোন মতেই দুর্নীতি করা সম্ভব হবে না।’

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাঈনুল হক বলেন, ‘সরকারি স্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় তার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

(ঢাকাটাইমস/২১জুন/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :