মির্জাপুরের সেই আব্দুল্লাহর সহায়তায় হাত বাড়িয়েছেন অনেকেই

জাহাঙ্গীর হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
 | প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৫০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের সেই আব্দুল্লাহর চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছে একাধিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুহৃদ ব্যক্তি।

গত ১০ জুলাই ঢাকাটাইমসে  ‘মির্জাপুরের শিশু আব্দুল্লাহ বাঁচতে চায়’ শিরোনামে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

রবিবার দুপুরে মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে ‘আইডিয়াল মির্জাপুর টাঙ্গাইল গ্রুপ’ নামে একটি অনলাইল গ্রুপের পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহর মায়ের হাতে ১০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হয়।

এর আগে আমেরিকান প্রবাসী বনানী আক্তার নামে এক নারী ৫০ হাজার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হংকং শাখার সভাপতি ও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ লিটন ১০ হাজার টাকা, অপর এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী ১০ হাজারসহ ও অন্য দুই ব্যবসায়ী সাত হাজার টাকা আব্দুল্লাহর চিকিৎসা সহায়তায় দিয়েছেন বলে আব্দুল্লাহর মা হেলেনা বেগম জানান।

গত ১০ জুলাই ঢাকাটাইমসে শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে নিচের মানবিক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

‘টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আড়াই বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তার হার্টের তিনটি ছিদ্র নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। জন্মের ছয় মাসের মাথায় কুমুদিনী হাসপাতালে রোগ শনাক্ত হলে একমাত্র শিশুপুত্রকে বাঁচাতে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ফজিলাতুননেছা, খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করান স্বজনরা। কিন্ত ওইসব হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন ভারতে নেয়ার। তারা জানান, ভারতে চিকিৎসা করাতে প্রাথমিকভাবে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হবে। আব্দুল্লাহর বাবা ক্ষুদ্র মুদি দোকানি কাবেল সিকদার শিশুপুত্রের চিকিৎসার জন্য দোকানের মালামাল ও বাড়ির চার শতাংশ জমির দুই শতাংশ বিক্রি করেন।

জুন মাসে ভারতের চেন্নাইয়ে নারান হাসপাতালে নিয়ে ছেলের হার্টের অপারেশন করান। চিকিৎসকরা কয়েক সপ্তাহ পর আবারও আব্দুল্লাহকে ভারত নিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু শিশু আব্দুল্লাহর দরিদ্র পিতা-মাতার পক্ষে এখন আর ছেলের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

হার্টে ছিদ্র আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লাহ টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের ছাওয়ালী গ্রামের  দরিদ্র মুদি দোকানদার কাবেল সিকদার ও হেলেনা বেগমের ছেলে। 

আব্দুল্লাহর বাবা কাবেল সিকদার জানান, স্ত্রী, ১০ বছরের মেয়ে এবং শিশুপুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তার শিশুপুত্রের হার্টের চিকিৎসা করাতে গিয়ে দোকান ও বাড়ির জমি বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া আত্মীয় স্বজনের কাজ থেকে ধার-দেনা করে সর্বহারা হয়েছি।

তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, এখন হয়তো টাকার অভাবে আর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায়, শিশুপুত্র আব্দুল্লাহর উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের সকল হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তার অসহায় মা-বাবা।

চিকিৎসায় সহযোগিতা দিতে সরাসরি যোগাযোগ করুন শিশু আব্দুল্লাহর মা হেলেনা বেগমের এই মোবাইল নম্বরে- ০১৭৫৯৬৩৯৯৮১।’

(ঢাকাটাইমস/১৪জুলাই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :