দুধে আস্থা ফিরবে কি?

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:১০ | প্রকাশিত : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:০৮
ফাইল ছবি

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি পাস্তুরিত তরল দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসার মতো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যাওয়ায় ক্রেতারা শঙ্কায় পড়েছেন। অনেকেই বলছেন, বাজার থেকে তারা দুধ কেনা ছেড়ে দিয়েছেন।

ঢাকার একজন গৃহিনী তানজুম আরা তার শিশুদের জন্য প্যাকেটজাত তরল দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিচিত এক ব্যক্তির খামার থেকে বাচ্চাদের খাওয়ার জন্য দুধ সংগ্রহ করছেন তিনি।

তার মতো আরও অনেকেই বাজার থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার শঙ্কিত দুধ দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন খাবারের মান নিয়েও।

নাজিয়া পারভীন বলছিলেন, দুধে ক্ষতিকর উপাদান থাকার খবর পাওয়ার পর থেকে মিষ্টি বা পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার ব্যাপারেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না তিনি।

‘সব মিষ্টি যে খামার থেকে আনা দুধ দিয়েই বানানো হয় তার নিশ্চয়তা কী! অনেক মিষ্টিই হয়তো এরকম প্যাকেটজাত দুধ দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই মিষ্টি, দেশীয় পনিরও যে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।’

দুধে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের দুধের বিক্রি যে কিছুটা কমেছে তা বাজারে গিয়েও বোঝা যায়।

যদিও এবিষয়ে খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। পাস্তুরিত তরল দুধের বিক্রির হার স্বাভাবিক আছে বলে কেউ কেউ দাবি করলেও অনেকেই স্বীকার করেন যে দু'সপ্তাহ আগের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কমেছে।

তবে তরল দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে মানুষের আস্থা যে কমেছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

তানজুম আরা বলেন, দুধ উৎপাদনকারী এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সহজে আর আস্থা ফেরাতে পারবেন না তিনি।

‘হয়তো আদালতের হস্তক্ষেপে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পর দুধের মান ফিরে আসবে। কিন্তু আমি সহজে আর এই ব্র্যান্ডগুলোর ওপর সহজে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবো না। প্রয়োজনে হয়তো পরিবারের সদস্যদের দুধ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেব।’

‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ'

সাধারণ মানুষ বাজারের দুধের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেললে তা দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির জন্য আশঙ্কাজনক হতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিজ্ঞানী চৌধুরী তাসনিম হাসিন।

‘বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে, অপুষ্টির হার ব্যাপক। এরকম পরিস্থিতিতে দুধের মতো পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবারের ওপর যদি মানুষ আস্থা হারায়, তা ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় হয়ে দেখা দিতে পারে।’

তার মতে এধরনের খবর যেহেতু জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে, তাই এসব খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক হিট রেসিস্ট্যান্ট (তাপ প্রতিরোধী) না, অর্থাৎ তারা তাপে নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দুধ কেনার পর তা গরম করে ফুটিয়েই খায়, তাই ফুটানোর পর অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব না থাকার কথা। তাই আসলে কী কী পদক্ষেপ নিলে মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দুধ খেতে পারবে তা পরিষ্কার করা উচিত কর্তৃপক্ষের।’

এছাড়া পাস্তুরিত করার পরও কীভাবে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা সিসার মতো উপাদান পাওয়া গেল এবিষয়েও সুষ্ঠু ও সঠিক অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মিজ. হাসিন।

এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ওপর ঢালাওভাবে নির্ভর না করে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি।

‘আমাদের দেশে পানিতে স্বাভাবিকভাবেই আর্সেনিকের মাত্রা বেশি, তাই ৪০ পিপিএম পর্যন্ত এটা গ্রহণযোগ্য কারণ তা মানবদেহে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু অনেক পশ্চিমা দেশেই পানিতে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১০ পিপিএম।’

তাই যেসব উপাদানকে বিষাক্ত বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো আসলেই বিষাক্ত কি না কিম্বা কতটা বিষাক্ত তা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

পাশাপাশি, এসব গবেষণার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত আছে কি না এবং নির্ভুল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সেসব বিষয়ের কথা বিবেচনা করার কথাও বলেছেন তিনি।

তিনি মনে করেন, এসবের ভিত্তিতে বিষয়টি স্বচ্ছতার সাথে তুলে ধরা হলে ভোক্তারা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে।–বিবিসি বাংলা

(ঢাকাটাইমস/১৭জুলাই/জেবি)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :