চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তে দেরি হয়ে গেছে: ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১৫:০১

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তে দেরি হয়ে গেছে বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, এতে যে ক্ষতি হয়ে গেছে, সেটা পূরণ করা যাবে না।

ঈদের দুই দিন পর বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন বিএনপি নেতা। রাজনীতির পাশাপাশি এবারের ঈদে তুমুল আলোচিত বিষয় চামড়ার দর পতন নিয়েই বেশি কথা বলেন তিনি।

কোরবানির পশুর চামড়ার দর এবার ছিল অস্বাভাবিক কম। লাখ টাকার গরুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তিন থেকে চারশ টাকাতেও কিনেছেন। তবে এত কম টাকায় কিনেও যে তারা লাভ করতে পেরেছেন, তেমন নয়। এমনও জানা গেছে, তিনশ টাকায় যে চামড়া কেনা হয়েছে, তার দাম আড়তদাররা ৫০ বা ১০০ টাকা বলছেন।

ফখরুল মনে করেন, এটি সিন্ডিকেশনের জন্য হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ সংকটও একটি কারণ। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল, চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে লোন দেওয়া হতো, যারা চামড়া ব্যবসায়ী তাদেরকে লোন দেয়া হতো। আজ এ ধরনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় চামড়া ব্যবসায় একটা ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়েছে।’

‘পূর্ব পরিকল্পিত কোন নীতি না থাকার ফলে একটি সিন্ডিকেটের কারণে চামড়া ক্রয় করা এবং যারা পশু পালন করেছেন সেই সাথে চামড়া ব্যবসায়ীরাও প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার কারণে বহু জায়গায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে সরকার প্রথমবারের মতো কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে।

তবে ফখরুল মনে করেন, এতেও সুফল মিলবে না। তিনি বলেন, ‘এখন শেষ সময়ে বলা হচ্ছে এটাকে (চামড়া) এক্সপোর্ট (রপ্তানি) করা যাবে। সেটাও অনেক লেট সিদ্ধান্ত। কারণ, যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।’

‘আসলে এই সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। যার কারণে আজ সরকার লম্বা সময় ধরে দেশের একটা ক্ষতি করছে।’

‘এই সরকার অর্থনীতির ক্ষতি করেছে, রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে। সেই সঙ্গে সমাজ ব্যবস্থার ক্ষতি করেছে। যার কারণেই আমরা বারবার বলছি, এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। সেই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ সরকারে অধীনে নির্বাচন দেওয়া উচিত।’

বর্তমানে ব্যাংকিং অবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, ‘আজ ব্যাংকে মানুষ টাকা তুলতে গেলে সঠিক ভাবে টাকা পায় না। এই ব্যাংকগুলো চলছে একটা অনিয়মের মধ্য দিয়ে। একটা ব্যাংকে আগে ছিল, যে কোনো পরিবারের মধ্য থেকে একজন পরিচালক থাকতে পারবে। কিন্তু এখন একটা ব্যাংকে একই পরিবারের চার, পাঁচ জন করে সদস্য থাকছে। এই ব্যাংকিং সিস্টেমের যে অনিয়ম তার  প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতিতে। এই আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারাই আজ ডিফল্টার (খেলাপি), তারাই সব থেকে বেশি টাকা নিয়েছে ব্যাংকগুলো থেকে।’

ঢাকাটাইমস/১৪আগস্ট/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :