ধন্যবাদ ‘৯৯৯’

মেজর রেজা উল করিম, ইবি (অব:)
| আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩১ | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

আমরা সাধারণত নেগেটিভ বিষয় নিয়ে চিন্তা বা সমালোচনায় অধিক আগ্রহী- হয়ত এর পেছনে অনেক কারনই আছে- মানুষ সবদিকে যখন অনিয়ম বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা বারবার ঘটতে দেখে তখন মানুষ স্বভাবতই পজিটিভ কিছু ভাবতে পারে না!

তবে সম্প্রতি একটি ঘটনা আমার আবেগকে অনেক বেশি নাড়া দিয়েছে আবার আমি অনেকটা মুগ্ধও হয়েছি - বিশেষ করে মুগ্ধ হয়েছি, যখন এক অসহায় গর্ভবতী বোনকে ( ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত) তার চরম বিপদের সময় ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাকে সহযোগীতা করার রাস্তাটি সুগম করতে পেরেছিলাম।

যাই হোক, কোন এক বোন যিনি প্রায় সময়ই তার জন্য একটি জব চেয়ে আমার ফেসবুক ম্যাজেঞ্জারে নক করত। তবে সবসময় আমার উত্তর দেয়া হত না। কিন্তু হঠাৎ সেদিন ঠিক ঈদের দুই দিন আগে, সময় তখন রাত ১২ বা ১ টা, ঐ মেয়েটি আমাকে নিন্মোক্ত ম্যাসেজ পাঠালো যা হুবহু দেয়া হলো- “Sir assalamualikum, Onek boro bipoder vitore pore gesi ajonno apnake soron korte baddho hossi.”

তার ম্যাসেজটি দেখা মাত্র ভাবলাম নিশ্চয়ই কোন জেনুইন বিপদ হয়েছে আর এটা ভেবে তাকে কল করলাম যদিও তখন অনেক রাত। কল করা মাত্র তার কান্নাভরা কন্ঠে শুনতে পেলাম- ‘স্যার আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, আমি এখন গর্ভবতী, আমি একা বাসায় থাকি, ঢাকা শহরে আমার কেউ নেই, এখন আমি কি করব ? আমাকে সাহায্য করেন। এটা বলেই আবার কান্না।’

আমি জিজ্ঞাসা করলাম - পুলিশ কেন ধরে নিয়ে গেছে ?

সে উত্তর দিল-‘আমার স্বামী যদিও শিক্ষিত কিন্তু ভালো কোন জব না পাওয়ায় বসুন্ধরা রেসিডেন্সিয়াল গেটের সামনে ফুটপাতে জিন্সের কাপড়ের ব্যবসা করে।এবং এতেই আমাদের সংসার চলে।’

কথাগুলো শোনার পরে বুকটা কেপে উঠল কারন আমারও তিনটা বোন আছে। এবং মেয়েটির কথায় বুঝতে পারলাম তিনি উচ্চ শিক্ষিতা নারী। বিস্তারিত আরও অনেক কথাই শুনলাম এবং ভাবতে থাকলাম এত গভীর রাতে কাউকে তো ফোন করে পাবো না , সুতরাং কি করতে পারি ?

জানি কাউকে ফোন করে পাবো না তাও উক্ত থানার ওসি থেকে শুরু করে, পলিশের সার্কেল অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, এমনকি ডিসি গুলশান মোশতাক আহমেদ ভাইয়ের ব্যক্তিগত নাম্বারে কল করলাম কারন মোস্তাক ভাই অত্যন্ত ভালো একজন অফিসার শত ব্যস্ত থাকলেও ফোন কল রিসিভ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি কল রিসিভ করেন নাই, ভাবলাম তিনি হয়ত ঘুমাচ্ছেন তাই আর দ্বিতীয়বার চেষ্টা করি নাই।

আরও অনেকভাবেই চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হঠাৎ মাথায় আসলে ৯৯৯’র কথা। যেই ভাবনা সেই কাজ এবং কলা করা মাত্রই কেউ একজন কলটা রিসিভ করল এবং অপর প্রান্ত থেকে সুন্দর করে বলল -“আসসালামু আলাইকুম, ৯৯৯ থেকে বলছি, আপনাকে কিভাবে সহযোগীতা করতে পারি ?”

আমি আমার পরিচয় দিয়ে বললাম-“ভাই, আমি প্রথমবারের জন্য ৯৯৯-এ কল দিয়েছি কারন বিষয়টা মানবিকভাবে অনেক জরুরী । তাকে সম্পূর্ন ঘটনা বলার পরে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন- “স্যার, একটু অপেক্ষা করেন আমি ওসি কে কল মেলাচ্ছি”। এটা বলে তিনি উক্ত থানার কাউকে কল করে ফোনটি ওসি সাহেবের কাছে নিয়ে যেতে বললেন এবং ওসিকে পেয়ে আমি সম্পূর্ন ঘটনা বললাম এবং সাথে আমি এই কথাও বললাম “আমি মনে করি, ফুটপাতে বিক্রি করার কারনে হয়ত আইন ভঙ্গ হতে পারে তাই বলে লঘু পাপে যেন গুরূ দন্ড না হয়, তার স্ত্রী যেহেতু গর্ভবতী (৬ মাসের অধিক), আল্লাহ না করুক, একা ঘরে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তখন নিজের বিবেক কি জবাব দিবেন ?”

তখন ওসি সাহেব খুব সুন্দরভাবেই বললেন-“ স্যার আমি বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছি এবং আপনাকে কথা দিচ্ছি আইনের মধ্য থেকে যথাসাধ্য চেস্টা করব যাতে আটককৃত ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে যেতে পারে ।”

তার সাথে আরও কিছু কথা বলার পরে ও শোনার পরে আমি অনেকটাই আশ্বস্ত হয়ে ঐ বোনটি কে কল দিলাম এবং বললাম, “আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান, He will come back soon”

এবং আলহামদুলিল্লাহ্ পরের দিনই তার স্বামী ফিরে আসার খবর পেয়ে অনেক ভালো লাগলো - সে এক অন্য রকম অনুভূতি । আমরা সত্যি, এমন ৯৯৯ ই চাই।আমরা সত্যি এমন মানবিক গুণাবলী সম্মৃদ্ধ ওসি চাই।My Salute to both the Police Officer।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফেসবুক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :