ধর্ষণের অভিযোগে গৃহশিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৩৪

পঞ্চগড়ে পৃথক দুই ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জগদীশ চন্দ্র নামে গৃহশিক্ষককে এবং সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আশরাফ আলী নামে এক রাজমিস্ত্রি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদের মধ্যে গৃহশিক্ষক জগদীশকে মঙ্গলবার এবং রাজমিস্ত্রি আশরাফকে বুধবার সকালে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার শিশু ও কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানা গেছে, জেলা শহরের একটি মহল্লার ওই মুসলিম ছাত্রীকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জগদীশ চন্দ্র গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াত। সে পাশের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ি এলাকার সুরেন চন্দ্রের ছেলে এবং পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। লেখাপড়ার জন্য সে পঞ্চগড় জেলা শহরে বসবাস করত। গৃহশিক্ষক জগদীশ মুসলিম হয়ে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে সপ্তম শ্রেণি থেকে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ধর্ষিত ছাত্রীর বাবা আরেক বউ নিয়ে অন্য এলাকায় বাস করেন। গৃহপরিচারিকা, মা এবং বড় ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন বাড়ির বাইরে কাজ করতে যান। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফুসলিয়ে দৈহিক সম্পর্ক চালিয়ে যায় জগদীশ। সম্প্রতি কিশোরী তাকে বিয়ের কথা বললে টালবাহানা শুরু করে জগদীশ। গত ৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরী তার সাথে দৈহিক সম্পর্কে আপত্তি জানালেও তাকে ধর্ষণ করে জগদীশ।

পরে বিষয়টি কিশোরী তার পরিবারকে জানায় এবং ৯ সেপ্টেম্বর রাতে জগদীশ আবারও তাকে ধর্ষণ করতে গেলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ছাত্রীর বড়ভাই মামলা করেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের পশ্চিম মোলানি এলাকার আশরাফ আলী নামে রাজমিস্ত্রিকে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আশরাফ শিশুটির সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা। প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটি আশরাফের বাড়িতে খেলতে যেত। তার বাড়িতেও কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আশরাফ।

পুলিশ ও মামলা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে আশরাফ ওই শিশুকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে বিভিন্নভাবে ধর্ষণ করে। দুপুরে শিশুটির মরদ্বারে রক্ত দেখে প্রাথমিকভাবে রক্ত আমাশয় ধারণা করেন শিশুটির পরিবার। কিন্তু বিকালে তাকে ফুসলিয়ে বাসায় নিয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করে আশরাফ। এ সময় তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং আশরাফ আলীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে পৃথক মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শিশু ও কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য ও নারীনেত্রী আক্তারুন নাহার সাকী বলেন, ধর্ষণের খবর পেয়ে আমি পৃথক দুটি ঘটনায় নির্যাতিতদের সাথে কথা বলেছি। ঘটনা শুনে মনে হলো আমাদের সামাজিক অবক্ষয় চরম পর্যায়ে নেমেছে। এদের কঠিন সাজা হওয়া দরকার। পাশাপাশি আমাদের সামাজিক আন্দোলন শুরু করা প্রয়োজন।

(ঢাকাটাইমস/১১সেপ্টেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত