বিমান ছিল ‘মুড়ির টিন’, এখন গর্বের: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৬ | প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:০৪

বিমান বাংলাদেশের উড়োজাহাজগুলো আগে নড়বড়ে ছিল, সেগুলোকে ঠাট্টা করে অনেকে ‘মুড়ির টিন’ বলত। কিন্তু এখন বিমানের মান এতটাই উন্নত হয়েছে যা গর্ব করার মতো। এটা তার সরকারের অব্যাহত সাফল্যের কারণেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার বিকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বিমানের বহরে চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির আমলে আমি খুব অবাক হতাম ওই রকম একটা ঝরঝরে অবস্থায় প্লেন কীভাবে আমাদের পাইলটরা চালায়। আমি বলতাম আমাদের পাইলটদের বিশ্বসেরা পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঝে মধ্যে আমরা ঠাট্টা করতাম। আমাদের ঢাকা শহরে যে বাসগুলো চলত, যে বাসগুলো খুবই বিধ্বস্ত অবস্থায়… আমরা ডাকতাম মুড়ির টিন বলে। আমাদের বিমানের অবস্থা সেই রকম ছিল।’

‘সত্যি কথা বললে কী, এখন বিমানে চড়লে গর্বে বুক ভরে যায়। যেন আমরা আমাদের বিমানে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমি নোটিশ জারি করেছি, সরকারি অফিসাররা যে যখন যেখানে যাবেন, যেখানে বিমান যায় বিমানেই যেতে হবে। আমরাও সেভাবে চলতে চেষ্টা করি।’

সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত কষ্ট করে, এত অর্থ দিয়ে বিমান কিনে দিয়েছি। অতএব এর রক্ষণাবেক্ষণ, সেটা যেমন আপনাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দেখতে হবে, সেই সঙ্গে যাত্রীসেবা, যাত্রী সেবার মান, যাত্রীদের আস্থা বিশ্বাস- সততার সঙ্গে নিষ্ঠার সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।’

কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘নতুন স্টেশনগুলো নতুনভাবে খোলার চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ আমরা লন্ডনে আরও দুটো স্লট নিতে পারব। পাশাপাশি বোয়িং তো আমেরিকার প্লেন। আমেরিকার অ্যাম্বাসেডর এখানে আছেন। বোয়িং যদি আমেরিকা না যায় তাহলে সেটা তো তাদেরই মান সম্মানের ব্যাপার। আমি আশা করি আমরা সেখানেও ভবিষ্যতে যেতে পারব।’

আরও দুটি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য আরও দুটি বোয়িং বিমান কেনার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যে বিমানগুলো রয়েছে সেগুলো ছাড়াও বিমানের বহরে আরও তিনটি ড্যাশ বোম্বাডিয়ার বিমান যোগ হবে। আমরা আরও একটি খবর পেয়েছি যে, বোয়িং শিগগির তাদের আরও দুটি বিমান বিক্রয় করবে, তা কেউ অর্ডার দিয়ে নেয়নি। সুযোগটা আমরা নেব।’

দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ভালো রয়েছে। কাজেই নিজস্ব অর্থে আরও দুটি বিমান কিনলে সমস্যা হবে না বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় আমরা রিজার্ভ হিসাব করি এই কারণেই কেননা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক দেখা দিলে আমাদের যদি খাদ্য কিনতে হয় তাহলে যেন তিন মাসের খাদ্য আমরা কিনতে পারি, সে পরিমাণ অর্থ জমা থাকতে হবে। এর অতিরিক্ত অর্থ রেখে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। সেটা আমরা উন্নয়নের কাজে লাগাতে পারি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যেই খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কাজেই খুব যে আমরা বিপদে পড়বো তা নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য যে পরিমান মজুদের দরকার তা আমরা মজুদ রাখছি।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক, বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মুহাম্মাদ এনামুল বারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মোকাব্বির হোসেইন স্বাগত বক্তৃতা করেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী টারমার্কে ফিতা কেটে বিমানবহরের চতুর্থ ড্রিমলাইনার বিমান রাজহংস’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিমানে উঠে বিমানটি ঘুরে দেখেন এবং পাইলট এবং ক্রুদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/১৭সেপ্টেম্বর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :