রবিবার ‘বড় অভিযানে’ নামছে ডিএনসিসি

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫২ | প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৫১
ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত ও বিভিন্ন স্থানের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কম চেষ্টা করছে না ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু তার কোনো টেকসই ফল মিলছে না। বরং উচ্ছেদ আর দখলের ইঁদুর-বিড়াল খেলা হচ্ছে। একদিকে উচ্ছেদ হলো তো অপরদিকে পুনর্দখল। মাঝখানে কেবল কয়েকটি দিন কিংবা কয়েক ঘণ্টা। এভাবেই চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সময়ে সময়ে উচ্ছেদ অভিযান হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

এ অবস্থায় এবার ‘বড় আকারে উচ্ছেদে’র ঘোষণা দিয়ে রবিবার অভিযানে নামছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একে বলা হচ্ছে অঞ্চলভিত্তিক উচ্ছেদ অভিযান। এই অভিযানে ডিএনসিসির যেসব সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলে রয়েছে, তা উদ্ধার করবে নগর কর্তৃপক্ষের। এরই মধ্যে করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলে ১০২টি সড়ক চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বেদখলে রয়েছে।

ডিএনসিসির অঞ্চল-১ থেকে আগামীকাল এই অভিযান শুরু হচ্ছে। এখানকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর অঞ্চল-২ এ অভিযান পরিচালিত হবে। এভাবে সব কটি অঞ্চলে চলবে উচ্ছেদ।

অন্য সময়ের অভিযানের চেয়ে এবারের অভিযানের বিশেষত্ব কী? নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধার ফুটপাত ও জায়গা যাতে পুনর্দখর না হয় সে ব্যাপারে নতুন করে নজরদারি করবে তারা।

এর ব্যাখ্যা দিয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন বলেন, ‘এবার প্রথম দিন যে জায়গায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে, দ্বিতীয় দিন সেখানে ভিন্ন একটি দল নজরদারি করবে। আর উচ্ছেদকারী দল অভিযান চালাবে পূর্বনির্ধারিত তালিকা ধরে অন্য জায়গায়। এভাবে উচ্ছেদ ও নজরদারি পাশাপাশি চলতে থাকবে।’ তাতে পুনর্দখলের সুযোগ থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে একই জায়গায় দুবার উচ্ছেদের পরও দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে বেদখলের উদাহরণ শেরেবাংলা নগর এলাকার আগারগাঁও শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতের ফুটপাতে অভিযান। গত ২৬ জুন সেখানে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ডিএনসিসি। অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাহিদ আহসানের নেতৃত্বে চালানো সেই উচ্ছেদের মাত্র তিন ঘণ্টা পর ফুটপাতগুলো তার আগের রূপে ফিরে যায়। একই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গত ২৩ জুলাই সেখানে আবার উচ্ছেদ করা হয়। বর্তমানে শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতের ফুটপাতে চলছে রমরমা বাণিজ্য। পথচারীদের চলতে হচ্ছে মূল সড়ক দিয়ে।

একই চিত্র মোহাম্মদপুরের বছিলা নতুন রাস্তায়। গত ১৯ জুন আল্লাহ করিম মসজিদের পশ্চিম দিকে গরিবুল্লাহ মার্কেটের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ডিএনসিসি। রাস্তার পাশের অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় নগর কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ করা হয় বছিলা নতুন রাস্তায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। বেলা ১২টায় অভিযান চালিয়ে নগর কর্তৃপক্ষ চলে যায়। সেদিন বিকালেই আবার দখল হয় ওই সড়কটি। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কটি।

চলতি বছর এমন বেশ কিছু অভিযানের ফলাফল প্রায় একই রকম। বছরের শুরু থেকে উচ্ছেদের নানা কর্মযজ্ঞ দেখা গেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। উচ্ছেদ-পুনর্দখলের এই পরম্পরা ঘটে আসছে কয়েক বছর ধরে।

২০১৮ সালেও আগারগাঁও এলাকার রাস্তার মাঝখানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়। কিন্তু ওই এলাকার একদিকে মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের তিন নম্বর গেটের সামনে ও পিডব্লিউভি স্টাফ কোয়ার্টারের বিপরীতে উচ্ছেদের জায়গা আবারও দখল হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সর্বশেষ উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা হয়েছিল এর সবকিছুই। ঘটনার এক মাস না ঘুরতেই আবারও দখলদারদের কবজায় চলে যায় জায়গাটি। বসানো হয়েছে মোটর গ্যারেজ, কোথাও কোথাও রাস্তার প্রায় ২০-৩০ ফুট জায়গাজুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে অকেজো গাড়ি। কেউ লোকাল বাসের পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার করছে জায়গাটি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, ছয় মাস, এক বছর পর পর ভাঙে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা কখনো প্রশাসনের সহযোগিতায় দখল করে নেয় খালি এসব জায়গা। বেশির ভাগ সময়ই উচ্ছেদের পর এক মাস পরই আবার দখল হয়ে যায় এসব জায়গা।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি রাজউক আবাসিক ভবনে গাড়ি পার্কিং না থাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে মিরপুরের কাজীপাড়ার ১৯ ভবন মালিককে। কিন্তু পরিবর্তন আসেনি কোনো। ভবনগুলো আগের মতোই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধভাবে।

রাজউকের সেই অভিযানে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছিল রোকেয়া সরণির ‘উড আর্ট ফার্নিচার’ শোরুমের ভবন মালিক কে এম শাজাহানকে। ঘটনার পর ভবনটির নিচতলার অর্ধেক অংশে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। উড আর্ট ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পার্কিং করার জায়গা এখনো তৈরি করা হয়নি।

কাজীপাড়া লাইফ এইড হাসপাতাল, ফার্নিচারের দোকানসহ যেসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছিল, তার একটিও পার্কিং সুবিধার আওতায় আসেনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কারও পার্কিং নাই, গাড়ি রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, তাই জরিমানা করেছিল। কিন্তু পরে কেউ তো পার্কিং বানায় নাই। সব আগের মতোই আছে।’ অভিযানের পর নিয়মিত কঠোর নজরদারি থাকলে এমনটা হতো না বলে মনে করেন তিনি।

 (ঢাকাটাইমস/২১সেপ্টেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :