এরশাদের আসনে নিরুত্তাপ ভোটের আবহ

রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর
 | প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১৫
রংপুর-৩ সদর আসনের উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগীর আল মাহী সাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে আগামীকাল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে কমিশন।

কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী উপকরণ প্রেরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে এবং এলাকায় মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের ধারণাও দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।

এদিকে, এই ভোট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই সাধারণ ভোটারদের। নেই উৎসবের আমেজ। এই ভোট অনেকটা মিডিয়া আর প্রার্থীদের মধ্যে বেশি শোরগোল বলে ভোটররা দাবি করেছেন।

রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে গত সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ১৭৫টি কেন্দ্রে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর জন্য ১৭৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ১০২৩ এবং ২০৪৬ জন পোলিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ (অধিক গুরুত্বপূর্ণ) ৪৯টি কেন্দ্রসহ মোট ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ১০২৩টি গোপন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।

এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ২০ হাজার ৮২৩ এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২০ হাজার ৪০১ জন।

আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

রংপুর-৩ শূন্য আসনে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সব প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

বাকি পাঁচ প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ (প্রতীক-লাঙ্গল), বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান (প্রতীক-ধানের শীষ), এনপিপির শফিউল আলম (প্রতীক-আম), খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান ম-ল (প্রতীক দেওয়াল ঘড়ি) এবং গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ বায়েজীদ (প্রতীক-মাছ) নির্বাচন করছেন। এ ছয় প্রার্থীর মধ্যে ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন এরশাদ পরিবারের দুই প্রার্থী সাদ এরশাদ ও শাহরিয়ার আসিফ এবং বিএনপির রিটা রহমান।

সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  ভোটাররা প্রার্থীদের চেনেন না। এমনকি অন্য নির্বাচনের সময় যেমন পোস্টার-ফেস্টুন সাঁটানো থাকতো, প্রতিদিনই পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতো। কে কাকে ভোট দিবে, কোন প্রার্থী কেমন তা নিয়ে আলোচনা সরব ছিল। এই উপ-নির্বাচনে সেগুলোর কিছুই নেই। শুধুমাত্র নগরীর কিছু জায়গায় অল্প সংখ্যক পোস্টার ফেস্টু রয়েছে। তবে প্রতিটি মিডিয়া নির্বাচনী সংবাদ পরিবেশন নিয়ে তৎপর। তাই ভোটাররা বলছেন, প্রার্থী আর মিডিয়াতেই ভোট। সাধারণ অনেক ভোটারের কাছে ভোটেই চাওয়া হয়নি।

নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল বাকি জানান, গত সিটি নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন প্রার্থীদেও কর্মী সমর্থকরা প্রতিদিনই বাড়িতে আসতো ভোট চাইতো। পাড়ায় ভোট নিয়ে নানা আলোচনা। দোকানে বাজাওে আলোচনা। এবার কিছুই দেখছি না। এমনকি ঠিক মতো পোস্টার ফেস্টুন লাগানো হয়নি। শুধু মাত্র মহর কেন্দ্রিক ভোটর গন্ধ পাওয়া যায়।

রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :