ছোট দলে বড় দ্বন্দ্ব-১

নড়বড়ে অলির এলডিপি

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৩৩
এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (ফাইল ছবি)

বড় দল বিএনপি ছেড়ে এসে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কর্নেল অলি আহমদ। তার সঙ্গে ছিলেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে অল্পদিনেই দল ছেড়ে বেরিয়ে যান বি চৌধুরী। এরপর এলডিপি পরিচিতি পায় কর্নেল অলির দল হিসেবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকে শুরু হয় একে একে নেতাদের চলে যাওয়া। সবশেষ দল ছেড়েছেন শীর্ষ পর্যায়ের তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। আর দল পুনর্গঠন ইস্যুতে বিবাদের জেরে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এলডিপির দায়িত্বশীল দুজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করা এলডিপি এমন নড়বড়ে পরিস্থিতিতে আর পড়েনি। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দলের আরও অনেকেই অলি আহমদকে ছেড়ে যেতে পারেন বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

গত জুনে এলডিপি ছেড়েছেন আব্দুল করিম আব্বাসী, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ ও সাবেক আব্দুল গণি। সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া ও রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগে তার পদত্যাগ করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এলডিপি ছেড়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান।

দলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে অনীহা অলি আহমদের। যদিও দলের মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদের দাবি এমন সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ঢাকা টাইমসকে এলডিপি মহাসচিব বলেন, ‘দলে যারা নিষ্ক্রিয় তাদের পদ পদবি দেয়ার ক্ষেত্রে এবার একধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী দল পুনর্গঠনে কেউ কেউ বাদ পড়েছেন। তবে এতে দলে ভাঙনের কিছু নেই।’

২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারার সঙ্গে বিএনপির তৎকালিক স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি আহমদ ও বিএনপির একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যকে নিয়ে এলডিপি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ২০০৭ সালে আদর্শগত কারণে বিকল্প ধারা এলডিপি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে অলি আহমদের নেতৃত্বে চলছে দলটি।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক এই দলটি নির্বাচনের সময় বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করে এবং বিএনপির কড়া সমালোচনা করে আলোচনায় থেকেছে। অবশ্য বিএনপি নেতারাও মাঝে মাঝে অলি আহমদের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। সব শেষ জাতীয় নির্বাচনেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে শরিকদলগুলোর মধ্যে জামায়াতের পর এলডিপির সঙ্গে বেশি ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়েছে বিএনপিকে।

এর মধ্যে জাতীয় মঞ্চ করে আলোচনায় আসেন অলি আহমদ। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা জামায়াত নেতাদের সামনের সারিতে অবস্থান করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বিষয়টি বিএনপির পাশাপাশি এলডিপির অনেকে ভালোভাবে নেননি।

দলটির নেতাদের অভিযোগ, নিজে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পাশে বসিয়ে যেভাবে জামায়াতের পক্ষে কথা বলছেন তা এলডিপির আদর্শের পরিপন্থি। আর খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি ও জোটের কর্ম পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নতুন মঞ্চ করা শোভনীয় হয়নি। তবে এ নিয়ে কেউ দলটির শীর্ষ নেতাদের প্রশ্ন করার সাহস করেননি।

জানা গেছে, এরই মধ্যে হঠাৎ করে দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন অলি আহমদ। সেখানে শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ বেশ কয়েকজনের বিষয়ে আপত্তি তোলেন অলি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা দলে নিষ্ক্রিয়। নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত।

গত শনিবার এলডিপি থেকে পাঠানো বিজ্ঞপিতে দল পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে এলডিপির মহাসচিব হন রেদোয়ান আহমেদ। আর ১৭ জন সভাপতিমণ্ডলী, ২১ জন সহসভাপতি, ২১ জন উপদেষ্টামণ্ডলী, সাতজন যুগ্ম মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষ, সম্পাদকীয়, সহ-সম্পাদকীয়সহ ১২৬ সদস্যের নির্বাহী সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। যাতে সেলিমসহ আরও বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়নি।

যদিও সেলিমের দাবি, ‘দলের নীতি বহির্ভূত একক সিদ্ধান্ত নেয়া, আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা বেশি হওয়ায় অলি আহমদের সঙ্গে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাই কিছুদিন আগেই নিজে থেকে এলডিপি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আর সেখানে ফেরার সম্ভাবনা নেই।’

যদিও এ নিয়ে পাল্টা বক্তব্য আছে এলডিপি মহাসচিবের। তিনি বলেন, ‘যাদের রাখা হয়নি তাদের তো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, বাদও দেয়া হয়নি। পদে রাখা হয়নি ঠিক, কিন্তু তারা এলপিডির সঙ্গে আছেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এলডিপি বলতে অলি, রেদওয়ান ও সেলিম এই তিনজনকেই সবাই চিনেন। সেখানে সেলিমকে পদে না রাখা নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেও নানা কানাঘুষা শুরু হওয়ায় তাকে আরও বড় পদে দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে।

ঢাকা টাইমসকে সেলিম বলেন, ‘এলডিপিতে আর ফেরার সুযোগ নেই। বলতে পারেন ১৩ বছরের সম্পর্ক শেষ। দলটির নামকরণ থেকে শুরু করে সব প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। নেতাকর্মীরা অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আলাপ-আলোচনা করে সামনে কি করণীয় হবে সেটা সবাইকে জানাব।’

তবে এলডিপির নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি বিএনপিতে ফিরতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। অলি আহমদকে ছেড়ে গেছেন এমন নেতারাও এই প্রক্রিয়ায় থাকতে পারেন।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে অলি আহমদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দল নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘টেলিফোনে আপনিও আমাকে দেখেন না, আমিও আপনাকে দেখি না। কিভাবে কথা বলব? আপনি বাসায় আসেন কথা বলব।’

দল পুনর্গঠন নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো জরুরি বিষয় না। আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।’

ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :