আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৬ | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৫০

‘লোন উলফ অ্যাটাক’ বা আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় একত্রিত হয়েছিল চার জঙ্গি। কারণ তারা দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে বিশ্বাস করে না। এজন্য তারা কথিত ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন উগ্রবাদী বই-লিফলেট, উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন- শফিকুল ইসলাম সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির, ইলিয়াস হাওলাদার খাত্তাব, ইকরামুল ইসলাম আমীর হামজা, আমীর হোসাইন তাওহীদি জনতার আর্তনাদ, শিপন মীর আব্দুর রব ও ওয়ালিউল্লাহ ওরফে আব্দুর রহমান।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে গ্রেপ্তার জঙ্গিদের নিয়ে কথা বলেন র‌্যাব-৪-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা দেশে কথিত ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বাতিল চায়। তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে আক্রমণের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এসব আক্রমণে আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে তারা চাপাতি ব্যবহার করে। সংগঠনের ভাষায় আকস্মিক আক্রমণকে ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ বলে থাকে। জঙ্গি সংগঠনটি কোনো নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, গোপনীয় তথ্য সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ করে থাকে। সম্প্রতি  ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ পরিকল্পনার জন্য জঙ্গিরা উত্তরায় মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল।’

যেভাবে জঙ্গিবাদে

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, শফিকুল ইসলাম সাগর ওরফে সালমান মুক্তাদির ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। ইলিয়াস হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে অ্যাপসের মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথমে জানতে পারে। পরে তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে যোগ দেয়। প্রায় দুই বছর যাবত এ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার ইলিয়াস হাওলাদারের সাংগঠনিক নাম খাত্তাব। তিনি পরিবহনের চালক। অনলাইনে খাত্তাব ছদ্মনাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। ছাত্রজীবনে হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তিনি তার সক্রিয়তা কমিয়ে দেন, কিন্তু সবসময় সশস্ত্র উগ্রবাদে অংশগ্রহণে আগ্রহী ছিলেন।

ইকরামুল ইসলামের সাংগঠনিক নাম মুত্তাকিন ওরফে আমীর হামজা ওরফে সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন সংলগ্ন চকবারা এলাকায়।  প্রায় তিন বছর ধরে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। একটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ারে জেনারেটর পরিচালনা কাজে চাকরি করেন। আমীর হোসাইনের নামে এক জঙ্গি তাকে সংগঠনে ভেড়ায়। অনলাইনে তার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গির পরিচয় হয়। আমীর হামজা জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা করে আসছিলেন।

আরেক জঙ্গি আমীর হোসাইনের সাংগঠনিক নাম সুলতান মাহমুদ ওরফে রাজা। তার বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর। স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হাফেজি শেষ করে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। পরে অনলাইনে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। আনসার আল-ইসলামের বিভিন্ন ভিডিও, বইপত্র, মোবাইল অ্যাপস সংগ্রহ করত এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় বহনের জন্য প্রতিমাসে চাঁদা দিয়ে আসছিল। তিনি ছয়টি উগ্রবাদী ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন।

গ্রেপ্তার জঙ্গি শিপন মীরের সাংগঠনিক নাম আব্দুর রউফ। তিনি চালক হিসেবে কর্মরত। অ্যাপসের মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে দলে যোগ দেন।

ওয়ালি উল্লাহর সাংগঠনিক নাম আব্দুর রহমান। সুত্রাপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিস পাস করে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০১৬ সালে সুত্রাপুরে মাদ্রাসায় থাকাকালে আব্দুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তাদের হয়ে কাজ শুরু করেন। চার বছর তিনি সংগঠনের ঢাকা দক্ষিণ বিভাগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে আছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :