সাক্ষাৎকারে শাহাদাত হোসেন সেলিম

আমি যদি সক্রিয় না হই সক্রিয় কে?

বোরহান উদ্দিন
| আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫১ | প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৩৯

হঠাৎ অস্থিরতা চলছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি)। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে দল ছেড়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। এই মিছিলে সবশেষ যোগ দিলেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলডিপির সঙ্গে থাকা সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। কিন্তু এলডিপির সাম্প্রতিক ঘোষিত কমিটিতে সেলিমকে রাখা হয়নি তিনি দলে সক্রিয় নন এমন কারণ দেখিয়ে। সেলিম বলছেন, তিনি যদি সক্রিয় না হন তবে সক্রিয় কে!

ইতিমধ্যে এলডিপি ছেড়ে আসা নেতারা নতুন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। কাল সোমবার এই বিষয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেবেন। এরই প্রাক্কালে আজ ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন শাহাদাত হোসেন সেলিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার বোরহান উদ্দিন

ঢাকাটাইমস: এলডিপিতে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। এ কারণটা জানতে চাইছি আপনার কাছে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রবীণ রাজনীতিক হলেও তার মধ্যে অস্থিরতার মাত্রা প্রকট। একই সঙ্গে আছে অতিরিক্ত রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা। নির্বাচনের পর এলডিপিকে বিলুপ্ত করে বিএনপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা ছিল। কিন্তু সেটা থমকে গেছে তার কারণে। তার ইচ্ছা ছিল যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া জেলে এবং তারেক রহমান বিদেশে আছেন, সেহেতু নেতৃত্ব তার হাতে থাকতে হবে। এটা কেউ ভালোভাবে  নেয়নি। তার এ ধরনের ইচ্ছার কারণে বিএনপিও তাকে প্রচ-ভাবে সন্দেহ করছে।

ঢাকা টাইমস: অলি আহমদের নতুন উদ্যোগ জাতীয় মুক্তি মঞ্চের শুরু থেকে ছিলেন আপনি। এখন আপত্তির জায়গাটা কী?

শাহাদাত হোসেন সেলিম: যেদিন মুক্তি মঞ্চের ঘোষণা হয় সেদিন আমি উপস্থাপনা করেছি। এর আগেও এ নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু পরে দেখলাম এর এজেন্ডা হলো বিরাজনীতিকরণ। বিএনপির নেতাদের চরিত্রহনন। বিএনপির নেতাদের ব্যর্থ প্রমাণিত করা। বিএনপির নেতাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহ সৃষ্টি করে তাদের দুর্বল করাই জাতীয় মুক্তি মঞ্চের লক্ষ্য। দেখলাম এর মধ্যে জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে ধ্বংস করা ছাড়া কোনো সঠিক রাজনীতি নেই। তখন ধীরে ধীরে এ দল ছেড়ে এসেছি। এভাবেই দলীয় প্রধানের সঙ্গে আমার মনোমালিন্যের সৃষ্টি।

ঢাকা টাইমস: আপনি দলে সক্রিয় নন- এমন অভিযোগে আপনাকে পুনর্গঠিত কমিটিতে  রাখা হয়নি বলে শোনা যাচ্ছে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: আমি এলডিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। দলের নামকরণ থেকে শুরু করে গঠনতন্ত্র-ঘোষণাপত্র তৈরি করার সঙ্গে ছিলাম। নীতিনির্ধারকদের একজন হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর দল করেছি। অর্থ ও শ্রম দিয়েছি। জোটের শরিক এই দল থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেছি। কিন্তু ২০ দলীয় জোটের মধ্যে থেকে অলি আহমদের জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠন আমাদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে তার হঠাৎ জামায়াতের পক্ষে স্ট্যান্ড নেওয়াটা আমরা ভালো চোখে দেখিনি।

হঠাৎ করে তিনি যে নতুন কমিটি গঠন করেছেন, এটা তার এখতিয়ারবহির্ভূত, অসাংবিধানিক। এলডিপির যে গঠনতন্ত্র আছে, তাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে নিতে হয়। তিনি যেটা করেছেন সেটা অনেকটা প্রতিহিংসামূলকভাবে করেছেন। আমাকেসহ কয়েকজনকে বাদ দেওয়ার জন্য কমিটি করেছেন কোনো সম্মেলন ছাড়া। এটা এলডিপির নেতাকর্মীরা কেউ মেনে নেয়নি।

আর নিষ্ক্রিয়তার যে কথা বলা হচ্ছে, আমি যদি এলডিপিতে সক্রিয় না হই, তাহলে দলে কে সক্রিয় সেটা জানতে পারলে খুশি হতাম। ১৩ বছরের সক্রিয়তাকে তিন মাস ধরে নিষ্ক্রিয় বলে শেষ করে দেবে এটা কেমন যুক্তি জানি না।

এ ঘটনার পর এলডিপির নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করছেন। অনেকে ইতোমধ্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর যারা এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজনও এখন আর এলডিপি করেন না।

ঢাকা টাইমস: আপনাদের পরবর্তী ভাবনা বা পদক্ষেপ জানতে চাইছি।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: আসলে এখন এলডিপির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। কিছু ঠিকানাবিহীন লোকজনের ঠিকানা এখন এলডিপি। আমরা সোমবার পরবর্তী করণীয়, অবস্থান সব বিস্তারিত জানাব। আপাতত হয়তো একজনকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হবে।

ঢাকা টাইমস: আপনারা বিএনপিতে যাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: আমি ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। বিএনপির প্রতীকে নির্বাচন করেছি। যারা এর আগে এলডিপি ছেড়েছে তারাও একসময় বিএনপিতে ছিলেন। দলটির নেতাদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। আর বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। তাই ভবিষ্যতে বিএনপির সাহচার্যে থাকতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে।

ঢাকা টাইমস: অলি আহমদ বা অন্য কেউ যদি তার সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য আহ্বান জানায়, তখন কী করবেন?

শাহাদাত হোসেন সেলিম: অনেকেই যোগাযোগ করছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু আমি আসলে একজন নিষ্ঠুর হৃদয়হীন ব্যক্তির নেতৃত্বে আর রাজনীতি করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সিদ্ধান্ত যেটা নিয়েছি এটাই চূড়ান্ত।

ঢাকাটাইমস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: ঢাকা টাইমসকেও ধন্যবাদ।

(ঢাকাটাইমস/১৭নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :