মার্কিন পার্লামেন্টে উইঘুর বিল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন : চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:০৩

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিল পাস হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীনা সরকার। 

সোমবার চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশের গভর্নর শোহরাত জাকির যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে বিতর্কিত প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেন। 

গত মঙ্গলবার চীনে নির্যাতিত উইঘুর মুসলিমদের ‘অবাধে আটক, নির্যাতন ও হেনেস্তা’ করা হচ্ছে দাবি করে তা মোকাবিলায় একটি বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। বিলটিতে চীনের কয়েকজন নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর ও দেশটির শিনজিয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ছান ছিয়াংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব আরোপ করা হয়েছে। 

জিনজিয়াংয়ের গভর্নর শোহরাত জাকির বলেছেন, জিনজিয়াংয়ের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা থেকে আলাদা নয়।

জাকির আরো বলেন, জিনজিয়াংয়ের সামাজিক স্থিতিশীলতার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র এক চোখ বন্ধ করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে এবং এই অঞ্চলকে ঘিরে নোংরা প্রচারণা শুরু করেছে। এই ইস্যুকে ব্যবহার করে চীনের জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিবাদের বীজ বপন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিলটি সিনেট ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পেলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে পরিণত হবে। 

মঙ্গলবার রাতে ‘উইঘুর হিউমান রাইটস পলিসি অ্যাক্ট ২০১৯’ শিরোনামের এই বিলটির পক্ষে ৪০৭ ভোট ও বিপক্ষে মাত্র ১টি ভোট পড়ে। কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। এর আগে তিনি হংকং বিলের বিরুদ্ধেও ভোট দিয়েছিলেন।

বিলটিতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শিনজিয়াং শাখার প্রধান ছান ছিয়াংকো’কে উইঘুরদের বিরুদ্ধে পরিচালিত শিবিরের ‘স্থপতি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বিলে ‘উইঘুরদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ নিন্দা করার জন্য, সব শিবির তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার জন্য ও ‘আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চয়তা দেওয়া মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে’ চীনকে বলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।  

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, জিনজিয়াংয়ের গণ-আটক কেন্দ্রে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রেখেছে বেইজিং। তবে চীন বলছে, সন্ত্রাসবাদের লাগাম টানতে আটক কেন্দ্রে মুসলিমদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

(ঢাকাটাইমস/০৯ ডিসেম্বর/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :