পড়াশোনা করার সঠিক নিয়ম

শিক্ষা ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৩২

সবার মা-বাবাই বেশি বেশি পড়াশোনা করা জন্য তাগিদ দেন। বেশি করে পড়াশোনা করলে ভালো রেজাল্ট হবে। ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরাও ভালো রেজাল্টের জন্য বা ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবার আশায় নাকমুখ গুঁজে পড়ার টেবিলে থাকে। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এত পরিশ্রমের পরও ফলাফল ভালো হচ্ছে না।

অথচ দেখা যায় পাশের বাড়ির ছেলেটা সারাদিন খেলাধুলা করেও পরীক্ষায় অনেক ভালো ফল করছে। এর কারণ কি শুধুই মেধার তারতম্য? কখনোই নয়! স্রষ্টা সবাইকেই সমান মেধা দিয়ে পাঠিয়েছেন, কিন্তু মেধার সঠিক ব্যবহারই ক্লাসের ফার্স্ট বয় আর লাস্ট বয়ের ব্যবধান তৈরি করে দেয়।

সমাজে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী আমরা অনেকেই মনে করি যে, বেশি বেশি পড়লেই ফল ভালো হবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনায় কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে সময়মত সঠিক নিয়ম অনুযায়ী পড়াশোনা করলে অনেক বেশি ভালো ফল অর্জন করা সম্ভব।

দৈনন্দিন পড়াশোনা পদ্ধতিতে ছোট্ট ছোট্ট কিছু পরিবর্তন জাদুকরী ভূমিকা রাখে। পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করার পেছনের মূলমন্ত্রগুলো কী কী দেখা যাক।

একনাগাড়ে অনেকক্ষণ নয়

বিজ্ঞানীরা বলেন, মস্তিষ্কের তথ্য ধারণ ক্ষমতা টানা ২৫-৩০ মিনিট পরিশ্রমের পর হ্রাস পেতে শুরু করে। সুতরাং, একটানা ঘন্টার পর ঘন্টা বই নিয়ে পড়ে থাকার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। পড়ার সময়টুকু ছোট ছোট ভাগে আলাদা করে সাজিয়ে নিতে হবে।

প্রত্যেকটা ভাগ শেষ হওয়ার পর পাঁচ মিনিট ব্রেক নিতে হবে। এই সময়টুকু তোমার যা করতে ভাল লাগে (কিছু খাওয়া, গান শোনা, ফেসবুকে একবার ঢুঁ মেরে আসা) এই সময়টুকুতে করবে। তারপর সতেজ মনে আবার পড়াশোনা করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

মুখস্থ নয়, বুঝে পড়া

ছোটবেলা থেকে আমাদের ছড়া, কবিতা প্রভৃতি দাঁড়িকমাসহ মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লেখা হত। এইভাবে লিখতে লিখতে অভ্যাস হয়ে গেছে যে সবকিছু মুখস্থ করে ফেলার। এটি খুব ভুল একটি পদ্ধতি। অনেকেই আছে, যাদের কোনো কিছুর সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে হুবুহু বইয়ের সংজ্ঞা গড়গড় করে বলে দিতে পারবে, কিন্তু ব্যাখ্যা করতে বললেই নিশ্চুপ!

বর্তমান সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় এই মুখস্থবিদ্যা নির্ভরতা একদমই সাহায্য করবে না ভালো ফল করতে। সুতরাং বইয়ের সংজ্ঞা মুখস্থ করা বন্ধ করে মূল টপিকটা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। কেননা, মুখস্থ দশবার করলে দশবার ভুলবে, কিন্তু একবার ভালোভাবে বুঝে নিতে পারলে কোনো দিনও ভুলবে না!

বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়া

বুঝে বুঝে পড়ার একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে একই টপিক বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়া। অন্ধের হাতি দেখার গল্প মনে আছে তো? শুধুমাত্র একটি বই থেকে পড়তে গেলে তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। সুতরাং সম্ভাব্য সবরকম সোর্স থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে। বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি করে, বিভিন্ন লেখকের বই থেকে পড়তে হবে। বড় ভাই বা আপুদের সাহায্য নিতে হবে। ইন্টারনেটে একটু খুঁজলেই খুব ভালো শিক্ষামূলক সাইট পাওয়া যায়। সেখান থেকে পড়তে হবে।

অন্যকে শেখানো

আইনস্টাইন বলেন, ‘একটা বিষয় তোমার পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত হবে তখনই, যখন বিষয়টি তুমি কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারবে।’ পড়ালেখাকে যদি একটি গাড়ির সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে যখন একটি টপিক পড়া হবে, তখন সেটি হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিন। কিন্তু শুধু এটুকু দিয়েই কাউকে ঠিকভাবে বুঝানো যাবে না।

কেননা, কেবল ইঞ্জিন থাকলেই তো গাড়ি চলে না! গাড়ির অন্যান্য যন্ত্রাংশ – চেসিস, টায়ার ইত্যাদি সব মিলে যুক্ত হয়েই তৈরি হয় একটি গাড়ি।

যখন কাউকে বুঝানো হয় একটি টপিক, তখন লক্ষ্য করলে দেখা যায় শুধু বইপড়া জ্ঞান দিয়ে কাজ হচ্ছে না। ঠিক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মতো, সবগুলো ঠিকমতো জোড়া দিলে তবেই চলবে গাড়ি, সেরকম  টপিকটার বিভিন্ন আঙ্গিকের উপর সার্বিক একটা ধারণা থাকতে হয়। সুতরাং কাউকে শেখাতে গেলেই, টপিকটার উপর জ্ঞান অনেক গভীরে পৌঁছাতে হয়।

নিবিড় মনোনিবেশ

একই সঙ্গে একাধিক কাজ করতে গেলে কোনটিই ভালভাবে করা হয় না। যখন পড়তে বসতে হবে, তখন সম্পুর্ণ মনোযোগ থাকতে হবে বইয়ের পাতায়। মনোযোগ বিঘ্ন করার মত যা কিছু আছে, সবকিছু দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। অল্প সময় পড়বে, কিন্তু ১১০ শতাংশ মনোযোগের সাথে পড়তে হবে।

ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করা

আমরা সবাই বছরের শুরুতে লক্ষ্য ঠিক করি, “এইবছর ফাটায়ে পড়াশোনা করবো!” এবং বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সেটা “লক্ষ্য” হয়েই থেকে যায়, কার্যকরী আদৌ হয়ে উঠেনা! কেন এমনটি হয় কখনো ভেবে দেখা হয়েছে?

আমরা ছোট থাকতে গুরুজনেরা আমাদের খাইয়ে পরিয়ে দিতেন, নিয়মিত পড়া আদায় করাতেন। এখন বড় হয়ে আর কেউ প্রতিদিন পড়া ধরতে আসে না। সাফল্য ব্যর্থতার দায়ভার নিজের হাতেই।

সুতরাং প্রতিদিন ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। “আমি এই টার্মে ফার্স্ট হতে চাই!” এত দীর্ঘমেয়াদী প্ল্যানে না গিয়ে “আমি আজকে ম্যাথ অমুক চ্যাপ্টার কমপ্লিট করবো” এরকম একদিনের প্ল্যান ঠিক করতে হবে এবং সেটা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়লে চলবে না। প্রতিদিন এরকম ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণ করতে করতে বছরের শেষে গিয়ে দেখা যাবে সত্যিই বছরজুড়ে অনেক ভালো পড়াশোনা হয়েছে!

আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা

তুমি একদিন বাসে উঠে তোমার বন্ধুকে বললে, “এই জানিস! গতকাল কলেজের সামনে রাস্তায় কি কাহিনী ঘটেছে!” আমি বাজি ধরে বলতে পারি, বাসের সবাই সাথেসাথে কান খাড়া করে ফেলবে “কি কাহিনী ঘটেছে” সেটা শোনার জন্য! কারণটা খুব সোজা, আমরা সবাই গল্প শুনতে ভীষণ ভালবাসি!

পড়াশোনাকে যখন সংজ্ঞা/ফর্মুলার নীরস জায়গা থেকে গল্পের ছাঁচে ফেলতে পারবে, দেখবে জিনিসটা আসলে কত মজার! গণিতের “x=?” এর সমাধান যেন গোয়েন্দা কাহিনীর “কে সেই কালপ্রিট?” বের করার মতোই! “ব্রেকিং ব্যাড” এর কল্যাণে রসায়নের ফর্মূলাগুলো তো এখন সবাই আগ্রহ নিয়েই শিখে!

ফিজিক্সের প্লবতার “ইউরেকা!” থেকে শুরু করে আতশ কাঁচের সাহায্যে আর্কিমিডিস কিভাবে রোমান যুদ্ধতরী পুড়িয়ে দিলেন সমুদ্রে -এরকম অজস্র ইন্টারেস্টিং গল্প আছে।

এরকম সব সাবজেক্টেই অনেক মজার মজার গল্প, ঘটনা জড়িয়ে আছে। বাস্তব জীবনে চারপাশের উপকরণের সাথে যখন পাঠ্যবই এর টপিকগুলো মিলিয়ে গল্প তৈরি করতে শিখবে, দেখবে পড়ালেখার চেয়ে মজার আর কিছুই হতে পারে না!

ঢাকাটাইমস/১৮জানুয়ারি/এসএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :