ভ্রমণ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বালি দ্বীপ

ফিচার প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৪৪ | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৪:০৬

দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়া। গোটা দেশজুড়ে রয়েছে ১৭,০০০-এরও বেশি দ্বীপ। ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে সুন্দরতম স্থান হলো বালি দ্বীপ। বালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, পরিবেশ, এখানকার মন্দির, অধিবাসী, তাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনপদ্ধতি মানুষকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। মূলত ১৯৮০-এর পরে থেকে এই এলাকার চেহারাটাই পাল্টে যায়। বর্তমানে এখানে সারা বছরই পর্যটক আসে। এজন্য বালি দ্বীপ ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে।

দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৫,৭৮০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ৪২ লাখের কাছাকাছি। সমুদ্র যারা ভালবাসেন, তাঁদের কাছে বালির বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চারের অন্যতম সেরা ঠিকানা এই বালি। গোটা দ্বীপ জুড়ে প্রায় ২৮০-রও বেশি প্রজাতির পাখি দেখা যায়।  আপনার ভাগ্য ভালো থাকলে বিরল প্রজাতির বেশকিছু পাখির চাক্ষুষ দর্শন করতে পারেন। এর সঙ্গে বালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তো রয়েছেই। এখানকার স্থাপত্য, মন্দির, শিল্পকলাগুলো এক কথায় অসামান্য।

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীর নাম জাকার্তা আর মুদ্রার নাম রুপিয়াহ।  ১০,০০০ রুপিয়াহ দিয়ে এক বেলা খাবারও খেতে পারবেন না। কারণ ১০,০০০ রুপিয়াহ সমান ৬২ টাকা। ইন্দোনেশিয়ান রুপির মান খুবই কম। আর এই জন্য এই দেশে ৫০০০, ১০০০০, ২০০০০, ৫০০০০, ১০০০০০ রুপিয়াহ নোট আছে। ১ লাখ রুপিয়াহ সমান ৬২০ টাকা।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, বালি ভ্রমণে এলে আপনার জন্য ঠিক কী কী চমক  অপেক্ষা করছে।

এয়ার এশিয়াতে সিঙ্গাপুর থেকে বালি যাওয়া সহজ। এয়ার এশিয়া সরাসরি বালি যায়, তাই আর কুয়ালালামপুরে অযথা দীর্ঘসময় এয়ারপোর্টে ট্রানিজিটে বসে থাকতে হয় না। আবার ঢাকা থেকে মালিন্দ এয়ারলাইনসে তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় কুয়ালালামপুর হয়ে বালি যাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন তেমন কিছুই না, পাসপোর্ট দিয়ে, রিটার্ন টিকেট দেখালেই সীল দিয়ে দেয়। অনেকসময় হোটেল রিজার্ভেশন দেখতে চায়। কোন ভিসা ফি লাগে না।

এয়ারপোর্ট হতে হোটেল যাত্রা

অনলাইনে আগোডাসহ অনেক সাইট আছে যাদের মাধ্যমে গাড়ী আগে থেকে বুক করা যায়। হোটেল কে বলা যায় গাড়ি পাঠাতে বা এয়ারপোর্ট হতে লোকাল টেক্সি নেয়া যায়। একা থাকলে বা লাগেজ কম থাকলে সবচেয়ে ভালো হবে মেইন এয়ারপোর্ট হতে বাইরে পার্কিংয়ে গিয়ে গ্রাব ট্যাক্সি নেয়া সবচেয়ে কম খরচ। এয়ারপোর্ট থেকে কুটা-এর ভাড়া গ্রিাব ট্যাক্সিতে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইন্দো. রুপিয়াহ, আর লোকাল টেক্সিতে প্রায় ১.৫-২ লাখ নিবে, হোটেল থেকে গাড়ি পাঠাতে বললে ২.৫ লাখ নিবে।

সিম কেনা

টেলকমসেল সিম সাধারণত টুরিস্টরা ব্যবহার করে। সিমের দাম এক এক জায়গায় এক এক রকম। কোনো ব্যালেন্স ছাড়া আসল দাম মাত্র ১০,০০০ ইন্দো. রুপিয়াহ। কিন্তু সিম কিনে আপনি ঠকবেনই, ৬ জিবি ইন্টারনেটসহ এর দাম নিবে অবস্থাভেদে ১ থেকে ২.৫ লাখ রুপিয়াহ।

হোটেল

কুটা এলাকায়, আগোডা থেকে বুকিং, নন রিফান্ডেবল উইথ ব্রেকফাস্ট, প্রায় ২ মাস আগে। এতে অনেক কম খরচ। যাওয়ার তারিখ নিশ্চিত না হলে ফ্রি ক্যান্সেলেশন অপশনে যাওয়া ভাল। থাকার জন্য কুটা এলাকা বালির সেন্টারে কম খরচ পড়ে। অনেকে নুসা দুয়া, সেমিনায়ক বা উবুদ এলাকায় থাকে। অনেকে ২/৩ দিন পর পর শিফট করে। ভাড়া ডিপেন্ড করে। দিনে ২৫ ইউ এস ডলারে কুটা এলাকায় মানসম্পন্ন ডাবল রুম পাওয়া সম্ভব। প্রায় প্রত্যেক হোটেল বা রিসোর্টে সুইমিং পুল আছে, অনেক রিসোর্টে আবার প্রাইভেট সি বিচও আছে।

যাতায়াত

একমাত্র মাধ্যম টেক্সি অথবা বাইক। গ্রাব, গোজেক, ব্লু বার্ড অথবা লোকাল টাক্সি। ভালো হবে গ্রাব এবং গোজেক ট্যাক্সির এপস ডাউনলোড করে নিয়ে যাওয়া। ২টাই লাগবে কারণ অনেকস্থানে গ্রাব ট্যাক্সি পাবেন না। কমন জায়গাগুলোতে গ্রাব আর গোজেক এর ভাড়া তুলনা করে কমটাতে যাওয়া যায়। ঘন্টাচুক্তি হিসেবে টেক্সি ফিক্সড করে নেয়া যায়, দিনে ৮-১০ ঘন্টা, ৪-৬ লাখ ইন্দো. রুপিয়াহ নিবে। দিনে ১/২টা স্পটে গেলে গ্রাব/গোজেক সাশ্রয়ী, আর ৪/৫ টা স্থানে গেলে ঘন্টা চুক্তি সাশ্রয়ী। পরিবার ছাড়া গেলে বাইক ভাড়া নিলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

মানি এক্সচেঞ্জ

বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ এ অনেক পার্থক্য হয়।  ১ ইউ এস ডলারে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৯০০ পর্যন্ত আছে। লোভে পড়া যাবে না। শুধুমাত্র অথরাইজড মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ভাঙ্গাতে হবে। রেট কম পেলেও অন্যত্র যাওয়া যাবে না। ১ ডলার = ১৩,৮৭৫ ইন্দো. রুপিয়াহ পেলে তা ভালো রেট ও সেইফ। ১ ইন্দো. রুপি = ০.০০৬২ টাকা।

খাওয়া-দাওয়া

খাবারের জন্য ভালো পরিমাণ বাজেট রাখতে হবে। লোকাল খাবার মশলার গন্ধের জন্য খাওয়া কষ্ট। তবে নাসি গোরেং (রাইস), মী গোরেং (নূডুলস) মোটামুটি ভালই।

দর্শনীয় এলাকা:

কুটা বিচ: প্রধানত সি বিচের জন্যই বালি প্রসিদ্ধ। কুটা বিচ কক্সবাজারের মতো অনেক লম্বা।

নুসা দুয়া বিচ: কুটা থেকে বাইক বা টেক্সিতে যাওয়া যায়। অনেক লম্বা বিচ, নুসা দুয়া থেকে অয়োদ্ধা পর্যন্ত। এখানকার বিচের পানি ময়লা ও ঘাস মিশ্রিত। বিচ প্রবাল আর ভাংগা শামুক- ঝিনুকে ভর্তি।

ওয়াটার ব্লো: এখানে সাগরের পাড়ে পানির ঢেউ আছড়ে মারে, এতো জোরে যে পানি ছিটকে অনেক দুর আসে। পানিতে রঙধনুর সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য একটি টুরিস্ট স্পট। এন্ট্রি ফি নেই।

সুলুবান বিচ: একে হিডেন বিচও বলা যায়। এখানে যেতে আসতে পায়ের জোড় থাকা প্রয়োজন। অনেক নিচ পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে নামতে হয়। একেবারে নিচে নামলে দেখা যাবে দুই দিকে পাহাড় আর মাঝে বালি।

প্যাডাং প্যাডাং বিচ: সুলুবান বিচ থেকে এ ২০-২৫ মিনিটের যাত্রা। এখানে এন্ট্রি ফি আছে, বড়দের ১৫ আর কিড ১০ হাজার রুপিয়াহ। এটাও খুব সুন্দর ছোট একটা বিচ।

ড্রিমল্যান্ড বিচ: এখানকার বিচের আলাদা পার্কিং আছে। সেখানেই গাড়ি রাখতে হয়। পার্কিং ২০,০০০ রুপি। পার্কিং থেকে আলাদা টুরিস্ট বাস সার্ভিস আছে বিচ পর্যন্ত যাবার জন্য।

জিম্বারান বিচ: অনেক লম্বা একটা বিচ। এই বিচে সারি সারি বিচ ছাতাসহ চেয়ার। পাড়ে সি ফুডের অনেক রেস্টুরেন্ট। এখানকার পানি কিছুটা বালি মিশ্রিত। এই বিচ সুর্যাস্ত দেখা আর সি ফুডের জন্য বিখ্যাত।

পটেটো হেড বিচ: এই বিচটা পটেটো এর মতো। রয়েছে ক্লাব। এই জায়গাটা এক কথায় মাস্তি করার জায়গা। এন্ট্রি ফি নেই।

সানুর বিচ: পরিস্কার ও টুরিস্ট ফ্রেন্ডলী এবং ভিড় ছাড়া এক বিচ। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য সুন্দর। কিন্তু সূর্যোদয়ের দৃশ্য আরো বেশি সুন্দর।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/আরজেড)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :