মাদারীপুরে জোড়া খুন: ১২ দিনেও আসামি গ্রেপ্তার নেই

মাদারীপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি ২০২০, ২১:০৯

গ্রাম্য দলাদলি আর আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছরের বিবাদ। সেই বিবাদের জেরে গেলো ১০ জানুয়ারি খুন হন মাদারীপুরের উত্তর হোসেনপুর গ্রামের বাবুল শেখ ও জুলফিকার খালাশী। এই ঘটনায় পরের দিন ৮৪ জনকে আসামি করে রাজৈর থানায় মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভ।

এদিকে ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা অভিযুক্ত আসামিরা। প্রশাসনের দাবি, আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে খুন করে গান বাজিয়ে উল্লাস করার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে তোলপাড় মাদারীপুরের সর্বত্র।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার উত্তর হোসেনপুর গ্রামে গত ১০ জানুয়ারি সকালে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপক্ষের নেতৃত্ব দেন রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের সদস্য দেলোয়ার মুন্সী। অন্যপক্ষ একই এলাকার জামাল খালাশী। সংর্ঘষে গুরুতর আহত জামাল খালাশী গ্রুপের বাবুল শেখ ১১ জানুয়ারি ও জুলফিকার খালাশী ১২ জানুয়ারি  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারপরে ৮৪ জনকে আসামি করে ১৩ জানুয়ারি রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা করে নিহতের ছোট ভাই। এর পর থেকেই এলাকায় দেলোয়ার গ্রুপের লোকজন লাপাত্তা। তাদের বাড়ি-ঘরে কেউ নেই। কয়েকজন পুলিশ তাদের বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন। এই হত্যার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারারের দাবিতে নিহতের স্বজনরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। যা নিয়ে এলাকার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

নিহত বাবুল শেখের বড় ভাই আবু মুন্সী বলেন, ‘মামলার পর থেকে কোনো আসামি আজও গ্রেপ্তার হয়নি। বরং পুলিশ আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। তাদের বাড়ি-ঘর পাহারা দিচ্ছে, যাতে কেউ আসামিদের বাড়িতে যেতেও না পারে। এখন মনে হচ্ছে পুলিশই আমাদের প্রতিপক্ষ। আমরা জোর দাবি করছি, অতি দ্রুত আসামিদের গেপ্তার করার।’

নিহত জুলফিকারের স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘ওরা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হামলার পরে দেলোয়ার মুন্সী গ্রুপের লোকজন দেশী অস্ত্র নিয়ে গান বাজিয়ে উল্লাস করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের ফাঁসি দাবি করি। আর কোনো নির্মম হত্যাকাণ্ড যেন না ঘটে।’

তবে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশ্বাস, দোষীদের গ্রেপ্তারের সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তারা। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, ‘ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ক্যাম্প করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করে রেখেছি। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে হোসেনপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার আর গ্রাম্য দলাদলির কারণে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন মানুষ। এলাকাবাসী এই রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ থেকে মুক্তি চান এখন। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে বাড়ি-ঘর থেকে লাপাত্তা মূল অভিযুক্ত দেলোয়ার মুন্সিসহ অন্য আসামিরাও। অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২১জানুয়ারি/কেএম/ইএস)  

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :