করোনাভাইরাস: হুমকিতে বিশ্ব অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৩৭ | প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৩৩
ছবি ক্যাপশন: ভিয়েতনামের রাজধানীতে মাস্ক পরে দোকানে ক্রেতার অপেক্ষায় এক নারী- এএফপি

গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া, পর্যটন ইত্যাদি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে পুঁজিবাজারে ধস নামছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক মহামারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও সিঙ্গাপুরের পর ইতালিতেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আতঙ্কের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে চীনে যেসব কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে কলকারখানা থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার স্তব্ধ হয়ে গেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকেও বাধ্য হয়ে সেই পথেই অগ্রসর হতে হচ্ছে। ইতালির উত্তরে মিলান শহরকে ঘিরে প্রধান শিল্প-বাণিজ্য কেন্দ্রে অচলাবস্থা দেখা দেওয়ায় সেদেশের দুর্বল অর্থনীতির উন্নতির সম্ভাবনা বড় ধাক্কা খাচ্ছে। মোটকথা বিশাল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল বিশ্ব অর্থনীতির ছন্দ অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পুঁজিবাজারে সোমবার ধস নামে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, ইতালিসহ কিছু দেশে সূচক আচমকা নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে মুনাফার আশা দেখছেন না।

শিল্পক্ষেত্রে মন্দার পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। ফলে জার্মানির বিমান সংস্থা লুফথানসার মতো বিমান সংস্থার শেয়ারের মূল্য কমে গেছে। বোয়িং কোম্পানি আরও লোকসানের আশঙ্কা করছে। এমনকি পেট্রোলিয়ামের মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ি বা স্মার্টফোনের মতো পণ্যের উৎপাদনের ক্ষেত্রে একাদিক দেশের মধ্যে যন্ত্রাংশের আদানপ্রদানের যে প্রণালী রয়েছে, সেই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিঘ্ন দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে সোমবার চীন জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ পর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এই প্রথম কমতে শুরু করেছে। সেদেশের এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভবত এপ্রিল মাসের মধ্যে এই সংকট কেটে যাবে। তবে এমন ইতিবাচক প্রত্যাশা নিয়ে চীনের মধ্যেই যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো মহামারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না। এমনকি করোনাভাইরাসের প্রসারকে সন্ত্রাসবাদের হুমকির সঙ্গে তুলনা করেছে ডাব্লিউএইচও। ভাইরাসের প্রসারের গতি বর্তমানে কিছুটা কমে গেলেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থা। সব দেশ এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে ডাব্লিউএইচও। করোনাভাইরাসের প্রসার রুখতে গবেষণা ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত দুই দিনের আলোচনার পর এই সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ আরও জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চটজলদি কোনো ওষুধ বা টিকা আবিষ্কারের আশা দেখা যাচ্ছে না।

ঢাকা টাইমস/২৫ফেব্রুয়ারি/একে

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :