গর্ভবতী, প্রসূতি ও শিশুরা করোনা থেকে কতটা নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০২০, ১১:০৭

সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ দুশ্চিন্তায় দিশেহারা। যেহেতু করোনাভাইরাসের জন্য কোন ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি এখনও। সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের ভয়ে বেশি চিন্তিত গর্ভবতী মহিলারা। যেহেতু এই ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত কোনও নবজাতক বা শিশুর মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও দুশ্চিন্তা কিন্তু থেকেই যায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কতটা নিরাপদ গর্ভবতী মহিলারা, প্রসূতি ও শিশুরা।

গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে ভাল কাজটি হল নিজের সুস্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণ করা। তার প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া। সামাজিক দূরত্ব অনুশীলন করা এবং কম চিন্তা করা। আমরা বুঝতে পারি যে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় গর্ভবতী হওয়া মহিলাকে উদ্বেগজনক করে তুলতে পারে, তবে নিজের ভাল যত্ন নেওয়া এবং বাড়ির ভিতরে থাকা বিশেষত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় এই সংক্রমণ রোধ করতে এবং স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ মার্কিন চিকিৎসক পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাঃ ক্যারোলিন কোয়েন জানিয়েছেন, প্রসূতির শরীরে যদি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুরও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে নবজাক করোনা আক্রান্ত হতে পারে। কোয়েনের মতে, ভাইরাস গর্ভবতী মায়ের জরায়ুর প্লাসেন্টা পেরিয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই প্রসঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরিনেটাল এপিডেমিওলজিস্ট ডাঃ খ্রিশ্চান চেম্বার্স জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে প্রসূতির শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় দেখা দিতে পারে। ফলে প্রসূতির সঙ্গে তাঁর সন্তানের শরীরেও প্রবেশ করতে পারে এই ভাইরাস। চিকিৎসকরা জানান, গর্ভবতী মায়ের জরায়ুর প্লাসেন্টা তার শরীরে অ্যান্টিবডি হিসাবে কাজ করে এবং ভ্রূণকে সুরক্ষিত রাখে। তাই করোনা-সংক্রমণে ভ্রূণের বা শিশুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমই থাকে। তবে কোনও কোনও ভাইরাস এই বাধা অতিক্রম করে ভ্রূণের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

প্রসূতির শরীরে যদি করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের সময় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। যদিও সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় নবজাতকের শরীরেও সামান্য পরিমাণ পাওয়া গিয়েছে এই করোনাভাইরাস।

একটি গবেষণায় কিছু নবজাতকের শরীরে উচ্চ মাত্রায় ‘ইমিউনোগ্লোবিন জি’ নামের অ্যান্টিবডির উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। ‘ইমিউনোগ্লোবিন জি’ নামের অ্যান্টিবডি মায়ের শরীর থেকে সরাসরি ভ্রূণের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। অন্য আরেকটি গবেষণায় জন্মের দু'ঘণ্টা পরেই নবজাতকের শরীরে আইজিএম-এর স্তরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে যার মাত্রা ওই নবজাতকের শরীরে মাত্র দুদিনের মধ্যেই বৃদ্ধি পায় যা যে কোনও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত কোন মহিলা প্রসব শ্রমে যেতে পারেন ও শিশুকে প্রসব করতে পারেন এবং এখনও সংক্রমণ থেকে সেরে উঠতে পারেন, তবে এটি সংক্রমণের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। নবজাতকের ক্ষেত্রে, সে করোনাভাইসের সংক্রমণ হতে পারে বা নাও হতে পারে। কিছু শিশু সংক্রমণ পেতে পারে, অন্যরা নাও পেতে পারে। এমনকি যদি শিশুর ইতিবাচক পরীক্ষা করা হয় তবে এটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি যে সে গর্ভে বা জন্মের সময় সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে, তাই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।

তবে, শিশুটিকে এই সংক্রমণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে, ডাক্তাররা তাকে একটি নবজাতক ইউনিটে রাখতে পারেন, তাকে মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারেন। এবং মা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফর্মুলা খাওয়ানো হতে পারে। গর্ভবতী মহিলার বা নবজাতক শিশুর করোনাভাইরাস পজিটিভ হলে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকেও সে সম্পর্কে অবহিত করা উচিত। হালকা লক্ষণগুলির ক্ষেত্রে, আপনাকে বাড়িতে শেল্ফ-আইসোলেট হয়ে থাকতে বলা হবে। তবে লক্ষণগুলো গুরুতর হলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে।

চিকিৎসকের মতে, আপনি যদি গর্ভবতী মহিলা হন তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করবেন না– ইতিবাচক থাকুন এবং কম চিন্তা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, বাড়িতে থাকুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন, আপনি এবং আপনার শিশু ভাল থাকবে, সুরক্ষিত থাকবে।

(ঢাকাটাইমস/৩১ মার্চ/আরজেড/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :