ঘর তৈরির টাকায় দরিদ্রদের খাবার দিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১৫:১৫ | প্রকাশিত : ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৩৮

নিজের ঘর তৈরির জন্য জমানো টাকা দিয়ে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুইপার রতন শেখ। খাদ্য সংকটে থাকা কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সামর্থ্যবানদেরও আহ্বান জানিয়েছেন নিজ নিজ জায়গা থেকে বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে।

রতন শেখ সাভার এলাকার বাসিন্দা। ৪৫ বছরের রতন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বাসাবাড়ির ড্রেন বা শৌচাগারের মানবর্জ্য পরিষ্কারের কাজ করেন। ফলে সাভার এলাকায় তিনি ‘সুইপার রতন’ নামে পরিচিত।

তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার কাটাখালি গ্রামের আলিমুদ্দিন শেখের ছেলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মাত্র আড়াই হাজার টাকায় ভাড়া থাকেন সাভার পৌরসভার জামসিং জয়পাড়া আব্বাস ফরাজীর বাড়িতে। গ্রামের বাড়িতে ঘর তুলতে অনেক দিন ধরে কিছু টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে বর্তমান করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট সংকটে কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রতন শেখ।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে রতন জানান, তিনি তার জায়গা থেকে যেটুকু করা যায়, তার সবটুকু চেষ্টা করেছেন। বলেন, ‘সুইপারের কাজ করি। কাজ কইরা পাঁচ শ, হাজার যা পাই তা কিছু খরচের পর বাকিটা জমাইতাম। নিজের একটা ঘর তো লাগে। কিন্তু আমার ঘরের চাইতে এখন মানুষের খাবার বেশি দরকার। আমার আশেপাশের অনেক মানুষ অনেক কষ্টে আছে। তাগো জন্য যেটুক পারছি করছি।‘ জমানো টাকায় শতাধিক পরিবারের জন্য চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, ডিম, সাবান কিনে দিয়েছেন। এর একেকটি পরিবারকে দেয়া খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটে যে পরিমাণ খাবার দেয়া হয়েছে তাতে তিন থেকে চার জনের পরিবারের ১০ দিন চলবে বলে জানান রতন।

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আশপাশের মানুষের জন্য করার চেষ্টা করেছেন তিনি। তার প্রত্যাশা সমাজের বিত্তবানরাও তাদের আশপাশের মানুষের কথা ভাববে। তাদের পাশে দাঁড়াবে।

রতন বলেন, ‘আমি নিম্ন শ্রেণির মানুষ। ছোট কাজ করি। দেশে তো অনেক বড় মানুষ আছে। তারাও যদি একটু গরিবের দিকে দেখে তাহলে কেউ কষ্টে থাকত না। আমি অনুরোধ করি, যাগো সামর্থ্য আছে, তারা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এখন অনেক মানুষ বিপদে আছে।‘

ঢাকাটাইমস/০৬এপ্রিল/কারই/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :