ট্রাম্পের চাপে ভারতের নতিস্বীকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৫২
অ- অ+

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, করোনা রুখতে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে ভারতকে। না হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতকে অবিলম্বে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানির অনুমতি দিতে হবে। না হলে প্রত্যাঘাত করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই দাবি মেনে নিয়েছে ভারত। মোদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব দেশে করোনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে, সেখানে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানি করা যাবে।

এমনিতে ম্যালেরিয়া হলে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া হয়। কিন্তু এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকী, করোনার প্রতিরোধক হিসাবেও এই ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা দেখেছেন, করোনার চিকিৎসায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সাহায্য করছে।

কিন্তু দেশে যাতে এই ওষুধের অভাব না হয়, সেজন্য মোদি সরকার হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনসহ মোট ২৬টি ওষুধ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে মাস্ক, স্যানিটাইজার এবং ভেন্টিলেটার রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটি।

জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদক ও রপ্তানিকারী। ভারতে চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদেরও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের হুমকির পর ভারত প্রথমে ২৪টি ওষুধের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামলের ওপর থেকে তোলা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে জানিয়ে দেওয়া হয়, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে। যেসব দেশে এই ওষুধ করোনার জন্য লাগবে, তাদের দেওয়া হবে।

দু'দিন আগে ট্রাম্প ফোন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। তিনি বিশেষ করে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বলেন। এরপর রবিবার ও সোমবার করোনা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয় ভারতে। আগামী দিনে কত ওষুধ লাগতে পারে, কতটা আছে তা খতিয়ে দেখা হয়। ভারতের সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, যা প্রয়োজন তার থেকেও ২৫ শতাংশ ওষুধ হাতে রেখে তারপরই রপ্তানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এটা স্পষ্ট যে. ট্রাম্পের চাপের কছে নতিস্বীকার করতে হয়েছে ভারতকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনোরকম রাখঢাক না করেই বলেছিলেন, 'ভারতের সিদ্ধান্তে আমি অবাক হয়েছি। এই সিদ্ধান্ত আমার পছন্দ হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ফোন করেছিলাম। অনেক বছর ধরে ওরা বানিজ্য-ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে আসছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, ওষুধের সরবরাহ আবার শুরু হলে আমরা ভারতের প্রশংসা করব। আর ওরা যদি সিদ্ধান্ত না বদলায় তো ঠিক আছে, তখন আমরাও প্রত্যাঘাত করব।'

করোনার বিরুদ্ধে লড়তে ভারতের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চীন। ভারতে চিকিৎসকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ছিলো না। অনেক জায়গায় চিকিৎসকদের রেনকোট পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছিল। চীনের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার পোশাক এসেছে। ভারতেও ২০ হাজার নতুন পোশাক তৈরি হয়েছে। এর আগে ভারতের কাছে তিন লাখ ৮৭ হাজার পোশাক ছিল। এখন মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুসহ যে সব রাজ্যে করোনার প্রাদুর্ভাব বেশি সেখানে বেশি করে ডাক্তারদের পোশাক পাঠানো হচ্ছে। ভেন্টিলেটার তৈরির ওপরেও এখন জোর দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা টাইমস/০৭এপ্রিল/একে

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
The Clutches of Online Gambling and Drugs
টঙ্গীতে মাদকের নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বে বাসা ঘেকে ডেকে নিয়ে যুবক কে কুপিয়ে হত্যা
টেকনাফে ভয়াবহ আগুনে পুড়েছে ৪০ দোকানের কোটি টাকার মালামাল
আজ থেকে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু, চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা