বাসায় থেকেও করোনা চিকিৎসা সম্ভব: ডা. আশরাফুল হক

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ২০:০৩ | প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৪
ডা. আশরাফুল হক

কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধটা কেবল চিকিৎসকদের নয়, এটি সবার যুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও আবাসিক সার্জন ডা. আশরাফুল হক সিয়াম। তিনি বলেন, ‘এ যুদ্ধটা সবার। সবার মধ্যেই সচেতনতা আনতে হবে।’

ডা. আশরাফুল হক সিয়াম বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮০ ভাগ লোকই ঘরে থেকে সেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে যায়। অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এই রোগ হলেই মৃত্যু অনিবার্য এই জায়গা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।’

শনিবার বেসরকারি একটি টেলিভিশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। জানান, করোনার কারণে তিনিও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

আপনারা কী ধরনের অসুবিধায় পড়ছেন। এ পর্যন্ত আপনাদের কতজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেন কি না?

আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আজকে সারা বিশ্ব করোনায় আক্রান্ত এবং তার ভয়াবহতাও আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের দেশেও স্বাস্থ্যকর্মীরা যুদ্ধ করে চলেছে। যদিও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন তার সাধ্য মতো। তারপরও আমরা কিছুটা সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বহীনতায় অসুবিধার মধ্যে আছি। সেটা আপনারা সবাই দেখতে পাচ্ছেন। প্রথম যেই অসুবিধা সেটা আপনারা জানেন গত কিছুদিন ধরেই গণমাধ্যমে সেগুলো প্রচার হয়ে আসছে। সেটা হচ্ছে স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকদের মানসম্মত সুরক্ষা, যেটাকে আমরা বলে মাস্ক এবং পিপিই। এর বাইরেও অনেক সমস্যা আছে।

এই সমস্যাগুলো কী ধরনের?

এর মধ্যে আমরা দেশের কিছু হাসপাতালকে আমরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তৈরি করেছি। সেই হাসপাতালগুলোতে কিন্তু ইতোমধ্যেই রোগী ভর্তি হয়েছে এবং আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকরা সেবা দিয়ে আসছেন। সেখানে তারা যেই সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন, তার মধ্যে প্রধান হলো সেই হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার। এর ব্যবস্থা হয়েছে নাকি তা কাগজ কলমের বাস্তবতা সেই বিষয়গুলো একটু দেখাশোনা করতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের মোট এক লাখ চিকিৎসকের মধ্যে ৩০ হাজার হচ্ছে সরকারি আর বাকিগুলোর বেসরকারি। বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিনা বেতনে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেন। যাকে আমরা বলি, অনারারি মেডিকেল অফিসার। এই বিনা বেতনের চিকিৎসকরা যদি এখনো বিনা বেতনে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যান, তাহলে তাদের পরিবার-পরিজন কিভাবে চলবে সেটা একটা প্রশ্ন থেকে যায়।

চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয়ে আপনি বলছিলেন। কারা এই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন?

আপনারা জানেন শাহবাগ এলাকায় অথবা আজিজ সুপার মার্কেটের আশেপাশে অনেক ব্যাচেলর চিকিৎসক থাকেন। হাবিবুল্লাহ রোড যেটাকে বলে, সেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যাচেলর চিকিৎসক থাকে। তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। তারা সাধারণত হোস্টেলে খাওয়া-দাওয়া করে এখন যেহেতু সব হোটেল অথবা হোস্টেল সবই বন্ধ তাই তারা কিভাবে খাওয়া-দাওয়া করে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ চিকিৎসক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। দুই থেকে আড়াইশ চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আমি নিজেও বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থেকে আপনার সাথে কথা বলছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে আমরা জেনেছি যে, যেসব চিকিৎসক কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের জন্য কিছু হোটেল অথবা বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে কি আপনার কাছে কোন তথ্য আছে?

বাস্তবে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো কাগজে কলমে হয়েছে কিন্তু তার কোন রেজাল্ট আমরা এখনো পাইনি।

জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য আপনি কী পরামর্শ দেবেন?

উন্নত বিশ্বসহ কোথাও এটা বাদ দেয়নি। আমাদের দেশে এটা আসবে না এসব কথাবার্তা বলার কোন সুযোগ এখন নেই। কথা হচ্ছে আগে কী করেছি বা কী হয়েছে ওইসব বাদ দিয়ে এখন থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এই যুদ্ধ শুধুমাত্র চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের একার যুদ্ধ নয়। এ যুদ্ধটা সবার। সবার মধ্যেই সচেতনতা আনতে হবে। প্রায় আশি ভাগ লোক কিন্তু ঘরেই থাকছে, তারা সচেতন। আর যে ১৫ থেকে ২০ ভাগ লোক পাড়া মহল্লায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদেরকে কীভাবে ঘরে রাখা যায় সে ব্যবস্থা নীতি নির্ধারকদের করতে হবে।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত সবাইকে কি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়?

না। এই রোগে কিন্তু ৮০ ভাগ লোকই ঘরে থেকে সেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে যায়। অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫ ভাগ রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার মানে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে. তা নয়। এই রোগ হলেই মৃত্যু অনিবার্য এই জায়গা থেকে আমাদের সরে আসতে হবে। এটা জনসাধারণের মধ্যে প্রচার করতে হবে। মনে রাখবেন, আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু নিম্নআয়ের বা অসচেতন।

যারা ঘরে বসে আছে কিন্তু তারা আগে থেকেই বিভিন্ন ফ্লু বা এ ধরনের রোগে আক্রান্ত তাদের জন্য আপনি কী পরামর্শ দেবেন?

জ্বর মানেই কিন্তু কোভিড নয়। এখন ডেঙ্গু বা ইনফুয়েঞ্জার সিজন এই রোগগুলো হওয়াই স্বাভাবিক। তখন আপনি একটি রুমে আলাদা হয়ে যাবেন। যদি আপনি মনে করেন আপনার কোভিড হয়েছে বা হতে পারে তখন আপনি সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে। কিছুক্ষণ পর পর একটু গরম পানি দিয়ে গারগেল করতে পারেন। যদি মনে হয় জ্বর বেশি, তাহলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে পারেন। সর্দি-কাশি থাকলে এগুলোর ওষুধ খেতে পারেন। ভিটামিন সি জাতীয় ফলমূল, শাক সবজি বেশি খেতে হবে। তারপরও যদি মনে করি আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, তখন আমাদের হাসপাতালে যাওয়া উচিত। একটা জিনিস মনে রাখতে হবে হাসপাতালও কিন্তু একটা ইনফেকশনের বড় সোর্স। হাসপাতালের ভিতর থেকেও অনেক ইনফেকশন বা করোনা ছড়াচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/১৯এপ্রিল/এইচএফ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ

শেখ হাসিনা আজ অনুকরণীয় বিশ্বনেতা: নানক

‘পরিবেশ যতই প্রতিকূল হোক শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো’

‘ই-ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটে আগামীর বাংলাদেশের এক নবদিগন্ত উন্মোচন হবে’

পদ্মা ব্যাংকের লক্ষ্য ব্রাঞ্চলেস ভার্চুয়াল ব্যাংকিং

মানুষ মশারি ছাড়া ঘুমায় শুনে নিজেকে গর্বিত লাগে

‘এমআরপি এবং ওয়ারেন্টি নীতি বাস্তবায়ন হলে প্রযুক্তি ব্যবসায়ে শৃঙ্খলা ফিরবে’

শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটের মাঠে থাকবো: সালাহউদ্দিন

‘আজন্ম মানুষের সেবা দেয়াই আমার অঙ্গীকার’ পর্ব-২

‘জনপ্রতিনিধি না জনগণের সেবক হিসেবে থাকতে চাই’ (পর্ব-১)

জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করলে তৃণমূল সাজানো কঠিন হবে না

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :