আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ইকরামুল মুসলিমীন

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ৩১ মে ২০২০, ২০:১৯ | প্রকাশিত : ৩১ মে ২০২০, ২০:১৩

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ করেছে আলেমদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন।

রবিবার (৩১ মে) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ করে ফাউন্ডেশনটি।

বেড়িবাঁধের বালি ভরাটের জন্য প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসাইনের কাছে দুই হাজার বস্তাও প্রদান করে তারা। এর আগে লাগাতার দুই দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন ফাউন্ডেশনের নেতারা।

সংগঠনের আহ্বায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেছি। বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। মানুষের ঘরবাড়ি দুমড়েমুচড়ে গেছে। চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে পরিবারগুলো। এখন পর্যন্ত বলার মতো তেমন কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুদান সেখানে পৌঁছেনি। মানবেতর জীবনযাপন করছে উপকূলবাসী।

মিছবাহ বলেন, সুন্দরবনের কারণে কিছু এলাকা সামান্য রক্ষা পেলেও বেশিরভাগ এলাকাই বিধ্বস্ত হয়েছে। চিংড়িঘের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। জোয়ারের পানি বিপদসীমা পেরোনোয় মাছ ভেসে গেছে। নোনা পানির কারণে ফসলাদি নষ্ট হয়ে গেছে অনেকের।

জানা যায়, স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে শ্যামনগর ও আশাশুনির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায়। তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়, জোয়ার এলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সরকারিভাবে বেড়িবাঁধের দাবি স্থানীয়দের। ইকরামুল মুসলিমীনের পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধের জন্য দুই হাজার বস্তা দেয়া হয়।

ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো রাস্তায় ঠাঁই নিয়েছে। এমন একহাজার পরিবারকে খাদ্যসাসগ্রী ও ১০০ বাথরুম করে দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইকরামুল মুসলিমীন। এ ছাড়াও শ্যামনগরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ত্রাণের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ঘূর্ণিঝড় আম্পান তহবিলে নগদ অর্থ প্রদান করে তারা।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ’র নেতৃত্বে আব্দুর রহমান কোব্বাদী, এহসান সিরাজ, সিরাজুল ইসলাম আকন, সাব্বির মাজহারী ও মনযূরুল হক-সহ স্থানীয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ত্রাণকার্য পরিচালনা করেন।

প্রসঙ্গত, ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন করোনাকালে লকডাউনের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, স্প্রে, জনসচেতনতায় মাইকিং, নগদ অর্থ বিতরণ, তিন দফা রমজান প্যাকেজ, ঈদ প্যাকেজ ও রান্নাকৃত খাবার— ইফতার-সাহরি বিতরণ করেছে। সারাদেশে ৭০টি টিমের মাধ্যমে করোনায় মৃতের কাফন-দাফনের কাজও চলমান আছে তাদের। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান, হিজরা কিংবা বেদে, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্যই কাজ করছে ফাউন্ডেশনটি।

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত