শোকের মাস

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার অঙ্গীকার

মাহফুজুর রহমান ভূইয়াঁ
 | প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০

“শহিদ মিনার থেকে খসে পড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি। আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।”

চলছে শোকের মাস আগস্ট। কদিন আগে পালিত হয়েছে হৃদয়বিদারক ১৫ অগাস্ট, জাতীয় শোক দিবস। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতা যুদ্ধের স্থপতি, শান্তির জুলিও কুরি, রাজনীতির কবি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ছিল সেদিন। তার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

কী করেননি তিনি বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির জন্য। তিনি বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, একটি লাল সবুজের পতাকা, সবুজ পাসপোর্ট এবং স্বাধীনতার স্বাদ। তিনি স্বাধীনতার পাশাপাশি মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চেয়েছেন- একটি সোনার বাংলা তৈরির মাধ্যমে, যা ফুটে উঠেছিল বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের স্বাধীনতার ডাকে "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"।

এই অর্থনৈতিক মুক্তির (দ্বিতীয় বিপ্লব) প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি সব রাজনৈতিক দল নিয়ে তৈরি করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল), যার মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা জনগণের কাছে নিয়ে যেতে। কিন্তু তিনি তা করে যেতে পারেননি।

তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য হাতে নিয়েছেন অনেকগুলো স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তারই একটি অন্যতম প্রকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১, ২০৪১। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ, প্রশাসন পাচ্ছে তথ্য এবং যোগাযোগের মাধ্যম/ বাহন (ক্যরিয়ার) এবং ব্যবহারের সুযোগ। মানবসম্পদের উন্নতি করা হবে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ঘিরে; নতুন নতুন ব্যবসা, বাণিজ্যিক মডেল এবং উদ্ভাবনের সুযোগ থাকবে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে।

পরিবর্তনের অগ্রদূত শেখ হাসিনা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (Sustainable development Goals, SDGs, transforming the world, জাতিসংঘ, ২০৩০) বাস্তবায়ন নিশ্চয়তা প্রদান করেন, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১, ২০৪১ তথা একটি উন্নত মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। একে অপরের সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDGs ) ও ডিজিটাল বাংলাদেশ।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের ১৬৯টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬১টি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করেছে এবং ১০৩টি শেষের দিকে। বাংলাদেশ স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতার সবগুলো সূচক পূরণ করেছে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা রূপ নেবে বাস্তবে এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।

এই শোকের মাসে শোককে পরিণত করতে হবে শক্তির হাতিয়ার- বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ "সোনার বাংলা ও অর্থনৈতিক মুক্তি" এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনিদের খুঁজে বের করে সাজা কার্যকর করা এবং পার্টির ভিতরে লুকিয়ে থাকা জামাতের চরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন তার কাজে, বাঙালির ভালোবাসায়, চিন্তায় এবং চেতনায় এবং বেঁচে থাকবেন তার আদর্শ বাস্তবায়নে চিরকাল। "কে বলেছে আপনি নাই, এই তো আপনি আছেন—এইখানে, সবখানে, সমস্ত বাংলায়— এইখানে বাংলার লাল ও সবুজে আমাদের অশ্রু আর ভালোবাসায়, আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার আর এগিয়ে যাওয়ার অমোঘ মন্ত্রে—”।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক মেহেনতি মানুষের।

লেখকঃ প্রধান প্রোডাক্ট আর্কিটেক্ট, টেলিয়া কোম্পানি; সুইডেন সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, ইউরোপ; সাবেক সহসভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

ঢাকাটাইমস/১৯আগস্ট/মোআ

সংবাদটি শেয়ার করুন

পাঠকের অভিমত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :