‘মালিকরা বলছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হবে না’

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২২

এক বছর সাত মাস আগে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় আসেন শহিদুল ইসলাম। ছয় মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে চার লাখ টাকা দেনা হয়েছে তার। ৬৯ বছর বয়সী শহিদুল ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই দেনা পরিশোধের জন্য এবং দুই বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা। এখনো এক লাখ টাকার বেশি দেনা আছেন তিনি। এই মুহূর্তে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হবে তাকে। যদিও রিকশা মালিকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অটোরিকশা বন্ধ হবে না।

হাজারীবাগ বালুর মাঠ এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ইস্কা (রিকশা) চলে চলে (চালিয়ে) অনেক ঋণ শোধ কইরলাম। আমি যদি পায়ের ইস্কা চলাই, আমার ক্ষমতা কুলাবে না চলবার। যদি অটোরিকশা বন্ধ ওয়া (হয়ে) যায়, বাড়ি যাইয়া ভিক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নাই।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বেড়িবাঁধ, হাজারীবাগ, রায়েরবাগ, মানিকনগর, বাসাবো, মুগদা, খিলগাঁও, মান্ডা, নন্দিপাড়া, রামপুরা, ইসলামবাগ, ধানমন্ডি, কামরাঙ্গীরচর, সোয়ারিঘাট, বাবুবাজারসহ সব এলাকাতেই দেখা মিলছে ব্যাটারিচালিত রিকশার। চলাচল করছে ইজিবাইক।

গনকটুলি এলাকার অটোরিকশা চালক মিলন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পায়ের রিকশা চালাইলে শরীরে সমস্যা। মেয়রের কাছে দাবি, মেইন রোডে উঠতে না দিলেও যেন এলাকার মধ্যে চালাইতে দেয়।’

অযৌক্তিক দাবি করতে চান না কামরাঙ্গীরচর এলাকার রিকশাচালক শফি। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হলে আয় কমে যাবে তার। রিকশা বন্ধ হলে তার আপত্তি নেই। তবে ভাবছেন আয়ের ঘাটতি পূরণের পথ নিয়ে। তবে এর আগেও অটোরিকশা বন্ধ করে দেয়ার কথা থাকলেও বন্ধ করা হয়নি। এবারও নির্দেশনাটি একই পথে হাঁটবে বলে রিকশা মালিকদের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে বলে জানান শফি।

ঢাকা টাইমসকে শফি বলেন, ‘অটোরিকশায় আয় বেশি হয়। পায়ের রিকশা চলাইলে আয় কমে যাইব। দেখি কী করা যায়। কিন্তু রিকশা মালিক বলছে, এর আগেও এমন কাহিনি হইছে, কিন্তু রিকশা বন্ধ হয় নাই। এবারও বন্ধ হইবো না।’

অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশনার কথা জানেন সব অটোরিকশা চালক। তবে মালিকদের পক্ষ থেকে রিকশা চালকদের বলা হয়েছে, রিকশা বন্ধ হবে না। যদিও ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হোক এমন প্রত্যাশা জানালেন বেড়িবাঁধ শিকদার মেডিক্যাল এলাকার রিকশাচালক ইমরান হোসেন।

ঢাকা টাইমসকে ইমরান বলেন, ‘ব্যাটারির রিকশা না থাকাই ভাল। পায়ের রিকশা চালামু। আধা বেলায় সাত, আটশ টাকা ইনকাম করুম, ওইটাই ভাল। মেয়রের সিদ্ধান্ত ঠিক আছে তো। এই রিকশা যে বৈধ না এইডা সবাই জানে। চান্দা (চাঁদা) দিয়া গাড়ি চলে। রিস্কও (ঝুঁকি) বেশি। আবার এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়া যায় না। বহুত ঝামেলা। বন্ধ কইরা দেওয়াই ভাল।’

এদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইক কোনোটাই বন্ধ হবে না বলে দাবি করেছেন বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় থেকে বেড়িবাঁধ সিকশন রুটে চলাচলকারী ইজিবাইক চালকরা। মালিকদের পক্ষ থেকে তাদেরকে ইজিবাইক চালানো অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজিবাইকের চালকরা।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসি নগর ভবন প্রাঙ্গণে রিকশা, ভ্যান, ঠেলা গাড়ি, টালি গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি নিবন্ধন, নবায়ন ও মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত কোনো রিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান আর সড়কে চলবে না। এগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের রিকশা বা যানবাহন ঢাকা দক্ষিণ সিটির সড়কে পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সেদিনই এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ।

নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্দেশনার পর অযান্ত্রিক পরিবহনকে যান্ত্রিক পরিবহনে রূপান্তরকারীদের পরিবহনগুলোকে পুনরায় অযান্ত্রিক পরিবহনে রূপান্তরের জন্য যৌক্তিক সময় দেয়া হয়েছে। যারা নির্দেশনা মানবেন না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :