কচুরীপানার জটে দিশেহারা চলনবিলের কৃষক

সাইফুল ইসলাম, নাটোর প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৩৯

টানা তিন বছর ধরে ফসল হানির রেশ না কাটতেই চলতি মৌসুমে কচুরীপানার জটে বোরো ধান ও সরিষা-গম চাষাবাদ নিয়ে চলনবিলের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এবার চলন বিলজুড়ে স্মরণকালের কচুরীপানার জটে বন্ধ হয়ে গেছে নৌ চলাচল। বিলের পানি দুষিত হওয়ায় সব বয়সী মানুষ চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সময়মতো কচুরীপানা অপসারণ করা না গেলে চলতি বোরো মৌসুমে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়াও বিলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ সুঁতি ও বানার বাঁধে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে চলনবিল। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

এদিকে হঠাৎ কচুরীপানার স্তুপ জমে রবীন্দ্রনাথ স্মৃতি বিজড়িত নাগরনদে নৌ চলাচল বন্ধ ও তাজপুর ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশনায় অর্ধ শতাধিক শ্রমিক তাজপুর ব্রিজের নিচ থেকে কচুরীপানা অপসারণে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ ও চলনবিলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিংড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ডাহিয়া, ইটালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের আবাদি জমিতে এখন কচুরীপানায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। প্রতি বছর এসব গ্রামে আমনসহ অন্য ফসল আবাদ করলেও এবছর কচুরীপানার জন্য আমন আবাদ হয়নি। তাই কচুরীপানা অপসারণ করতে গিয়ে বিলাঞ্চলের কৃষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

একবিঘা জমি থেকে কচুরীপানা অপসারণ করতে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে চারশ টাকা। আর এ কারণে অর্থ ব্যয় বেশি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে কচুরীপানার কারণে নৌ যান বন্ধ হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিল পাড়ের মানুষদের। বেকার হয়ে পড়েছেন দিনমজুরসহ নৌচালকরা। পানি দুষিত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। চর্ম রোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।

কৃষকদের অভিযোগ, এসব কচুরিপানা অপসারণ করতে গিয়ে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। একবিঘা জমি থেকে কচুরীপানা অপসারণ করতে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। শ্রমিক প্রতি মজুরি দিতে হচ্ছে চারশ টাকা। কচুরিপানা সরাতে কীটনাশক ও লবন ব্যবহার করতে হচ্ছে। দূর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকাগুলো পারাপার ব্যহত হওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন মাঝিরা।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা নদী ও বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে সুঁতি ও বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করছে।

দমদমা গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিলের পানি দূষিত হওয়ায় কচুরিপানা অপসারণের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আর যারা কাজ করছেন, তারাও অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন। তার জোলারবাতা এলাকায় ১৩ একর জমি পরিস্কার করতে শ্রমিকদের দুই লাখ টাকায় চুক্তি দিতে হয়েছে।

কয়রাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, চলনবিলের কৃষকদের মাঝে কচুরীপানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিলে ও নদীতে নৌ চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি সামনে বোরো আবাদে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় পরিবেশ কর্মী অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, দেশে উৎপাদিত ধানের এক-তৃতীয়াংশ এই চলনবিল থেকে সরবরাহ করা হয়। কচুরীপানার জটে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ঐতিহ্যবাহী বিল তার যৌবন হারাচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলার প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে থাকে। কচুরীপানা দ্রুত বংশ বিস্তারের ফলে চলনবিলের কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিন দিন কৃষকের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :