যে নিয়মে দূর হয় শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ১৫:৩৬
অ- অ+

বাড়ন্ত বয়সের শিশুদের অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। বিষয়টা শিশুরা চেপে যেতে চায়। অনেক অভিভাবকরাও সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ বুঝতে দেরি করেন। বাচ্চাদের যে শুধুমাত্র অনিয়মিত মলত্যাগ না করলেই কোষ্ঠকাঠিন্য হবে তা নয়। বরং অনেক বাচ্চা রোজই মলত্যাগ করছে অথচ তা স্বাভাবিক নয়, প্রকৃতপক্ষে একেই কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।

অভিভাবকদের কেউ কেউ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ছোট বয়স থেকে বাচ্চাকে ওষুধ খাওয়াতে চান না। কিন্তু তাতে শিশুর কষ্ট বাড়তেই থাকে। তাই আপনার সন্তানের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নজরে এলেই দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সাধারণত দেড়-দু বছরের মধ্যে শিশুরা স্বাভাবিক খাবারে অভ্যস্ত হতে শুরু করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তখন থেকেই শুরু হয় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। তবে সময়মতো চিকিৎসা না করলে দশ বছর পর্যন্ত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা চলতে থাকে।

বাচ্চারা মাতৃদুগ্ধ খাওয়া যখন থেকে কমিয়ে দেয়, তখনই কোষ্ঠকাঠিন্য হতে বেশি দেখা যায়। অনেক বাচ্চা মাতৃদুগ্ধ পানের সময়ও নিয়মিত মলত্যাগ করে না, কিন্তু তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয় না। কারণ সেই সময় বাচ্চা নিয়মিত মলত্যাগ না করলেও যখনই মলত্যাগ করে তা স্বাভাবিকই হয়। আর ডাক্তারি পরিভাষায় কোষ্ঠকাঠিন্য হল শক্ত মল নির্গত হওয়া, কতদিন বাদে বাদে শিশু মলত্যাগ করছে তা নয়। অর্থাৎ যদি কেউ রোজই দু-তিনবার মলত্যাগ করে কিন্তু তা স্বাভাবিকের থেকে শক্ত হয় তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের আওতায় ফেলা হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে চাইলে অবশ্যই ডায়েটের দিকে নজর দিতে হবে। বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার অর্থাৎ শাক-সবজি, ফল রোজকার খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখতে হবে। কারণ আঁশ হল খাবারের সেই অংশ, যা পরিপাক হয় না এবং খাদ্যগ্রহণের পর অবশেষ হিসাবে মল তৈরি করে। খাদ্যের আঁশ অংশটুকু হজম না হওয়ার কারণে এগুলো পরিপাকতন্ত্রের বেশ কিছু জলীয় অংশ শোষণ করে ধরে রাখে এবং এই জলীয় অংশ-সহ ফাইবার মলের সঙ্গে বের হয়ে আসে। এই কারণেই ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে মল নরম হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।

তবে প্রাণীজ প্রোটিন একেবারে বন্ধ করে দিলে চলবে না। বাজার চলতি প্যাকেটের দুধ কম খাওয়াতে হবে। ঘরে পাতা দই খেলেও তাও অল্প পরিমাণে খেতে হবে।

অনেক অভিভাবকদের ধারণা থাকে বাচ্চাদের এত ছোট বয়সে কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ খাওয়ালে পরবর্তীকালে তা অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। যার ফলে তারা বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়াতে চান না কিংবা ওষুধ খাওয়ার ধারাবাহিকতা রাখেন না। কিন্তু তা একেবারেই ঠিক নয়। উপরন্তু এর ফলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেড়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্য মানুষের প্রথম ও শেষ বয়সেই বেশি হয়। প্রথম বয়সে হয় পেটের পেশীর জোর কম থাকে বলে এবং শেষ বয়সে পেটের পেশীর জোর কমে যায় বলে। সাধারণত ছোট বয়সে চিকিৎসায় কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে গেলে তা বড় বয়স পর্যন্ত থাকে না। আবার বৃদ্ধ বয়সে হতে পারে।

১. বাচ্চাদের বেশি করে আঁশযুক্ত খাবার অর্থাৎ শাক-সবজি বেশি খাওয়ান। সবজির মধ্যে ঢেঁড়শ, যে কোনও শাক, ডাঁটা, গাজর, পটল, বেগুন, শিম, কুমড়ো, লাউ ইত্যাদি অবশ্যই খাওয়ান। ফলের মধ্যে বেল, পেয়ারা, কালো জাম, কলা, অল্প পরিমাণে পাকা আম, খাওয়াতে পারেন। মটর, মুগ ও ছোলার ডালে যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। শিশু একই সবজি রোজ রোজ খেতে না চাইলে পুষ্টির মান বজায় রেখে ভিন্ন স্বাদের রান্না করে খাওয়ান। যদি বাচ্চা একেবারে খেতে না চায় তাহলে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি ঘড়ি ধরে বার বার জল খাওয়াতে হবে। বেশি জল খেতে না চাইলে শরবত, ফ্রেশ ফলের রস কিংবা সবজির স্যুপ করে খাওয়ান। তবে ফলের রসের চেয়ে গোটা খাওয়াই বেশি উপকারি। বাজার চলতি হেলথ ড্রিঙ্ক যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। একইসঙ্গে বাচ্চাকে দুধ কম খাওয়ান।

২. সন্তানের যাতে রোজ মলত্যাগ করার অভ্যাস তৈরি হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাচ্চাকে বুঝিয়ে প্রাথমিক অবস্থাতেই গুরুত্ব দিয়ে সতর্ক হতে হবে। আজকাল বাচ্চারা অল্প বয়সেই প্লে স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে যদি সকালে স্কুলে যাওয়ার তাড়ায় বাচ্চার অভ্যাস তৈরি না হয়, তাহলে স্কুল থেকে ফিরে অর্থাৎ বিকেলেই অভ্যাস তৈরি করুন।

(ঢাকাটাইমস/১৬অক্টোবর/এজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
পূবাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় চার মামলা, আসামি প্রায় ২ হাজার
কনক সরওয়ারের ফেসবুক পোস্ট: রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় এমপি মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
যৌথ অভিযান নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী