মৃত্যু পরোয়ানা শোনানো হয়েছে, রিভিউ চাইবেন কায়সার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫০

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। পরোয়ানা শুনে এর বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনার আবেদন) চাইবেন বলে জানান কায়সার।

বৃহস্পতিবার বিকালে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। এর আগে লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানাটি কারাগারে পৌঁছে।

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জ্যেষ্ঠ জেল সুপার সুভাষ কুমার দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কায়সারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বুধবার বিকালে তা সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো হয় যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যু পরোয়ানা জরি করে। কারাগারের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে পরোয়ানার অনুলিপি পাঠানো হয় বলে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাঈদ আহমদ জানান।

নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন এরশাদের সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। এর মধ্যে তিনি আবেদন না করলে যে কোনো দিন রায় কার্যকর হতে পারে।

এ ব্যাপারে কায়সারের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আলামিন জানিয়েছেন, রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেলে তারা রিভিউ আবেদন করবেন।

তিনি বলেছেন, ‘রিভিউ পিটিশন করার জন্য আমার মাক্কেল আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করা আছে। হয়ত কয়েকদিনের মধ্যেই পেয়ে যাব।’

রিভিউ আবেদন খারিজ হলেও অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন সৈয়দ কায়সার। তিনি যদি প্রাণভিক্ষা না চান এবং চেয়েও যদি ক্ষমা না পান, তাহলে রায় কার্যকরের ক্ষণগণনা শুরু হবে। রায় কার্যকরের আগে তিনি শেষবারের মতো পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।

২০১৩ সালের ১৫ মে ট্রাইব্যুনাল কায়সারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় মুসলিম লীগের এই সাবেক নেতাকে। বয়স ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালে তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়।

পরে বিচার শেষে ২০১৪ সলের ২৩ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। রায়ে সাতটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড, চারটিতে যাবজ্জীবন ও তিনটিতে মোট ২২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। কিন্তু চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ফাঁসির রায় বহাল রেখে রায় দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

রায়ে তিনটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। এছাড়া চারটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান।

ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :