ফেলানী হত্যার ১০ বছর

মমিনুল ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
 | প্রকাশিত : ০৬ জানুয়ারি ২০২১, ২১:২১

সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যার দশ বছর হতে চলেছে আগামীকাল ৭ জানুয়ারি। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর রামখানা অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সিমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে নির্মম হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ফেলানীর মৃতদেহ।

এ ঘটনায় গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত। পরে বিএসএফের বিশেষ কোর্টে দুই দফায় বিচারিক রায়ে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে। এ রায় প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুমের সহযোগিতায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টে রিট করে ফেলানীর পরিবার।

ঘটনার দিন ভোর ৬টায় ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত টপকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ-এর এ কোর্টে সাক্ষী দেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামি অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ এর বিশেষ আদালত। পরে রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনবিচারের দাবি জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে সাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ২ জুলাই এ আদালত পুনরায় অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ ‘মাসুম’ ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানি শুরু হয়। ২০১৬ এবং ১৭ সালে কয়েক দফা শুনানি পিছিয়ে যায়। পরে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হলেও শুনানি হয়নি। এরপর ২০১৯ এবং ২০২০ সালে কয়েকবার শুনানির তারিখ ধার্য হলেও সম্পন্ন হয়নি আজও।

এদিকে, মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা-মা।

বাবা নূর ইসলাম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার বিচার চেয়ে অনেক ঘুরেছি, মানবাধিকার সংস্থাসহ বহু জনের কাছে গেছি, বিচার পেলাম না। ২০২০ সালের ১৮ মার্চ শুনানির তারিখ থাকলে তা হয়নি। এখন আর কোন খোঁজখবর জানিনা।’

মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘ফেলানী হত্যার দশ বছর হয়ে গেছে, আজও বিচার পাইনি। আমি দুই দেশের সরকারের কাছে সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

সীমান্তের অধিবাসীরা জানান, ফেলানী হত্যার বিচার হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ বন্ধ হয়ে যেত।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, ‘ভারতের সুপ্রিমকোর্টে ফেলানী হত্যার রিটটি কার্যতালিকার তিন নম্বরে ছিল। কয়েক দফা শুনানির তারিখ পিছিয়ে গেছে। বর্তমান কোভিট-১৯ এর জন্য ভার্চুয়াল কোর্ট চলছে। পরিস্থিতি ভালো হলে রিটটি শুনানি হবে। আশা করছি, ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে।’

প্রসঙ্গত, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু পরিবার নিয়ে থাকতেন ভারতের বঙ্গাইগাঁও গ্রামে। মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। তাই ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে রওনা হয় দেশের উদ্দেশ্যে। পরদিন ভোরে ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের উপর মই বেয়ে আসার সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ফেলানীর।

(ঢাকাটাইমস/৬জানুয়ারি/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

গাজীপুরে ছিনতাই-মাদক কারবারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭

যাত্রা বাতিল করে মাঝপথ থেকে ফিরে গেল ঢাকাগামী ট্রেন, চরম ভোগান্তি

৩০০ টাকা মজুরির দাবি: দেশজুড়ে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক চা শ্রমিকদের

জাতীয় শোক দিবস পালন খুলনা ওজোপাডিকোর

নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ড. কাজী এরতেজা হাসানের জাতীয় শোক দিবস পালন

শোক দিবসের র‌্যালিতে যুব মহিলা লীগের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

৬ষ্ঠ শ্রেণির চাচাত বোনকে ধর্ষণ শেষে গলা টিপে হত্যা

বঙ্গবন্ধু ছিলেন সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের নেতা: শিক্ষামন্ত্রী

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গোসল নেমে পর্যটক নিখোঁজ, উদ্ধার ২

আলফাডাঙ্গায় শোক দিবসে র‌্যালি, আলোচনা ও দোয়া

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :