তারুণ্যের অদম্য গতিতে তুলতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:৪১ | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:১৩

শাম্মী তুলতুল একজন লেখক, ঔপন্যাসিক ও শিশু সাহিত্যিক। পড়ালেখায় ফাঁকিবাজ মেয়েটি আজকের বাংলাদেশের তরুণ জনপ্রিয় লেখক। তার আগামী পরিকল্পনা এবং ২০২১ এ প্রকাশিত বই নিয়ে তুলতুল কথা বলেছেন ঢাকাটাইমসের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছে ঢাকা টাইমসের নিজস্ব প্রতিবেদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম নাঈম।

কেমন কাটছে আপনার বর্তমান সময়?

জী! আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। এই করোনাকালে চেষ্টা করছি নিজেকে সব সময় সুস্থ রাখতে। তবে করোনার সময় কাটছে সুখ দুঃখ মিলিয়ে। যত পেরেছি অসহায়দের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

আপনার লেখক হওয়ার গল্পটা শুনতে চাই

ছোটবেলায় পড়ালেখায় ফাঁকিবাজ একটা মেয়ে ছিলাম। ডানপিটেও ছিলাম অনেক। আমি খুব খেলাধুলা নাচ-গান, ছড়া-কবিতা লিখা, আবৃত্তি করা এসবে প্রচুর আগ্রহী ছিলাম। একটা সময় ছড়া লিখি তা ছাপা হয় বইতে। এর পর ধীরে ধীরে নিজের নাম দেখব এটা মাথায় ধরে যায়। আরেকটা ব্যাপার পারিবারিক ভাবে আমার পরিবার সাহিত্যমনা ছিলেন পরবর্তীতে তা আরেকধাপ আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। আমার দাদা আব্দুল কুদ্দুস মাস্টার এবং নানি লতিফা হক লেখক ছিলেন। বর্তমানে ছোট ভাই, বোন আসছে লেখালেখিতে।

কোন বিষয় আপনার লেখায় বেশি প্রাধান্য পায়?

কল্পনা আর বাস্তব দুটোই থাকে লেখার সময়। আমাদের চারপাশে অনেক কিছুই থাকে মনে হয় যা আমি দেখি তা অন্যজন দেখেনা। এভাবেই আমি লেখার সময় দুটোই মিলানো চেষ্টা করি।

প্রায় শোনা যায় অনেকের মুখে লেখকরা উন্মাদ হয়, নাস্তিক হয় কথাটা কী সত্যি?

(হাহা করে হেসে) আসলে আমাদের সমাজে লেখকরাই এই কথাটা স্টাব্লিসড করেছে। আমি তা নই এবং এই কথা আমার লেখনির মাধ্যমে চেষ্টা করছি আমার কর্মে চেষ্টা করছি বলার জন্য যে সব লেখক উন্মাদ নয়, নাস্তিক নয়। আমাদের কিছু মানুষ এক সময় মনে করতো ইসলাম বা নিজ ধর্ম নিয়ে কথা বললে সেকেলে হয়ে যাবে। গাইয়্যা বলবে কিন্তু যখন থেকে আমি ইসলাম নিয়ে কথা বলছি বা আমার এফবিতে দিন রাত সৃষ্টিকর্তার কথা বুক ফুলিয়ে বলছি এখন অনেকেই তা মেনে চলছে বলার সাহসও পাচ্ছেন। আগে ভয় পেতো। বুঝেন তো যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে অনেকে যা খেতে দেয় তাই খাই। যা আমি মোটেও করি না। এবং আমি যুগের সাথে তালও মেলানোর চেষ্টা করি না। কারণ, যে যার মেধা নিয়েই জন্মে। কেউ কারো মতন না কারো মতো হতেও পারে না। কিন্ত দুঃখ আমরা আমাদের মেধাকে কাজে লাগাইনা।

আপনি প্রায় সময়ই দেশীয় পোশাক বা দেশের কথা বলেন।

আমাদের বর্তমানে এমন অবস্থা হয়েছে নারীরা শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ভুলে পাশ্চাত্যকে ফলো করে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছে।যা মানায়না তাও পরছে। তারা ভাবছে ওটাই বেস্ট। আমি আমার পরিবারে দেখে এসেছি সব সময় দেশীয় পোশাক যেমন, জামদানী- টাঙ্গাইল এসব পরতে। যখন নিজে বড় হলাম ভাবলাম আমাদের দেশে এতো সুন্দর, সুন্দর জিনিস থাকতে কেন আমরা দেশকে তুলে ধরব না? তাই আমার লেখনি দিয়ে আমি সব সময় দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরছি। শুধু তাই নয় আমাকে অনুসরণ করে আমার ভক্তরা, আমার পরিবারের চাচাতো ফুফাতো ভাই- বোনেরা যারা দেশের বাইরে থেকে দেশকে তোয়াক্কা করতনা একসময় তারাও এখন দেশকে বহুগুণ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের দেশের মতো দেশ আমরা কোথাও খুঁজে পাবোনা। বুঝেন তো বহু রক্তের বিনিময়ে এমন একটি দেশ পেয়েছি আমার বাবার মতো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের বিনিময়ে একটি দেশ পেয়েছি। তাই আমি গর্বিত।

এইবার একটু রাজনীতির বিষয়ে বলি। আপনার পরিবার রাজনৈতিক সামনে কি ইচ্ছা আছে রাজনীতিতে জড়ানোর ? এবং বর্তমানে অনেকে রাজনীতিতে বিমুখ।

জী অবশ্যই আমার পরিবার রাজনৈতিক। আমি জন্ম থেকেই রাজনীতি দেখে এসেছি । আমার মা কাজী রওশন রাজনীতিবিদ ছিলেন। তাই আমি অবশ্যই সব ঠিক থাকলে সুযোগ হাত ছাড়া করব না। আর বিমুখ এই কারণে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ তারা রাজনীতি করতে জানে না বলেই রাজনীতিকে এতো পচাচ্ছেন। তাদের কারণেই রাজনীতি আজ কলুষিত। রাজনীতি আমাদের সমাজের একটি পার্ট। একটা পরা। এটি ছাড়া সমাজ চলবে না। তাই তরুণদের এগিয়ে এসে রাজনীতি সম্পর্কে ভুল ভ্রান্তি দূর করতে হবে। যা আমি নিজেও চেষ্টা করে যাচ্ছি।

লেখালেখিতে কিছু বাঁধা সম্মুখীন হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বলুন।

কাছে দূরে বলতে একটা জিনিস কাজে লাগে অদম্য ইচ্ছাশক্তি। আমি থেমে থাকিনি। আমি ধৈর্য ধরে ছিলাম, অদম্য ছিলাম। রাস্তা একটা বন্ধ হলে আরেকটাতে গিয়েছি। যখনি কেউ বলেছে এখানে থেকে সম্ভব না। আমি শুনিনি। আল্লাহ্‌র নামে চেষ্টা করেছি করে যাচ্ছিও। অনেকে ভেবেছেন আমি ঢাকায় থাকি। চট্টগ্রাম বসে সম্ভব না। কিন্তু তা আমি দেখিয়ে দিয়েছি। তবে কষ্ট হয়েছে অনেক প্রচুর স্ট্রাগল করতে হয়েছে।

এবারের বই মেলায় পাঠকদের জন্য আপনার নতুন কোন কোন বই আসছে?

আমার দুটো বই আসবে। একটা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার পেয়েছি। জলকথা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার বইয়ের নাম “তালরাজার তাল কাহিনী” ওটা আসবে জলকথা প্রকাশনী থেকে আর অন্যটি হলো “চাঁদে বেড়ানোর পাসপোর্ট” এটি প্রকাশিত হবে অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে। তাছাড়া আরেকটি বই আসবে কলকাতা থেকে প্রকাশনীর নাম “এবং শব্দ প্রকাশনী”।

আপনি তো দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক। শুনতে কেমন লাগে?

প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে বলুন। তবে আমি সবসময় আমার পাঠকের মনে সন্মানের সহিত থাকতে চাই। আমার লেখনি দিয়ে তাদের ভালোবাসা চাই।

আপনি সমাজসেবায় যুক্ত সে সম্পর্কে কিছু বলুন?

এই করোনার সময় চেষ্টা করেছি কিছু হলেও মানুষের জন্য করতে। যার ফলশ্রুতিতে একটা সংগঠন থেকে সম্মাননা সনদ পাই। দুঃস্থদের পাশে থাকার চেষ্টা করি সব সময়। আমার বাবা একজন সমাজসেবক আর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ খালেদ তার কাছে থেকেও অনেক কিছু শিখছি।

আপনার অর্জন সম্পর্কে কিছু জানতে চাই

জীবনে পাঠকের ভালোবাসা পাওয়া অনেক বড় অর্জন আর গত বছরে একই মাসে তিন তিনটি পুরস্কার পেয়েছি। তবে এসবের চেয়ে আমার যেটি বড় অর্জন মনে হয় তা হলো বাবা- মায়ের সেবা করা।

লেখালিখির পাশাপাশি আর কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

সামনে অনেক কাজ আছে তবে এই মুহূর্তে লেখালেখির সাথে সাথে গান লিখছি তা প্রকাশ পেলেই সবাই জানতে পারবেন।

সব শেষে আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্য কিছু বলুন?

আমার পাঠক ভক্ত এবং যারা আমাকে ভালোবাসেন তাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের হৃদয়ে আমাকে মনে রাখবেন। আমার বই পড়বেন। মেলা অথবা অনলাইনে রকমারি ডটকমসহ সকল অনলাইনে আমার বই পাওয়া যায়। আর হ্যাঁ অবশ্যই বাবা মায়ের সেবা করবেন যত পারেন।

অদম্য লেখকের জন্য শুভ কামনা।

আপনাকে ও ঢাকাটাইমসকে অসংখ্য ধনবাদ।

ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :