দেশে তৈরি হচ্ছে বিশ্বমানের মেডিক্যাল ডিভাইস

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২০:০৮ | প্রকাশিত : ০৭ মার্চ ২০২১, ২০:২২

সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের মতে, দেশে চিকিৎসা সরঞ্জামের ২০ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। কিন্তু মোট চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয়। এসব সরঞ্জাম দেশে তৈরি হলে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও নিশ্চিত হতে পারে নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা।

এই লক্ষ্য নিয়ে মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম এএনসি মেডিক্যাল ডিভাইস বিডি লিমিটেড উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বমানের মেডিক্যাল ও সার্জিকাল ডিভাইস তৈরি করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন পাওয়া ২২টি সরঞ্জামের মধ্যে ইতিমধ্যে তিন ধরনের ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ, অ্যালকোহল প্রি-প্যাড এবং ভ্যাকুয়াম রক্ত সংগ্রহ টিউব উৎপাদন ও বাজারজাত করছে এএনসি।

এর মধ্যে রক্ত সংগ্রহ টিউব প্রথম উৎপাদন করছে এএনসি। এ ছাড়া ০.৫ মিলি অটো-ডিজেবল সিরিঞ্জ তৈরি হচ্ছে এখানে। এটি একবারের বেশি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

রাজধানী ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা সরেজমিন ঘুরে এবং শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এএনসি জিএমই গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রাফিক মেশিনারি অ্যান্ড ইকুপমেন্ট (জিএমই) গ্রুপ ৩০ বছর ধরে বিশ্বমানের মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে সেবা দিচ্ছে। জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারতের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এএনসি।

কারখানা পরিদর্শন করানো শেষে ভারতের সাবেক ডেপুটি ড্রাগস কন্ট্রোলার মলয় কুমার মিত্র ঢাকা টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ডিজিডিএর বিধি মোতাবেক এএনসি একটি সুন্দর ও সুপার স্ট্রাকচার্ড মেডিক্যাল ডিভাইস কারখানা স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশের মেডিক্যাল ডিভাইস বাজারে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

কী কী তৈরি হচ্ছে এনএসসির কারখানায়

কারখানাটি পরিদর্শন করে জানা যায়, এখানে বর্তমানে তিন হাজার কর্মী কাজ করেন। মেডিক্যাল ডিভাইসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে কারখানায় কড়াকড়িভাবে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক নির্দেশনা।

জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২২টি পণ্য তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ৫টি পণ্য (তিন ধরনের ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ, অ্যালকোহল প্রি-প্যাড এবং ভ্যাকুয়াম রক্ত সংগ্রহ টিউব) উৎপাদন করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

অনুমোদন পাওয়া ২২টি পণ্যের মধ্যে আরও আছে ইনসুলিন সিরিঞ্জ, ডিসপোজেবল সুই, ইনফিউশন সেট, ফার্স্ট এইড ব্যান্ডেজ, স্কাল্প ভেইন সেট বা বাটারফ্লাই নিডল, ব্লাড কালেকশন স্ট্রেইট নিডল বা ফ্ল্যাশব্যাক, ব্লাড কালেকশন বাটারফ্লাই নিডল, আইভি ক্যানুলা, দুই ধরনের এডি সিরিঞ্জ, বুরেট সেট, আম্বিলিক্যালকর্ড ক্ল্যাম্প, ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেট ও স্পাইনাল নিডল।

চাহিদার কথা মাথায় রেখে ধীরে ধীরে বাকি সরঞ্জাম উৎপাদন শুরু হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এএনসিই বাংলাদেশের প্রথম ভ্যাকুয়াম ব্লাড কালেকশন টিউব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। তাদের আশা, তিন বছরের মধ্যেই স্থানীয় চাহিদা পূরণে সক্ষম হবেন তারা।

এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য ‘রিং’ তৈরিরও পরিকল্পনা চলছে এএনসিতে। ইতিমধ্যে পারিপাশির্^ক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের প্রধান প্রধান মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব সরঞ্জাম। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির চিন্তাও করছেন তারা।

শীর্ষ কর্মকর্তারা যা বলেন

দেশে মেডিক্যাল সরঞ্জামের আমদানিনির্ভরতা কমাতে কাজ করার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. চৌধুরী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে ২০ হাজার কোটি টাকার মেডিক্যাল ডিভাইসের বাজারে রয়েছে। অথচ এই খাতে বড় শিল্পপতিদের বিনিয়োগ আগ্রহ কম। বাংলাদেশের মেডিক্যাল ডিভাইস সেক্টর সম্প্রসারণের জন্য এএনসি মেডিকেল ডিভাইস বিডি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।’

এএনসি বাংলাদেশের মেডিক্যাল ডিভাইস বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আত্মপ্রত্যয়ী প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মোস্তফা জামান। তিনি ঢাকা টাইমসকে, ‘এএনসি কারখানা আমাদের টানা চার বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফল। আমি আত্মবিশ্বাসী, এএনসি বাংলাদেশের মেডিক্যাল ডিভাইস বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আমাদের মূল লক্ষ্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্বমানের মেডিক্যাল এবং সার্জিক্যাল ডিভাইস তৈরি করা।’

মোস্তফা জামান বলেন, ‘জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি এএনসি এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এএনসি বাংলাদেশে নতুন তিন হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির কথা বিবেচনা করছে এএনসি।’

প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (উৎপাদন) ড. বিজয় কুমার শর্মার ভারতে ৩৭ বছর ধরে মেডিক্যাল সরঞ্জাম খাতে কাজের অভিজ্ঞতাধারী। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমার দীর্ঘ পেশাজীবনে ভারতের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছি। এএনসি মেডিক্যাল ডিভাইস বিডির মতো এমন আধুনিক এবং সুপার স্ট্রাকচার্ড মেডিক্যাল ডিভাইস কারখানা দেখিনি।’

(ঢাকাটাইমস/৭মার্চ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :