ঠাকুরগাঁওয়ে রহস্যময় আগুন, তদন্তে পুলিশ-দমকল বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও
| আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:২৫ | প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ২০:১৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিভৃত পল্লীতে রহস্যময় আগুনে ছয়টি পরিবারের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রতিদিন কমপক্ষে আট-নয়বার করে এ আগুন লাগে। এতে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। এ ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী চাড়োল ইউনিয়নের শিংপাড়া মুন্সিপাড়া গ্রামে প্রায় একমাস ধরে চলছে এ রহস্যময় আগুন লাগছে। পুড়ে যাবার ভয়ে ভুক্তভোগীরা ঘরের জিনিসপত্র বাইরে রেখে পাহারা দিচ্ছেন। অনেকে অজানা শঙ্কায় সন্তানদের আত্মীয়বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আগুন আতঙ্কে কাজে যেতে না পেরে দরিদ্র পরিবারগুলো অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সিরাজ উদ্দীনসহ কয়েকজন জানান, বিশ্বাস করেন আর না করেন- হঠাৎ করেই জ্বলে উঠছে কারো না কারো ঘরে আগুন। ঘরে আগুন, আলমারিতে আগুন, চালের ড্রামে আগুন, বিছানায় আগুন, কোরান শরিফেও আগুন লাগছে যখন-তখন।

বিলকিস বেগম নামে এক গৃহবধূ জানান, আগুনের হাত থেকে বাঁচতে ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

ইতোমধ্যে প্রশাসনের লোকজন একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ দমকল বাহিনী কাজ করলেও আগুনের সূত্রপাত শনাক্ত করতে পারছে না।

স্থানীয়রা এটাকে জীন-ভূতের কাণ্ড দাবি করে গ্রামে চাঁদা তুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে চারজন আলেমকে নিয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। তারপরও থামেনি।

এদিকে আগুন থেকে বাঁচতে গ্রামবাসী কয়েকটি জায়গায় বসিয়েছে বৈদ্যুতিক পাম্প। সকাল-দুপুর ও সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে লোকজন পাম্প চালু করে প্রস্তুত থাকছে আগুন নেভানোর জন্য।

সোমবার ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন সরজমিনে ওই গ্রামে যান এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। এ সময় বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েলও উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টা হতে বিকাল ৫:৫০ মিনিট পর্যন্ত উপস্থিত ছিল বালিয়াডাঙ্গী থানার এএসআই মমিনুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ইউনিট। পুলিশ সদস্যরা সম্ভাব্য বাড়িতে অবস্থান নেয়। পুলিশ সুপার দীর্ঘ চার ঘণ্টা অবস্থানকালে আগুনের ঘটনা ঘটেনি।

তবে চলে যাওয়ার পর দেলোয়ার হোসেন ও মকসেদ আলীর ঘরে আগুন ধরে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা আগুন প্রত্যক্ষ করেন এবং ভিডিও ধারণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন জানান, চাড়োল ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে আগুনের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসন কাজ করছে। পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে আগুনের রহস্য খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিবির তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা রয়েছে। তারপর আগুনের ঘটনা ঘটলে ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৭এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :