প্রতিবাদ সমাবেশ বুধবার

সাংবাদিক রোজিনাকে নির্যাতন ও গ্রেপ্তার: ডিআরইউর তীব্র নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ১৭:৪৩ | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০২১, ১৭:৪১

দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক, মুক্ত ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে তার দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং স্টাফরা মিলে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে নির্যাতন, হয়রানি, হেনস্তা ও শ^াসরোধ করে হত্যা প্রচেষ্টার পর ‘তথ্য চুরির’ অভিযোগ এনে শাহবাগ থানার পুলিশে হস্তান্তর করে। এমনকি কোনো প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই অসুস্থ রোজিনা ইসলামকে গভীর রাতে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, রোজিনা ইসলামকে পৈচাশিক নির্যাতন, নিপীড়ন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাকরুদ্ধ এবং সাংবাদিকদের কলম থামানো যাবে না। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম আরও সোচ্চার থাকবে।

তারা বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর হামলা ও নির্যাতনের যে চিত্র ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে- তাতে নিশ্চিত করে বলা যায়, রোজিনা ইসলামের দুর্নীতি বিরোধী সাংবাদিকতার ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ব্যক্তিগতভাবে অবৈধ সুবিধা হারাচ্ছেন। একারণেই এমন ন্যাক্কারজনক ও সুপরিকল্পিত নির্যাতন ও হেনস্তা করা হয়েছে। ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লাগামহীন দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম, কোভিডকালিন কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়মসহ সার্বিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে রোজিনা ইসলাম যে সংবাদগুলো প্রকাশ করেছেন তার ফলশ্রুতিতেই তিনি এই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার। এই ঘটনায় কোনভাবেই স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও সচিব দায় এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ।

ডিআরইউ মনে করে, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘শূন্য সহিষ্ণু বা জিরো টলারেন্স’ নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক এবং এই ঘটনা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে আরো বেপরোয়া ও ভয়হীন করে তুলবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার হয়রানি শুধু ব্যক্তি রোজিনার ওপরই হামলা নয় বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপর চরম আঘাত। রোজিনা ইসলামের ওপর এই নির্যাতন, মামলা, গ্রেপ্তার মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।

অতি দ্রুত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, বিতর্কিত ‘অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’সহ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এমনসব কালাকানুন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি না দিলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি।

এদিকে ডিআরইউ এর অপর একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোজিনা ইসলামকে অবৈধভাবে নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বুধবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ডিআরইউ চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বরাবর রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। ডিআরইউ সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান ডিআরইউ ঘোষিত উপরোক্ত কর্মসূচি সফল করার জন্য সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকাটাইমস/ ১৮ মে/আরএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :