দেড় বছর পর খুলল ঢাবির গ্রন্থাগার

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০৭ | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৪৩
ভ্যাকসিন গ্রহণের টিকা কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকাটাইমস।

করোনা মহামারিতে বন্ধ হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি খুলল প্রায় দেড় বছর পর। স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে রবিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিজ্ঞান লাইব্রেরিসহ বিভাগীয় সেমিনারগুলো স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

এদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয় লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ। অন্তত এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ টিকা কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। গ্রন্থাগার ও সেমিনার গ্রন্থাগারগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে৷ একই শর্তে এই দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে হলে তোলা হবে।

আজ থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন (রবিবার-বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ও বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সেমিনার গ্রন্থাগারগুলো খোলা থাকবে। তবে এ পর্যায়ে সেখানে শুধু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পেলেও ধাপে ধাপে অন্যান্য বর্ষের শিক্ষার্থীরাও পড়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে দীর্ঘ সময় পর লাইব্রেরি খুলে দেওয়ায় খুশি শিক্ষার্থীরা। কিন্তু, লাইব্রেরিতে অবস্থানকালীন সময়সীমা নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। এছাড়াও সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে সুযোগ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে।

সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের আগমন কম ছিল। এসময় লাইনে দাঁড়ানো রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী সাদেকিন প্রিন্স ঢাকা টাইমসকে বলেন, লাইব্রেরি খুলে দেওয়ায় আমরা খুশি এবং আমাদের ভালো লাগছে। এতদিন বাসায় পড়তে অসুবিধায় হয়েছিল। এখন সেই সমস্যাটা সমাধান হয়ে গেছে। তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে আগের সময় অনুযায়ী লাইব্রেরির সময়টা যেন ঠিক করা হয়। আমরা চাই সকাল ৮ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকুক। এতে করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে পারবো।

অন্যদিকে বিজ্ঞান লাইব্রেরিতে নিয়ম ভেঙে শিক্ষার্থীরা ১০টার আগেই ভেতরে প্রবেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রক্টরের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরির সময়সীমা আগের মতো করার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান প্রক্টর। এছাড়াও লাইব্রেরির বাইরে থাকা টেবিল চেয়ার দ্রুত না সরানোর আবেদনও জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা তাদের প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করবো। আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ যেটা দেখেছি তা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা তাদের বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তে যাব।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/আরএল/ ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :