সুইস পাহাড়ের কোলে

রেজাউল মাসুদ
 | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৪:১৮

সুইজারল্যান্ড! জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই শুনে এসেছি দেশটার কথা। শুনে এসেছি এখানে এসে নাকি প্রকৃতির নেশায় ঘোর লেগে যায়। সেই নেশায় আমেজ বাড়ায় বরফ-ঢাকা পাহাড়। নীল জলের সরোবর। সুইস চকোলেট আর সেখানকার ষোড়শীর চাহনি পৃথিবী বিখ্যাত।

একদিকে মখমলের মতো সবুজ ঘাসে ঢাকা উপত্যকা। তার পাশ দিয়ে ছুটছে আমাদের ইতালীর রোম থেকে মিলান হয়ে সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরের দিকে কু-ঝিকঝিক ট্রেন। বিলাসের দিক থেকে এই দেশ ইউরোপের অন্য শহরের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর পাস ছিল আমাদের কাছে। তার বিলাসিতার কাছে লজ্জা পেয়ে যাবে আমাদের দেশের ফাইভ তারা-আটা হোটেলও। উপত্যকার উল্টোদিকে লেক। তার জল স্বচ্ছ স্ফটিকের মত। লেকের ধার থেকে আকাশের দিকে উঠে গিয়েছে যে পাহাড়, বহুদূরে তার মাথায় চিকচিক করছে সাদা বরফ।

আকাশের যে রং তার বর্ণনা দেওয়া সত্যিই অসম্ভব। অনেক ধরণের নীল রং দেখেছি। কিন্তু, সেই দিন আকাশের সেই রং, সবদিনের চেয়েই আলাদা। চোখ তুলে আকাশে চাইলে কোনও এক অপূর্ব প্রসন্নতায় মন ভরে যায়। আমাদের ট্রেনের গতি ছিল ৩০০ কিমি এর উপরে তাই পথের বা দূরের ছবি তুলা রেখে শুধু উপভোগ করতেছিলাম, শুধু ভাবছিলাম এত সুন্দর দেশ, এত সুন্দর জায়গাও দুনিয়াতে থাকতে পারে!

সুইজারল্যান্ডের একেবারে দক্ষিণে এই শহর। বাসেল চট্টগ্রামের চেয়েও ছোট, কিন্তু ওরকমই পাহাড়ে ঘেরা। দূষণহীন বাসেল শহরের বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধুই ব্যাটারি চালিত গাড়ি চলে। রাস্তায় কণামাত্র ধুলো নেই। আর হানিফ সংকেতের ইত্যাদি তে দেখানো সুইজারল্যান্ডের বাসেল শহরের এমন একটা জাংয়গা যেখানে ফ্রান্স আর জার্মানী একত্রে মিলিত হয়ে ত্রি সংযোগ তৈরি করছে। বড় বড় শপিং সেন্টারে পৃথিবীর সমস্ত তাবৎ নামীদামী সংস্থার জিনিষ পাওয়া যায়। রয়েছে একের পর এক ঘড়ির দোকান। সুইস ঘড়ি পাওয়া যায় বাংলাদেশি মুদ্রায় দশ হাজার টাকাতেও। কোটি টাকা দামের ঘড়িও রয়েছে।

(চলবে...)

লেখক: রেজাউল মাসুদ, বিশেষ পুলিশ সুপার, সিআইডি

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :