বাঁশখালীতে আগাম টমেটো চাষে লাভবান কৃষকরা

রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
 | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৭

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলী এলাকার মানুষের কাছে আগাম টমেটো চাষ যেন ভাগ্য বদলের স্বপ্ন। বর্ষা শেষে শত প্রতিকূলতার বাধাকে অতিক্রম করে শীতের আগমনীতে বাজারজাত করে অতিরিক্ত দাম পাওয়ার আশায় আগাম টমেটো চাষ যেন এই উপকূলীয় এলাকার মানুষের লালিত স্বপ্ন। সারাদেশে এই আগাম টমেটোর কদরও রয়েছে বেশ। তবে ফলন ভাল না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষকরা। হারিয়ে ফেলে নিজেদের সর্বস্ব মূলধন। তারপরও অতি লাভের আশায় আগাম টমেটো চাষকে সাদরে বরণ করে নিচ্ছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গণ্ডামারা, সরল, শিলকূপ, চাম্বল বৈলছড়ি, পুইঁছড়ি, বাঁহারছড়া ও খানখানাবাদ উপকূলীয় এলাকাজুড়ে টমেটো আর টমেটো ক্ষেত। গ্রামের প্রতিটি ধানক্ষেত এখন টমেটো ক্ষেতে রূপ নিয়েছে। চারদিকে প্লাস্টিকের কালো কাগজে মোড়ানো টমেটো ক্ষেতগুলোতে ঢুকে দেখা যায়। সারি সারি গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে টমেটো। প্রতিটি গাছের মাঝখানে দুই ফিটের দুরত্ব। একটু এদিক-সেদিকও নয় সব যেন এক সমান। আবার প্রতিটি গাছ মাটি থেকে চার থেকে পাঁচ ফুট উঁচু। এই যেন চাষিদের হাতে বুনা কারুকাজ।

আরও দেখায়, বাজারে এই আগাম টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় চাষিরা তড়িঘড়ি করে ছিড়ছে টমেটো। একটু হলদে হলেই নাকি হয়ে যাবে । যা বাজারে অনায়াসে কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দাম পাওয়া যাবে। হালকা পচে যাওয়া টমেটোগুলোও নাকি প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া চাষিরা ক্ষেত থেকে টমেটো তুলার আগেই ভিড় জমিয়েছে পাইকারি ক্রেতারা। শহরগুলোতে এই টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকায় দুর দুরন্ত থেকে ছুটে এসেছে তারা। কোন রকম দর কষাকষি ছাড়া নগদ টাকা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে টমেটো। এমন চাহিদা থাকায় চাষিরাও বেশ খুশি।

উপজেলার গণ্ডামারা হাদির পাড়া গ্রামের চাষি গিয়াস উদ্দীন বলেন, তিনি এবার ৩৩ শতক জমিতে আরলি এবং দুর্জয় জাতের টমেটো চাষ করেছেন। টমেটোর খেতকে রোদের তাপ ও বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেকের দেওয়া পরামর্শ কাজে লাগান তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও ড্রইং ডিজাইন অনুসরণ করে বিশেষ সেড ঘরে চারা গাছ তৈরি করার পর একদিকে ২২ ইঞ্চি অন্যদিকে ২৭ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করি। যা দুই মাসেরও অধিক সময় পর ফল দেয়। সবমিলিয়ে তার ৩৩ শতক টমেটো ক্ষেতে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

তিনি আরও বলেন, বাজারে ভাল টমেটোগুলো কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হালকা পচা, টকো টমেটোগুলোও ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হয়। বর্তমানে আমার এই ক্ষেত থেকে ৭৫ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করেছি। যার সবগুলো বাজারে গিয়ে খুচরা বিক্রি করা। এবং তিনি এই ক্ষেত থেকে আরও ৫ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি । বাজারের ব্যাপক চাহিদা ও অতিরিক্ত দাম পাওয়ায় আগামী বছর আরও কয়েক শতক জায়গায় টমেটো চাষ করবেন বলেও জানান তিনি।

চরপাড়ার চাষি আবুল কালাম জানান, তিনি ৩৮ শতক জায়গায় ১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টমেটো চাষ করেছেন। এখন গাছে টমেটো পাকতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ১/২ মণ টমেটো বিক্রি করি। যার বাজার মুল্য চাহিদার চেয়েও বেশি। তবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, বাঁশখালীতে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে আরলি ও দূর্জয় জাতের টমেটো চাষ করা হয়েছে। বাজারে এই সবজির ব্যাপক চাহিদা ও অতিরিক্ত দাম থাকার কারণে কৃষকরা আগাম টমেটো চাষে ঝুকছেন। এতে কৃষকরা বেশ লাভবানও হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষে থেকে নিয়মিত চাষিদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্য উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদান করছেন বলেও জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৮নভেম্বর/এলএ/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :