আ.লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয়: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:৪৬ | প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:০৬

দলের কোনো নেতার বিরুদ্ধে অনৈতিকতা বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলে আওয়ামী লীগ করার আর সুযোগ থাকবে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া দলে কেউ অপরিহার্য নয়।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নতুন কমিটির অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হানিফ বলেন, আমরা সংগঠন করি। তাই নীতি-নৈতিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা সমাজের প্রতিনিধিত্ব করি। সমাজের প্রতি আমাদের দায় আছে। মানুষ প্রত্যাশা করে, যারা দায়িত্বশীল পদে থাকে তারা ভালো কাজ করবে, ভালো কথা বলবে। কিন্তু আমরা অনেক সময় নৈতিকতার স্খলন দেখি।

হানিফ বলেন, কিছুদিন আগে গাজীপুরের মেয়রকে কিন্তু অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। ডা. মুরাদ হাসানকে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তাকে সরানো হয়েছে। সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা পরিষ্কারভাবে দেয়া হচ্ছে, আওয়ামী লীগের জন্য শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো ব্যক্তি অপরিহার্য নয়। আমি অবাক হয়ে যাই যে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন নিম্নরুচির কথাবার্তা কীভাবে বলেন! জনগণ এটা শুনতে চায় না।

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, ডা. মুরাদ হাসান অত্যন্ত নিম্নমানের রুচিহীন কথা বলেছেন। আমি অবাক হয়ে যাই, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে কিভাবে এসব বলেন? আমরা যারা দল করি, এরকম রুচিহীন ব্যক্তি যার মধ্যে নিম্নতম রুচিবোধ নেই, অশ্লীল কথা বলে। এরকম ব্যক্তি সাংগঠনিক কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকার কোনো সুযোগ নেই, তিনি সেই সুযোগ হারিয়েছেন। সংগঠনের যেই পদে থাকুক না কেন সেই পদ থেকে অপসারণের জন্য আগামী কার্যনির্বাহী সভায় তাকে অপসারণের সুপারিশ করবো।

বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি নেতারা নাটক করছেন উল্লেখ করে হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবতা দেখিয়ে কারাবাধির বাইরে গিয়ে খালেদা জিয়াকে নির্বাহী ক্ষমতায় বাসায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। দণ্ড স্থগিত রেখে তার চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছেন। পৃথিবীর কোথাও কয়েদিকে এমন সুযোগ দেয়ার নজির নেই। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন তাকে বিদেশে পাঠাতে হবে।

আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে সকাল-বিকাল বিএনপি নেতারা প্রেসক্লাবের সামনে অযৌক্তিক দাবি তুলে বক্তব্য করছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিদেশে চিকিৎসা দেশের আইনের মধ্যে পড়ে না। প্রতিদিন প্রেসক্লাবের সামনে নাটক দয়া করে বন্ধ করুন। দণ্ড স্থগিত অবস্থায় কেউ দেশের বাইরে যেতে পারে না। একমাত্র দণ্ড মওকুফ হলে তিনি বিদেশে যেতে পারেন। দোষ শিকার করে রাষ্টপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে। রাষ্ট্রের অভিভাবক দয়ালু মানুষ। তিনি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেন, কারো দয়ায় বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। আমরা যুদ্ধ করে বঙ্গবন্ধুর নিদেশে দেশ স্বাধীন করেছি। এই স্বাধীনতার জন্য জাতির পিতার ২১ বছরের আন্দোলনের পথ মসৃণ ছিলো না। ১৩ বছর বিভিন্ন জায়গায় কারাবরণ করেছেন। '৬৬ সালের ছয় দফার ঘোষাণার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সোপান রচিত হয়েছিলো। রেসকোর্স ময়াদানের ১৯ মিনিটের ভাষণে তিনি বাঙালিকে জাগিয়ে তুলেছেন। স্বাধীন, আত্মমর্যাদাশীল বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ড ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিলো না। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিলো একাত্তরের চরম প্রতিশোধ।

আওয়ামী লীগের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ৫০ বছরের মাথায় দাঁড়িয়ে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো নেতা নেই। আ.লীগ বা অন্য দল, কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বেই আমরা সোনার বাংলা গড়বো।

তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়নের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ। এসময় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি আবারো অস্বাভাবিক চিন্তা শুরু করেছে। তারা পেছনের দরজায় দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জাতির জনকের কন্যা বলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছেন, চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধয়মে আমরা স্বাধীনতা অজন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র ছিলো। এখনও বাংলদেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের সবাইকে এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কাজিম উদ্দিন বলেন, দেশে তিতাসের লাখ লাখ গ্রাহকের অবৈধ সংযোগ রয়েছে। তিতাসে কমকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ সংযোগ দেয়ার সাথে জড়িত নয়। তিতাসকে বাঁচাতে এসব অবৈধ সংযোগ বন্ধ করতে হবে। তিতাস বিলীন হওয়ার পথে রয়েছে। তিতাসকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. হারুনুর রশীদ মোল্লাহ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কাযকরী সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক এইচএম মোতালেব প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তিতাস গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক আয়েজ উদ্দিন।

(ঢাকাটাইমস/৭ডিসেম্বর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :