আমাকে পরাজিত করতে সব পক্ষই এক হয়েছে: আইভী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:০৭

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, তাকে পরাজিত করার জন্য অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে কাজ করছে। সেই পক্ষটি ঘরের হতে পারে আবার বাইরেরও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে গেছে কিভাবে আমাকে পরাজিত করা যায়, কিভাবে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যায়। কারণ সবাই জানে আমর বিজয় সুনিশ্চিত।’

শুক্রবার বেলা ১২টায় নগরীর দেওভোগ এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইভী এসব কথা বলেন।

আইভী বলেন, ‘সার্কিট হাউজ আর ডাক বাংলাতো কারা থাকছেন সেটা আমার জানা নেই। কিন্তু নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনেকেই আসেন। সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হতে পারে। অথবা অন্য কেউ হতে পারে। এই ব্যাপারে আমার জানা নেই কারা আসছে আর কারা থাকছে।’

মেয়র পদের এই নৌকা প্রার্থী বলেন, ‘বহিরাগতদের দিয়ে আমি নির্বাচন করছি বলে উনি (তৈমূর আলম) কী বুঝাতে চাচ্ছেন সেটা আমার জানা নেই। আমি সবসময় বলেছি জনতাই আমার শক্তি, আমার আগের নির্বাচনের ট্রেডিশন আমি মানুষের কাছেই যাই। বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচন করবো কেন? যেখানে আমার ভিত্তি হলো জনগণ। উনি কাকে বুঝাচ্ছেন জানি না, আমার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, আমি রূপগঞ্জের নই যে বহিরাগত কাউকে আনবো।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের শক্তি ব্যবহার করে, প্রশাসনকে কব্জা করে ১৬ তারিখে বিজয়ী হতে হবে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় লিডার নির্বাচনে একটা দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্রীয় লিডাররাও জানে আইভী কিভাবে রাজনীতি করে, কিভাবে ভোটারদের কাছে যায়। যদি তারা না জানতো তাহলে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা দিতেন না। প্রধানমন্ত্রীও জানেন উনার আইভী মানুষের ধারের কাছে যায়। সুতরাং কেন্দ্রীয় লিডাররা আসতেই পারে, তারা খোঁজ নিতেই পারেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কী করছে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, ঢাকার পাশেই নারায়ণগঞ্জ। একটি উৎসব মুখর পরিবেশে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা আসতেই পারেন। আমার প্রতিপক্ষ যারা আছেন তাদেরও কিন্তু প্রচুর লোক এখানে আসে। তারা হয়তো নিরবে করছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে শাখাওয়াত ভাইয়ের পক্ষে অনেক কেন্দ্রীয় লিডার এসেছেন।

আইভী বলেন, তৈমূর আলম আমার ছোটবেলা থেকেই চাচা হন। আমার জন্মের পর থেকেই উনি আমাকে দেখে আসছেন। তৈমূর আলম আমার বাবার কর্মী ছিলেন। উনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ও বোঝাপড়াটা অনেক আগের। নির্বাচনের যুদ্ধের ময়দানে হয়তো আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী।

আমি সবসময় সহিংসতার বিপক্ষে উল্লেখ করে আইভী বলেন, আমার পক্ষ থেকে কোনো সহিংসতা হবে না। সহিংসতা করবে আমার ওই ধরনের কোনো বাহিনীই নাই এবং আমি কোন দিন সহিংসতা করিও নাই। কিন্তু সহিংসতা হলে আমার ক্ষতি হবে। আমার ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে পারবে না।

আইভী বলেন, একটি পক্ষ সহিংসতা চাচ্ছে। আমার নির্বাচনী যেখানে সবচেয়ে বেশি জমজমাট সেই জায়গাগুলির মধ্যে হয়তো কেউ সহিংসতা করে ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দিতে পারে। প্রশাসনকে বরাবরই বলে আসছি ভোটের দিন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। আমার নারী ভোটাররা যেন আসতে পারে, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা যেন আসতে পারে। কারণ আমি জানি এই ভোটগুলো আমার এবং আমি নির্বাচনে জিতবো ইনশাআল্লাহ। সুতরাং আমার বিজয় সুনিশ্চিত যেনে কেউ যদি সহিংসতা করে তাহলে এটা ঠিক হবে না।

যেই প্রতিপক্ষটি সহিংসতার চেষ্টা করছে তারা কি আপনার ঘরের পক্ষ নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ- এমন প্রশ্নের জবাবে আইভী বলেন, যারা বাধা দেয় বা সহিংসতা করে তারা একটা সময় এক হয়ে যায়। এখানে আপন আর পর কি, এখানে নির্বাচনটা হচ্ছে আইভী বনাম অনেক কিছু। সেই ক্ষেত্রে অনেক পক্ষ হতে পারে।

আইভী বলেন, আমি আমার জায়গাতেই আছি, প্রথম দিকে যা বলেছি এখনো তাতেই আছি। বারবার বলছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন শতর্ক থাকে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, স্বভাবিক হয়, কোথাও কোনো কেন্দ্র যদি বন্ধ না হয় তাহলে আমি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো এবং এটা আমার চাচা তৈমূর আলম নিজেও জানেন।

আইভী বলেন, আমি খুব শক্ত এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। আমার সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। আমাকে দূর্বল করা এত সহজ নয়। আমি কোনো কিছুতেই দূর্বল হবো না।

কেন্দ্রীয় নেতারা প্রশাসনে কী ধরনের আলোচনা করেছেন সেটা জানি না উল্লেখ করে আইভী বলেন, আমার যারা নেতা আছেন, যারা ঢাকা থেকে এসেছেন তারা জানেন আমার সম্পর্কে। নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেছেন আইভী কোন অবস্থানে আছেন। আমার নেতৃবন্দ আমার বিজয় নিয়ে কখনই শঙ্কিত ছিলেন না।

আইভী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা কাউকে প্রভাবিত করছে- এই কথাটা সঠিক না। উনারা (কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ) অন্য কারণে এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। নিজ দলের কাউকে নজরদারিতে রেখেছে কিনা এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, তা বলবোনা। কিন্তু কেন্দ্র কী করছে সেটা কেন্দ্রই ভালো বলতে পারবে।

প্রত্যেকটি নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং ছিল জানিয়ে আইভী বলেন, প্রতিটা নির্বাচনে একেক রকম চরিত্র ছিল। এবারের নির্বাচনও অনেক চ্যালেঞ্জিং সেটা বিভিন্ন কারণেই। কিন্তু এটা আমার শেষ নির্বাচন কিনা সেটা এই মুহূর্তে বলতে পারবো না।

প্রত্যাশিত নগরীর শেষ নাই। আপনি যতো দেবেন ততই চাহিদা বাড়বে। নতুন প্রযুক্তি আসছে, নতুন কিছু চাচ্ছে মানুষ। আমাদের নারায়ণগঞ্জ অনেক পুরনো ও অনেক ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহর। তারপরও চেষ্টা করছি ইট-পাথরের এই শহরকে সবুজায়ন করারা।

(ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :