ভোটে জিতেই রাজনীতিতে অভিষেক আইভীর

মোমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ
| আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩৫ | প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ২০:৩১

স্বাধীনতার আগ থেকেই নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের পাশে ছিল চুনকা পরিবার। মানুষের যেকোনো বিপদেই পাশে দাঁড়াতেন এই পরিবারের কর্ণধার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলী আহম্মদ চুনকা। যার ফলে স্বাধীনতার পরে অনুষ্ঠিত প্রথম পৌর নির্বাচনে পৌরপিতা নির্বাচিত হন তিনি। বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে চুনকা কন্যা সেলিনা হায়াৎ আইভীও টানা ১৮ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের নগর পিতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মূলত ভোটে জিতেই রাজনীতিতে অভিষেক হয় আইভীর।

রাত পোহালেই রবিবার নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এবারের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে লড়ছেন আইভী। হাতি প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৮৫ সালে আইভীর বাবা আলী আহম্মদ চুনকা মারা যান। সেই বছরই রাশিয়া সরকারের বৃত্তি নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনার জন্য ওডেসা পিরাগোব মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন আইভী। ১৯৯২ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরে দেশে ফিরে এসে ঢাকার মিডফোর্ট হাসপাতালে ইন্টার্ন করেন তিনি।

১৯৯৩ সালে আইভী শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে এলেও তিনি তখন তেমন কোনো সাড়া ফেলতে পারেননি। তবে নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আইভী আলোচনায় আসেন।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করে। ২০১১ সালে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হয়েছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন আইভী। ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনার মধ্যেই ভোটের একদিন আগে তৈমুর আলম খন্দকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে লক্ষাধিক ভোটে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হয়। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে আইভীকেই বেছে নেয়। তিনি বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে ৮০ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী না দিলেও অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে আইভীকে। নারায়ণগঞ্জের আরেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রকাশ্যে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছে। এতে দলীয় ভোট পুরোটা শেষ পর্যন্ত টানতে পারবেন কি না সেটাও তার জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয়।

স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ওসমান পরিবার ও চুনকা পরিবারের দ্বন্দ্ব স্বাধীনতার আগ থেকেই। যার বিহিত হয়নি এখনো। ভোটের লড়াইয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আইভী তার ব্যক্তি ইমেজ দিয়ে পার পাবেন বলেই ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

অতীতের মতো এবারের ভোটেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি বলেন, ‘মানুষের কাজ করেছি, মানুষের কল্যাণে কাজ করেছি। মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। এই শহরের মানুষের কাছে আমার কোনো চাওয়া-পাওয়ার সম্পর্ক নেই। তাই নৌকা ডুববে না। ইনশাআল্লাহ নৌকা এই শহরের মানুষ ভাসিয়ে রাখবে। নৌকার পালে কিন্তু হাওয়া লেগেছে।’

(ঢাকাটাইমস/১৫জানুয়ারি/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :