চাঁদপুরে ইলিশের প্রধান আড়ৎ ফাঁকা, হতাশ ব্যবসায়ীরা

শওকত আলী, চাঁদপুর:
| আপডেট : ০৬ মে ২০২২, ১৯:১৫ | প্রকাশিত : ০৬ মে ২০২২, ১৯:০৮

চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় এখন ইলিশের ভর মৌসুম চলছে। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে জাটকা রক্ষায় নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন মৎস্য অধিদপ্তর থেকে নিষিদ্ধ করে দিয়ে নদীতে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এ সময় অনেক জেলেকে আইন অমান্য করায় জেল-জরিমানা করা ও তাদের ব্যবহৃত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধংস করে ফেলা হয়।

এ ২ মাস জাটকা ইলিশ বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণ ইলিশে রূপান্তর হওয়ায় ও ইলিশ বেড়ে ওঠার জন্য এ সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন সে সময় পার হলেও নদীতে কোনো ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেরা হতাশায় দিন পার করতে হচ্ছে। আর চাঁদপুরের ইলিশ আড়তের আড়ৎদার, দাদনদার মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা এখন হতাশায় দিন কাটাতে দেখা যাচ্ছে।

ইলিশের রাজধানী নামে খ্যাত চাঁদপুরের বড় স্টেশন প্রধান ইলিশের আড়ৎগুলো এখন ফাঁকা। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের আমদানি কম থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন শত-শত মৎস্য ব্যবসায়ী। তবে স্বল্প সংখ্যক ইলিশ আমদানি হলেও দাম অনেক চড়া। যা’সাধারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। অন্যান্য বছর মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের পর ইলিশ ধরা পড়লেও এবছর নদী থেকে জেলের ফিরছেন খালি হাতে। যে কারণে সরগরম থাকা ইলিশের আড়ৎগুলোতে এখন সুনসান নিরবতা।

শুক্রবার (৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে ঘাটের পন্টুনে কোনো মাছের ট্রলার নেই। শ্রমিকদের সংখ্যাও খুব কম। মাত্র কয়েকটি আড়তে বসে আছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কর্মচারী। কয়েকটি আড়তের সামনে সামান্য সংখ্যক ইলিশ বরফ দিয়ে বিক্রির জন্য বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য প্রজাতির মাছের আমাদানি না থাকায় কোন খুচরা ব্যবসায়ীর দেখা মেলেনি।

ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা সোলাইমান বলেন, অধিকাংশ আড়ৎ বন্ধ। কয়েকটিতে স্বল্প সংখ্যক ইলিশ আছে দাম খুব বেশি। যে কারণে ইলিশ কিনতে পারেনি।

মেসার্স তাজুল ইসলাম ভুঁইয়া আড়তের ব্যবসায়ী দিদার হোসাইন বলেন, ইলিশের আমদানি কম থাকায় ও দক্ষিণ অঞ্চলের জেলা থেকে আমদানি করা বড় সাইজের কয়েকটি ইলিশ বিক্রির জন্য বসে অপেক্ষোয় আছেন। প্রতিটি ইলিশ ওজনে দুই থেকে আড়াই কেজি। প্রতি কেজির মূল্য ২৫০০ টাকা।

মেসার্স মিজানুর রহমান কালু ভুঁইয়া মৎস্য আড়তের ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন, ইলিশের আমদানি খুবই কম। আজ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রাকে করে এবং চাঁদপুরের লোকালসহ সবগুলো আড়ৎ মিলিয়ে ১৫-২০ মণ ইলিশ আমদানী ও বিক্রি হয়েছে। দাম অনেক বেশী। ১ কেজি ২শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার টাকা মণ। ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণ ৭০ হাজার টাকা, ৫শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিমণ ৪০ হাজার টাকা এবং আড়াইশ থেকে ৪শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকা।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমেটড এর সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শবে বরাত বলেন, আমাদের লোকাল পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ নাই বললেই চলে। স্থানীয় ইলিশ খুব কম সংখ্যক আমদানি হচ্ছে। প্রতিদিন ১০-২০ কেজি ইলিশ বিক্রির জন্য আসে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা। ৭শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা, ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৮শ’ টাকা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আড়ৎগুলোতে মাঝে মাঝে চট্টগ্রাম ও হাতিয়া থেকে কিছু ইলিশ আমদানি হয়। এখন ইলিশের মৌসুম পুরোপুরি না। যার কারণে ইলিশ নেই। সামনে ভরমৌসুমে আশা করছি জেলেরা ইলিশ পাবে, তখন আমদানিও বাড়বে। চাঁদপুর শতাধিক আড়ৎ জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তখন ক্রেতারা কমদামে ইলিশ ক্রয় করে নিতে পারবে ও তাদের চাহিদা পূরণ হবে। এখন আমাদের অবসর সময় পার করতে হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/৬মে/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :