ভারতে ধর্ষণ মামলায় টিকটক হৃদয়সহ ৭ বাংলাদেশির যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ মে ২০২২, ১৯:১৫ | প্রকাশিত : ২১ মে ২০২২, ১৫:৫৬

ভারতে এক বাংলাদেশি তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। তাদের মধ্যে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়াদের একজন বাংলাদেশি টিকটকার হৃদয় বাবু। যিনি গত বছর ভারতে এক নারীকে পাচার করে ধর্ষণ ও নির্যাতনের একটি ভিডিওতে আলোচনায় আসেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার এক রায়ে গণধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে চাঁদ মিয়া, মোহাম্মদ রিফাদুল ইসলাম ওরফে হৃদয় বাবু ওরফে টিকটক হৃদয়, মোহাম্মদ আলামিন হোসেন, রকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ বাবু শেখ, মোহাম্মদ ডালিম ও আজিম হোসেনসহ ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

এ ছাড়া, ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে তানিকা খানকে ২০ বছর এবং মোহাম্মদ জামাল নামে দুজনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরও দুই নারী আসামিকে ৯ মাস করে লঘু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ মামলায় এক ভারতীয় অভিযুক্ত থাকলেও তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ১৮ মে ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণী বেঙ্গালুরুতে নির্যাতন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ভারতজুড়ে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। এরপর ১২ জনকে অভিযুক্ত করে স্থানীয় আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বেঙ্গালুরু পুলিশ। তাঁদের সবাই বাংলাদেশ থেকে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে অবৈধভাবে বাস করছিলেন।

সেসময় পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, কেরালা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই ঘটনায় হৃদয়সহ পাঁচজনকে আটকের বিষয়ে জানতে পেরেছেন তারা। আটকদের একজন হৃদয় বাবু ওরফে টিকটক বাবু। তিনি ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা। নির্যাতনের শিকার মেয়েটিও ওই এলাকার বাসিন্দা। ওই ঘটনায় মেয়েটির বাবা মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি আইনে হৃদয় বাবুসহ পাঁচজনকে আসামি করে হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

এদিকে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর নির্যাতনের ওই ঘটনাস্থল খুঁজে বের করে ভারতের পুলিশ। তারা জানায় বেঙ্গালুরুর কনাকা নগরে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিসিপি (অপরাধ) এসডি শরনাপ্পা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধর্ষণের শিকার তরুণীও বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতের কেরালায় বসবাস করতেন। শুরুতে এ ঘটনার বিচার কার্যক্রম নিয়ে তিনি কিছুটা সংশয়ে ছিলেন। তারপর পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি মামলা করেন। আলোচিত এ মামলাটি ১০০ দিনের বিচারিক কার্যক্রমের মধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২১মে/আরআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :