বড় দুই দলের দূরত্ব কি কমবে!

মোয়াজ্জেম হোসেন
 | প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২২, ০৮:৩১

সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৩ সালের শেষ সপ্তাহে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি (রোডম্যাপ) নির্ধারণের কাজে হাত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে ইসি সচিবালয়কে খসড়া প্রস্তুতের জন্য নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সামনের নির্বাচনকে ঘিরে দুই মেরুতে অবস্থান করছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই দলের মতভেদ আকাশ-পাতাল। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাচ্ছে। আর বিএনপি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে সিদ্ধান্তে অটল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কি থেকেই যাবে, নাকি তা নিরসনে কোনো পক্ষ উদ্যোগী হবে। তারা মনে করেন, আগামী নির্বাচন বিগত সময়ের নির্বাচনের চেয়ে আলাদা হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ একটি গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা কথাবার্তা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে। তারা এমন সময় বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলে যখন র্যা বের ও এর কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর দেশটির নিষেধ রয়েছে। যদিও তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কাজ করছে। তারপরেও সব পক্ষই চায় সবাই যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

এদিকে সামনের নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) যাচাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করেছে ইসি। বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও সাড়া দেয়নি দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইভিএমে ভোটের প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে যোগ দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং বিএনপিকে নিজ গরজেই ভোটে আসতে হবে।

আর বিএনপি এখনো ইভিএমে ভোটের বিষয়ে তাদের আপত্তি বহাল রেখেছে। ইসিতে নয়, সভা-সমাবেশ-বক্তৃতায় তাদের এই আপত্তির কথা জানিয়ে আসছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় সুষ্ঠু ভোটের জন্য আওয়ামী লীগের কাছে না সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইবেন তারা।

সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকাটাইমস কথা বলে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আমরা এই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে যাব না।’

নির্বাচনে না গেলে মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নে সালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা মাঠেই আছি। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে আমাদের মিটিং মিছিল অব্যাহত আছে। এছাড়া যেকোনো দুঃসময়ে আমরা মাঠে আছি। সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের পাশেও আমরা দাঁড়িয়েছি।’

বিশ্বের আর সব দেশের মতো বাংলাদেশে নির্বাচন হবে বলে তাদের দৃঢ়প্রত্যযের কথা জানান আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।

ঢাকাটাইমসকে সুজিত রায় নন্দী বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ না। পৃথিবীর সব দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় সেভাবেই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। তবে আমরা চাই দেশের সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। আর নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।’

নির্দলীয় সরকার ছাড়া বিএনপির নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণাকে পাত্তা দিতে চান না সুজিত রায় নন্দী। বলেন, ‘বিএনপি গত নির্বাচনেও বলেছে আসবে না। কিন্তু অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া প্রকাশ্যে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বললেও অন্যভাবে তাদের প্রার্থী দিচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের উদাহরণ দেন সুজিত রায় নন্দী, ‘কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করবে না বললেও তাদের দীর্ঘদিনের কর্মী দুজন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তারা (বিএনপি) অন্য আঙ্গিকে প্রার্থী দিচ্ছে। আর এ নির্বাচনের ফলাফল দেশবাসী দেখেছে। নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেয় যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আমরা কমিশনের কাজের ওপর সন্তুষ্ট। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। আমরা আশা করি সব দল এই নির্বাচনে অংশ নেবে করবে।’

(ঢাকাটাইমস/০২জুলাই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :