বাজারে নাভিশ্বাস: দাম বাড়ানো ‘ধান্দাবাজদের’ জেলে ভরা হোক, চাইছেন ব্যবসায়ীরাই

পুলক রাজ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৩৭

স্বস্তি মিলছে না রাজধানীর বাজারে। গত কয়েক সপ্তাহে নিত্যপণ্যের মূল্য ওঠানামা করছে। শেষমেশ আবার নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী ডিমের দাম। ৪০, ৪২, ৪৫, ৪৮- এভাবে বাড়তে বাড়তে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। আর ডজন ১২০, ১৩৫, ১৪৫ টাকা থেকে ১০ দিনে বেড়ে হয়েছে ১৫০ টাকা। নিত্যপণ্যের এই দাম বৃদ্ধিতে যেমন অসহায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে, তেমনি দাম বাড়ানো ‘ধান্দাবাজ’ ব্যবসায়ীদের জেলে ভরার দাবি জানপাচ্ছেন কুচরা ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও স্টেশন বাজার, ফার্মগেট, হাতিরপুল, রামপুরা বাজার, কলাবাগান, শুক্রাবাদ, এলিফ্যান্ট রোড, লালবাগসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে চাল, মুরগি, ডিম, সবজিসহ নিত্যপণ্যে নেই স্বস্তি। ১০ দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৬০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি মুরগি প্রতিকেজি ৩২০ থেকে ৩২৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮০ থেকে ২৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কচুর লতি কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আলু ৪০ টাকা কেজি, পটল ৬০ টাকা, শসা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, সিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা , কচুর মুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সবজি ভেদে দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ট্যাংরা মাছের কেজি ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা, শিং মাছ আকার ভেদে ৫২০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি, বোয়াল আকার বেধে ৪৯০ থেকে ৬২০ টাকা, পাঙাশ ১৯০ থেকে ২১৫ টাকা, কাতল মাছ ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকা, কই মাছের কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকা, শোল মাছ ৪২০ থেকে ৬১০ টাকা, তেলাপিয়া ২১০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট ৭২ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৮০-৮২ টাকা, ব্রি- আটাশ ৬০ টাকা, আমন ৬২ টাকা, কাটারিভোগ আতপ কেজিপ্রতি ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও চীন থেকে আমদানি করা আদা ১৫-২০ টাকা বেড়ে ১৪৫-১৬০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি ক্রেতা আমান উল্লাহ্ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মুরগির দামও অনেক বেড়েছে। কয়েক মাস আগেও ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনেছি। কিন্তু আগস্টের পর থেকে মুরগির দাম একবার কমে আবার বাড়ে। এভাবে বাড়তে বাড়তে এখন এক কেজি ১৮০ টাকায় কিনতে হয়েছে।’

মুরগি ক্রেতা মাহফুজ মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোটি কোটি মধ্যবিত্ত আছে। বাজারের অবস্থা দেখে আমি হতাশ। মুরগি মনে হচ্ছে এখন আর খাওয়া হবে না। যেভাবে দাম বেড়ে চলছে কেনা দায় হয়ে পড়েছে। এবং মুরগির পাশাপাশি সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। আমরা কেমন করে চলব?’

ক্রেতা মাহফুজ মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নজরে রাখতে হবে প্রতিটি বাজার। কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই বাজারে লাগামহীন সব পণ্যের দাম। যে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

হাতিরপুল এলাকার ক্রেতা শিমুল মিয়া ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার কোনো পণ্যে নেই স্বস্তি। চাল, ডিম, মাছ, মুরগি, সবজির বাজারে যেতেই মন চায় না। তার পরও যেতে হয়। ক্ষুধা নিবারণ তো করতে হবে। এই পেটের জন্য কতকিছু করতে হয়। কোনো পণ্যের দাম কমলে দেখা যায় এই পণ্য ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে। আমরা সাধারণ ক্রেতা বাজার মূল্য নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে গেছি।’

রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ডিমের দাম ধাপে ধাপে বেড়েছে। ১০ দিন আগে প্রতিটি ডিম পাইকারি কিনেছি ৯ টাকা ৫০ পয়সা করে। ২০০ ডিম ১৯০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। গত বুধবার থেকে ১০ টাকা ৭০ পয়সা প্রতিটি ডিম কিনতে হয়েছে। ২০০ ডিম কিনেছি ২১০০ টাকায়। এর মধ্যে গাড়িভাড়া তো আছেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাথে ক্রেতারা ঝগড়া করে। আর আমরা ঝগড়া করি পাইকারি ব্যবসায়ীদের সাথে। এ সমস্যা আর কতদিন থাকবে এটা আমার প্রশ্ন! ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের সকল ব্যবসায়ীদের অনুরোধ রইলো এসব ধান্দাবাজদের ধরে জেলে দেওয়া হোক।’

রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশন বাজারের ডিমের আড়ৎদার আলাউদ্দিন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা কি করব! মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে, মুরগিরও দাম বেড়েছে। এর জন্য মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ধাপে ধাপে। আমরাও চাই কমে বিক্রি করতে। কিন্তু খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ডিম নিয়ে এসব কাণ্ড হচ্ছে।’

ফার্মগেট এলাকার মুরগি বিক্রেতা সৌরভ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘যতদিন যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগির খাবারের দাম বেড়েই চলছে। মুরগির খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগি ও মুরগির ডিমের দামও বেড়েছে। মে-জুন মাসে মুরগির খাবারের ২৫ কেজির বস্তা ৫৮০ টাকা থেকে ৬৬০ টাকা করে কিনেছি। এখন বাড়তে বাড়তে ১১০০ টাকার উপরে। প্রায় ৫০০ টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা সোহান আহমদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মাছের দাম আর কমবে বলে মনে হচ্ছে না। নিত্যপণের দাম আগে কমতে হবে। ট্রাক ভাড়া কমতে হবে। তখন দেখা যাবে কতটুকু কমে বিক্রি করা যায়।’

(ঢাকা টাইমস/২৩ সেপ্টেম্বর/পিআর/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :