দেশের ইতিহাসে ১ মাসে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়নের রপ্তানি আয়

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৯:১৫

সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বরে পণ্য রপ্তানিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাণিজ্যে এক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই অঙ্ক দেশের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে বলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে।

রপ্তানিকারক ও ইপিবির সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থগিত থাকা রপ্তানি আদেশ আসতে শুরু করা এবং আগের বানানো পোশাক ক্রেতারা নিতে শুরু করার পাশাপাশি, কাঁচামালের বর্ধিত মূল্যের কারণে নভেম্বরে রপ্তানিতে এ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের অক্টোবরে ৪.৩৬ বিলিয়ন ডলার ও সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছিলো ৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত কয়েক মাস রপ্তানির গতিতে কিছুটা ভাটা থাকলেও অক্টোবরের পর নভেম্বরেও পজিটিভ গ্রোথ হওয়ায় সার্বিকভাবে চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ।

ইপিবির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ৫০৯ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার (৫.০৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের রপ্তানিকারকরা। এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে, সাম্প্রতিক বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা অনুসারে, ২০২১ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশ আবারও দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশ ছিল তৃতীয় অবস্থানে; সেবার বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে দেয় ভিয়েতনাম।

রপ্তানি বাণিজ্যে এই রেকর্ডের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। গত মাসে ৪৩৮ কোটি ডলারের বা ৪৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।

নভেম্বর মাসে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৬ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সর্বশেষ ডব্লিউটিওর বাণিজ্য পরিসংখ্যান পর্যালোচনা অনুসারে, ২০২১ সালে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক রপ্তানির ৮ শতাংশ বাংলাদেশের দখলে; যার মূল্য ৩৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০২০ সালের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এ নেমে এসেছে। ২০২১ এ বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির বাজারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ তুর্কিয়ের, ভারতের ৩ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার রয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ বাজারের সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৮ শতাংশের দখলের রয়েছে চীন; যার মূল্য ১৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে, দেশে পোশাক রপ্তানি খাতের বাইরে অন্যান্য অনেক খাত চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রত্যাশিত রপ্তানি আয়ে ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে এত বেশি হারে গ্রোথ হওয়ার কথা নয়।’ তবে রপ্তানি বাড়ার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এতদিন অর্ডার কম ছিলো এখন কিছুটা বাড়ছে। আবার অতীতে বর্ধিত কাঁচামালে তৈরি হওয়া পোশাক নভেম্বরেও রপ্তানি হয়েছে। যেমন আগে একটি জ্যাকেট আমরা বানাতাম ১২ ডলারে। কাঁচামাল সহ অন্যান্য কারণে একই পণ্য ১৬ ডলারে অর্ডার নেওয়া হয়েছে, যা রপ্তানি মূল্য বাড়িয়েছে।’

‘এর বাইরে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত হায়ার এন্ড এর পণ্য রপ্তানিও বাড়িয়েছে। যেমন আগে হয়তো ২০ ডলারের পোশাকই বানাত বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। কিন্তু এখন ৩০ ডলারের পোশাকের অর্ডারও নিচ্ছে, এটিও রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে মনে করছি।’

(ঢাকাটাইমস/০৩ডিসেম্বর/এমএইচ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :