সালথায় মিশ্র ফলবাগানে বিল্লাল খানের আয় বছরে ৩ লাখ

নুরুল ইসলাম, সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর)
 | প্রকাশিত : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪:৫০

অনাবাদি পতিত জমি লিজ নিয়ে নানা জাতের কয়েকটি আম-লিচু ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন অদম্য কৃষক বিল্লাল খান। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা সেই বাগানগুলোর ভিতরেই শাক-সবজি, পেঁয়াজ-রসুন, গম ও সরিষার চাষবাদ করছেন। একই মৌসুমে বাগানগুলোতে ফল আর নানা ধরনের ফসল শোভা পাচ্ছে। ফলনও হয়েছে ফসলি জমির চেয়ে অনেক ভালো। বাম্পার হওয়ার কারণে প্রতিবছর ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন উদ্যোক্তা বিল্লাল। ফলের বাগানে ফসল ফলানোর এমন দৃশ্য রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মোড়হাট গ্রামে গিয়ে দেখা যায় চারঘাটা সড়কের পাশে বাড়ি করার জন্য রেখে দেওয়া ২টি ভিটা ও গ্রামের মধ্যে রাস্তার পাশে দুই খণ্ড জমিতে আম-লিচু পেয়ারার বাগান করেছেন বিল্লাল। ইতোমধ্যে বাগানের গাছগুলো আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে। আর বাগানের ভেতরে সরিষার গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। পেঁয়াজ-রসুনের গুটি নামতে শুরু করেছে। কুমড়াগুলো বিক্রিয়ের উপযোগী হয়েছে এবং গমের শীষ বের হতে শুরু করেছে।

মোড়হাট গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক মো. দাউদ ঠাকুর বলেন, স্বল্প জমিতে অধিক ফসল পেতে সাথী ফসল চাষ করছেন বিল্লাল। তার বাড়ি পাশের ভাওয়াল গ্রামে হলেও তিনি আমাদের গ্রামে এসে পতিত জমিতে ফল আর ফসল ফলিয়ে চমক দেখাচ্ছেন। বাগানের মধ্যে ফসলের চাষ শুরু করার সময় গ্রামের মানুষ তাকে উৎসাহ দেয়ার বদলে পাগল বলেছে। বাগানের ভেতরের মাটিতে কেমন ফসল ফলাবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সমতল ভূমিতে একাধিক ফল ও ফসল ফলাতে হয়।

তিনি আরো বলেন, সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, বাগানের ফল আর ফসলের পরিচর্যা এবং দেখাশোনা তাকে একাই করতে দেখি। প্রতিদিন তিনি সকালে বাইসাইকেল চালিয়ে বাগানে আসেন, একা একা কাজ করে আবার চলে যান। শুধু মাঝে মাধ্যে অটোভ্যান নিয়ে এসে উৎপাদিত ফল আর ফসল বাড়িতে নিয়ে যান। তাই যারা একদিন তাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তারাই এখন বিল্লালের মত বাগানের মধ্যে ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন। সেজন্য তার কাছ থেকে পরামর্শও নিচ্ছেন।

সংগ্রামী কৃষক মো. বিল্লাল খান বলেন, যেসব অনাবাদি-পতিত জমিতে কেউ কোন দিন বাগান করার ও ফসল ফলানোর সাহস পায়নি। আমি সেসব পাঁচ বিঘা জমি খুঁজে বের করে তা লিজ নিয়ে আম-লিচু ও পেয়ারার কয়েকটি বাগান করেছি। সেই বাগানগুলোর ভেতরে ৫-৬ বছর ধরে শাক-সবজি, ডাটা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, মুলা, পেঁয়াজ-রসুন, গম ও সরিষার চাষ করছি। কৃষকের অফিসের পরামর্শ নিয়ে আমি এসব ফল ও ফসলের জমিতে সার-ওষুধ দিচ্ছি। আল্লাহর রহমতে ফল ও ফসলের ভাল ফলন পেয়েছি। এতে খরচ বাদে প্রতিবছর ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হয় আমার।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাস বলেন, উদ্যোক্তা বিল্লাল খানকে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি একজন দক্ষ সফল কৃষক। তার প্রতিটি ফল ও ফসলের বাম্পার ফলন হয়। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে অনবাদি জমি চাষের আওতায় আনার জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকে ফল বাগানে সাথি ফসল হিসেবে সরিষা, মসুর, হলুদ, শাক-সবজি ইত্যাদি চাষ করছেন। এর ফলে শস্য নিবড়তা ও প্রতি একক জমিতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সালথায় এবার ১১ হেক্টর অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৩ফেব্রুয়ারি/ এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বাংলাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :