‘বাস্তবজীবনে সভ্য নাগরিক হতে পারলে অনলাইনেও তার প্রভাব পড়বে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ২১:০৩ | প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল ২০২৩, ১৬:২২

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাইবারজগতের সবখানে দায়িত্বশীল আচরণ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে বাস্তবজীবনে আমরা কতোটা দায়িত্বশীল। বাস্তবজীবনে ভদ্র ও সভ্য নাগরিক হতে পারলে সেই একই প্রভাব অনলাইনেও পড়বে।’

সোমবার রাজধানীর বারিধারায় অ্যাস্কট দ্য রেসিডেন্স ভবনে ‘অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ: অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড প্রটেকশন অব ডিজিটাল সিটিজেনশিপ অ্যান্ড রাইটস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে, ডিনেট এবং ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডমের যৌথ আয়োজনে ‘ফস্টার রেসপনসিবল ডিজিটাল সিটিজেনশিপ টু প্রমোট ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ইন বাংলাদেশ’(এফআরডিসি) প্রকল্পের অধীনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডমের (এফএনএফ) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নাজমুল হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান, সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তায়েফ হোসেন, ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারসের সমন্বয়ক সাইদ আহমেদ, এফএনএফের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাইরা নিজাম, এফআরডিসির প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং ডিনেটের যুগ্ম পরিচালক আসিফ আহমেদ তন্ময়, আইন ও সালিস কেন্দ্রের কর্মসূচি সমন্বয়ক ইসরাত জে সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ সুশীল সমাজের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সচেতনতা, ইন্টারনেটে সুরক্ষা, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে স্বাধীন মতপ্রকাশ, ডিজিটাল আইন, ডিজিটাল অপরাধ, অনলাইনে ব্যক্তি পরিচয়, মিথ্যাচার ও ভুল খবর প্রচার ইত্যাদি সংক্রান্ত সচেতনতা, ডিজিটাল দুনিয়ায় তাদের মুক্ত ও নিরাপদ বিচরণ কীভাবে নিশ্চিত করতে পারবে- এ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয় কর্মশালায়। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা। তাদের কথায় নানা কার্যকর ও বাস্তবমুখী পরামর্শ উঠে আসে।

কর্মশালাতে এই প্রকল্পের অধীনে তৈরি করা অ্যাডভোকেসি ব্রিফটি সবার সামনে তুলে ধরেন ইন্ডিপেনডেন্ট কনসাল্টেন্ট মো. মোজাহিদুল ইসলাম। পরবর্তীতে তিনি এই ব্রিফটিতে উল্লেখ করা বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে উপস্থিত সবার সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রাঞ্জল মতবিনিময় সেশন পরিচালনা করেন। দেশের অনলাইন দুনিয়াকে তরুণ নাগরিকদের জন্য আরও সহায়তামূলক করে তোলার জন্য করণীয় বিভিন্ন পরামর্শ এই আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসে।

মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হতে সহায়তা করা এবং তাদের মাঝে গঠনমূলকভাবে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তায়েফ হোসেন বলেন, ‘অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কথা বলছি। তবে এর পাশাপাশি অফলাইনের তথা বাস্তবজীবনের সচেতনতায়ও নজর দিতে হবে। অফলাইনে ভদ্র ও সভ্য নাগরিক না হলে অনলাইনে তার প্রভাব পড়বেই। আমরা অফলাইন জগতকে এত বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি যে কোথাও খেতে বসলে খাবারের স্বাদ উপভোগ না করে তার ছবি তুলে আপলোড করায় ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তবে সবকিছু সচেতনতা দিয়েও হয় না, আইনের শাসনও দরকার হয়।’

নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন কোন বিষয়গুলোর মধ্যে ঘাটতি আছে, আইনটি বাস্তবায়নে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হতে হচ্ছে এবং সমাধানগুলো কী হতে পারে, সেটি অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি আমরা।’

নায়রা নিজাম বলেন, ‘কীভাবে অনলাইন প্লাটফর্মে মতপ্রকাশে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দায়িত্বশীল হতে হয়, সে বিষয়ে আমরা পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’

আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, ‘কেউ অনলাইনে কোনোভাবে হয়রানির শিকার বা ভুক্তভোগী হলে কীভাবে সহায়তা নিতে পারে সে বিষয়ে দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে তরুণদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করছি এই কর্মসূচির মাধ্যমে।’

কর্মশালায় ডিনেটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তরুণ-তরুণীদের ডিজিটাল দুনিয়ায় অধিকার চর্চার সুযোগ করে দিতে ও দেশ গড়ার কাজে অনলাইন দুনিয়াকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা করে দিতে সমাজের সব স্তর থেকে কাজ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী হলে তা মতামত প্রকাশে আরও সহজতর হবে। তবেই কেবল আমরা এই ডিজিটাল যুগে আমাদের দেশের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যাবে।

ডিনেটের এফআরডিসি প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ফ্রেডরিক নওম্যান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম (এফএনএফ বাংলাদেশ) সহ-অর্থায়ন করছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো তরুণদের মাঝে ডিজিটাল দুনিয়ায় ইতিবাচক আচরণের সংস্কৃতিকে প্রচার করে এবং অনলাইনে স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদে নিজেদের প্রকাশ করতে উৎসাহিত করা।

প্রকল্পের অধীনে, ডিনেট পাঁচটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে সংযুক্ত করে ঢাকা ও রাজশাহীতে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। এই কর্মশালার আলোচিত অ্যাডভোকেসি ব্রিফটি প্রকল্পের ওয়েবসাইট (digitalcitizenbd.com) থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

(ঢাকাটাইমস/১০এপ্রিল/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজধানী এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :