নওগাঁয় সুবাস ছড়াচ্ছে আমের মুকুল

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই (নওগাঁ)
 | প্রকাশিত : ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৩:৪১

আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে উত্তর জনপদের জেলা নওগাঁ। জেলার আত্রাই উপজেলায় সুবাস ছড়াতে শুরু করেছে আমের মুকুল। সেই সুমিষ্ট সুবাস মাতিয়ে তুলছে সকলকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌমাছির গুঞ্জন। মধু আহরণে ছুটে আসছে মৌমাছির গুঞ্জনে আলাদা এক আবহ তৈরি হয়েছে গ্রামের আম বাগানগুলোতে।

উপজেলার প্রতিটি এলাকা জুড়ে পাওয়া যাচ্ছে আম্র মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে প্রতিটি আম গাছ।

মুকুলে ভরা আম বাগানগুলো যেন নতুন সাজে সেজেছে।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ গাছেই মুকুল এসেছে। বাগান মালিক, কৃষিবিদ ও আমচাষিরা জানান, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে।

এ আশায় আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগান পরিচর্যায় পার করছেন ব্যস্ত সময়। অবশ্য গাছে মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করে আসছেন তারা। যাতে করে গাছে মুকুল বা গুটি বাঁধার সময় কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

এ উপজেলা ফজলি, খিড়সা, মোহনা, রাজভোগ, রূপালী ও গোপালভোগসহ অন্যান্য জাতের আম চাষের উপযুক্ত হওয়ায় চাষিরা নিজ উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চারা সংগ্রহ করে আমের বাগান তৈরি করলেও বর্তমানে তারা নিজেরাই চারা উৎপাদন করে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুফলও পেয়েছেন অনেকে।

আম চাষে সফল কৃষক ভবানীপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম জানান, পুরোপুরিভাবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই সকল গাছেই মুকুল আসবে। আমি গত বছর আম বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেছি।

আশরাফুল ইসলামের মতো ভবানীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিক, আব্দুর রাজ্জাক, আনছার আলী, আনিছসহ অনেকেই আমের বাগান তৈরি করেছেন। তারা জানান, ‘ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছি।’

সফলা আসায় চাষিরা আম চাষে উৎসাহিত হয়ে নিজ নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন বাগান তৈরি করছেন। ধীরে ধীরে উপজেলা জুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে নতুন নতুন আমের বাগান। এখানকার উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও অনেক।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় জানান, আত্রাই উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়ার আশা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি।

তবে ছাত্রাক জনিত রোগেও আমের মুকুল, ফুল ও গুটি আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য আম চাষীদের আম গাছে মুকুল আসার আগে এবং আমের গুটি হওয়ার পর নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে আমসহ অন্যান্য ফল চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।

(ঢাকাটাইমস/০৩মার্চ/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :