সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের কর্মসূচি ঘোষণা

​​​​​​​ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মে ২০২৪, ২১:৫৮

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত নতুন স্কিমকে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এই দাবি না মানলে আগামী ২৮ মে থেকে ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে কর্মবিরতিতে যাওয়াসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বজনীন পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য সুপারগ্রেড কার্যকর এবং স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির মহাসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া।

এক লিখিত বক্তব্যে প্রফেসর নিজামুল হক বলেন, ‘আগামী ২৫ মে’র মধ্যে শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ২৬ মে সকাল ১১টায় সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা একযোগে একটি মানববন্ধন করবেন এবং ২৮ মে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাবেন শিক্ষকরা। এরপরও যদি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় তবে আগামী ৪ জুন অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং তৎপরবর্তীকালে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া। তবে পরীক্ষাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

গত বছরের আগস্টে দেশে চালু হয় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা। এর আওতায় গত ২০ মার্চ প্রত্যয় নামের নতুন স্কিম সংযুক্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাঝে। শিক্ষকরা আশঙ্কা করছেন এতে ১ জুলাই থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করা শিক্ষকরা বিদ্যমান এককালীন পেনশন সুবিধা পাবেন না। নতুন সংযোজিত এই স্কিম বাস্তবায়নের ফলে নানান সমস্যা দেখা দিবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সদস্যরা।

অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া বলেন, ‘নতুন সংযোজিত এই স্কিমে ১ জুলাই ও তৎপরবর্তীকালে যোগদান করা শিক্ষকগণ ও এর আগে যোগদান করাদের মাঝে দুইটি শ্রেণির জন্ম দিবে, এবং এই বিভাজন শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই ব্যবস্থা সরকারি অন্যান্য চাকরিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য তৈরি করবে, যা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থি। বর্তমান ব্যবস্থায় পেনশন বাবদ কোনো অর্থ কর্তন করা হয় না। ‘প্রত্যয় স্কিমে মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ৫০০০ টাকা (যেটি সর্বনিম্ন) হারে টাকা কর্তন করার বিধান রয়েছে। বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় এককালীন আনুতোষিক প্রাপ্য হন। ‘প্রত্যয় স্কিমে আনুতোষিক শূন্য। বিদ্যমান পেনশনার ও নমিনি আজীবন পেনশন প্রাপ্ত হন। ‘প্রত্যয় স্কিমে পেনশনারের মৃত্যু হলে নমিনি পেনশনারের বয়স ৭৫ বছর পূর্তি হওয়া পর্যন্ত পেনশন প্রাপ্ত হবেন।

এই অধ্যাপক বলেন,বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থায় পেনশনের ওপর বাৎসরিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় অর্জিত ছুটি নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রস্তাবিত স্কিমে সে সুবিধা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদকাল ৬৫ বছর। প্রত্যয় স্কিমে অবসরকালীন বয়স স্থির করা হয়েছে ৬০ বছর।বিদ্যমান ব্যবস্থায় পেনশনের সঙ্গে মাসিক চিকিৎসাভাতা, বছরে দুটি উৎসবভাতা ও একটি বৈশাখীভাতা প্রদান করা হয়। প্রস্তাবিত স্কিমে বিষয়টি উল্লেখ নেই।

অধ্যাপক ভূইয়া বলেন, ‘আমরা মনে করি এই পদক্ষেপ শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অসম্মান ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে কোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে তা সবার জন্য প্রযোজ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আগামী দিনে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসার আগ্রহ হারাবে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম পিছিয়ে পড়বে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্র সংকুচিত হবে। রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আখতারুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাসহ আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরা।

(ঢাকাটাইমস/২০মে/এসকে/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষা এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :