নোয়াখালী সদর হাসপাতাল: সমস্যা জর্জরিত আইসিইউ ইউনিট

নোয়াখালী প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ১৯:৫১ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০২৪, ১৬:৫৫

প্রায় ৪০ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ৩০ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট। কিন্তু চালুর পর থেকে জনবল সংকট, সেন্ট্রাল এসি জেনারেটর বিকলসহ নানা সমস্যায় ভুগছে ইউনিটটি। এতে কিছুটা থমকে গেছে এখানকার সেবা কার্যক্রম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসি-জেনারেটরের বিষয়ে গণপূর্তকে অবগত করা হয়েছে।

জানা গেছে, জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর) অঞ্চলে আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় বঞ্চিত ছিল অঞ্চলের মানুষ। রোগিদের আইসিইউ সেবার জন্য যেতে হতো ঢাকা, কুমিল্লা চট্টগ্রামে। অনেক সময় দূর পথ পাড়ি দিতে পথিমধ্যে মারা গিয়েছে অনেক রোগী।

সংকট নিরসনে ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ৩০ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের জন্য কর্মপরিকল্পনা হস্তান্তর করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ৩০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট পুরো ব্যবহার উপযোগী হলেও এখনও সেখানে নেই প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল। পাশাপাশি হাসপাতালের চতুর্থ তলায় এই ইউনিট হলেও নেই কোনো লিফট ব্যবস্থা। জনবল সংকটের মধ্যেই ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ৩০ শয্যার এই আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাস পরই (চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি) শয্যায় রোগী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও চালু হয়নি এইচডিইউসহ বাকি ২৫ শয্যার কার্যক্রম। আবার চালু হওয়া শয্যার বিপরীতেও নেই দক্ষ জনবল।

কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত আইসিইউ ইউনিটটি চালু হওয়ার কয়েকদিনের মাথায় সেন্ট্রাল এসিতে সমস্যা দেখা দেয়। বিভিন্ন যান্ত্রিক ক্রটির কারণে প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা যায়নি জেনারেটর। ফলে আইসিইউতে ভর্তিকৃত রোগী, চিকিৎসক নার্স সবাইকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এসি জেনারেটর কাজ না করায় সবশেষ গত ১০ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে আইসিইউ। ফলে রোগী ভর্তির কার্যক্রমও বন্ধ থাকে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রমের কারণে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু করা হবে ইউনিটটি।

এরই মধ্যে গত ১১ মে ভোরে হাসপাতালটির কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট থেকে একজন রোগীকে আইসিইউতে পাঠানোর পর সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রোগীর স্বজনরা তাড়াহুড়ো করে তাকে কুমিল্লা নেওয়ার চেষ্টা করলে বেগমগঞ্জ উপজেলার গাবুয়া বাজারে মারা যায় ওই রোগী।

মৃত রোগীর মেয়ে আঁখি বলেন, আমার মা আইসিইউর চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল। তাহলে কেনো সরকার এতো কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইসিইউ চালু করল।

১০ মে থেকে রোগী ভর্তি বন্ধ থাকার পর ১৫ মে দুইজন রোগী ভর্তি করার মাধ্যমে পুনরায় আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা হয়। বর্তমানে (২৩ মে) আইসিইউর ৫টি বেডে পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক মাঈন উদ্দিন।

বর্তমানে ভর্তিকৃত একাধিক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইসিইউ পুনরায় চালু হলেও সেটির এসির সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। এসিতে যে পরিমাণ কুলিং হওয়ার কথা সেটি এখনও হচ্ছে না। ফলে ভর্তিকৃত রোগিদের কষ্ট বেশি হচ্ছে।

ইউনিটের নার্সিং ইনচার্জ নূর নাহার খুশবু বলেন, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন স্থান জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রেফার্ডকৃত ৮৭ জন রোগীকে ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। যার মধ্যে ৪০ জন রোগীই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইউনিটে অন্যত্র স্থানান্তরের পর মারা গেছে। এছাড়া আইসিইউ ইউনিটটির নিরাপত্তায় নেই কোনো জনবল। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করতে হয় এখানে কর্মরতদের।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, নষ্ট হওয়া এসির বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে এবং জনবল সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসি জেনারেটরের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি। আর জনবল সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আইসিইউ ইউনিটটিতে বর্তমানে জন চিকিৎসক, ৯জন নার্স পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৬মে/প্রতিনিধি/পিএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সারাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সারাদেশ এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :