মায়ের নামে ঘুষের টাকা, শেষে নিজের পকেটে: সওজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৬
অ- অ+

প্রায় ১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপসহকারী পরিচালক মো. মোক্তার হোসেন আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। দুদক সূত্র ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে আসামিকে গ্রেপ্তার এবং সম্পদ ক্রোক ও হুলিয়া পরোয়ানা জারি করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। মামলা থেকে অব্যহৃতি দেওয়া হয়েছে এই প্রকৌশলীর স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জোবাঈদাকে।

জানা গেছে, আবু হেনা মোস্তফা কামাল একসময় সিরাজগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি পেয়ে কুষ্টিয়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হন। সর্বশেষ মোস্তফা কামাল বনানীর ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্পুভমেন্ট প্রজেক্টের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বৃহস্পতিবার দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক মো. খায়রুল হক মামলাটি দায়ের করেন। আবু হেনা বর্তমানে কুষ্টিয়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং তার স্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।

মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকাটাইমস জানতে পেরেছে, সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবু হেনার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অনুসন্ধানে দুদক তার অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়ে ২০২২ সালের ২৩ জুন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয়। তিনি একইবছরের ১৬ আগস্ট ২ কোটি ২১ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব জমা দিলেও অনুসন্ধানে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদের প্রমাণ মেলে। এতে প্রায় ৯১ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের বিষয়টি ধরা পড়ে।

এছাড়া পারিবারিক ব্যয় ও স্ত্রীর নামে দানসহ হিসাব পর্যালোচনায় দুদক প্রায় ৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পায়, যার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের বাইরে প্রায় ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন আবু হেনা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ প্রথমে মায়ের আয়কর নথিতে দেখিয়ে পরে নিজ নামে এবং শেষে স্ত্রীর নামে স্থানান্তর করে বৈধ করার চেষ্টা করেন। এ কাজে সহযোগিতার অভিযোগে ডা. জোবাঈদা শাহনূর রশীদকে প্রথম আসামি এবং মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে দ্বিতীয় আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তে দুদক ১০ কোটি ৭৬ লাখ সাড়ে ১৭ হাজার টাকা অবৈধভাবে উপার্জনের তথ্য পেয়েছে।

কমিশনের দেওয়া চার্জশিটে প্রকৌশলী মোস্তফা কামালের স্ত্রী এবং মায়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সওজের সাবেক এই কর্মকর্তার বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ঝোরপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আইয়ুব আলী।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আমি আমার মতোই থাকতে চাই
পুলিশে শূন্য পদে আগে ২৮-২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তাদের পদায়ন জরুরি
আজ কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ৬ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা