যে অভিযোগে সাবেক দুদক কমিশনার জহুরুল হককে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল কমিশন

দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগে সাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিশনার জহুরুল হককে প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তিনি স্ত্রীসহ হাজির হন।
এরপর আলাদা কক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দুদকের সাবেক এই কমিশনারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান থাকাকালে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে ব্যবহার করে তিনি বিপুল অর্থ পাচার করেছেন।
এ ছাড়া ২০২১ সালে দুদকের কমিশনার পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে নিজের নামে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে তিনি রাজউক থেকে নিজের ও স্ত্রী মাছুদা বেগমের নামে পৃথকভাবে দুটি ৫ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া ৫ কাঠার প্লটের পরিবর্তে ১০ কাঠার প্লট চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন জহুরুল হক। পরে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের ১০ নম্বর সেক্টরের ৪০২ নম্বর রোডে অবস্থিত ওই প্লট বাড়িয়ে ১০ কাঠা আয়তনের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার নামে প্লটটির রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন করা হয়।
অথচ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (অ্যালটমেন্ট অব ল্যান্ডস) রুলস, ১৯৬৯ অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রীর নামে আলাদাভাবে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই।
এ ছাড়া বড় দুটি টেলিকম অপারেটরের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা ঘুষ নেওয়া, অর্জিত অর্থ পাচার করে বিভিন্ন দেশে একাধিক বাড়ি নির্মাণসহ আরও নানা অভিযোগ রয়েছে মো. জহুরুল হকের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তাঁর স্ত্রীও অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে দুদক।
সবশেষ গত ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের টার্মিনেশন রেট ও রাজস্ব ভাগ বেআইনিভাবে কমিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে সাবেক দুদক কমিশনার জহুরুল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































